৬ লক্ষাধিক গাছের চারা জালালের নার্সারিতে, মাসিক আয় আড়াই লাখ টাকা
- Update Time : ০৭:৩৫:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মে ২০২২
- / ৩৮ Time View
রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
গাছের প্রতি অকৃত্তিম ভালবাসায় মাত্র ৪ টি ক্যাকটাস দিয়ে ছাদ বাগান করা রাজবাড়ীর জালাল শিকদার এখন সফল একজন তরুন উদ্দ্যোক্তা। নার্সারি ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় এনজিওর চাকরি ছেড়ে এখন তিনি পুরোপুরি ভাবে এটাকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন। এবং বানিজ্যিক আকারে চলছে তার নার্সারি ব্যবসা।
রোজ গার্ডেন (নার্সারি) সহ তার ৪ টি বাগানে দেশ ও বিদেশী প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফলজ, বনজ, ঔষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫ থেকে ৬ লক্ষ গাছের চারা রয়েছে। এছাড়া নার্সারিতে রয়েছে প্রায় ৩শ প্রজাতির ফুলের চারা। নার্সারি থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার গাছের চারা বিক্রি হয়। এবং মাসে সকল খরচ খরচা বাদ দিয়ে জালাল শিকদারের আয় এখন আড়াই লক্ষাধিক টাকা। তার এমন সাফল্য দেখে এখন অনেকেই ঝুকছেন নতুন নতুন বাগান ও নার্সারি তৈরিতে।
রোজ গার্ডেন নার্সারিতে বেনানা, কিউজাই, পালমাল সহ প্রায় ৫০ ধরনের আম, হরিমন ৯৯, আন্না, রেড, কাস্মেরিসহ ৫ ধরনের আপেল, আঙ্গুর, স্ট্রোবেরি, থাই সহ ৮ থেকে ৯ ধরনের পেঁয়ারা, ফল্গুনি, বল সুন্দরি, কাস্মেরি, আপেল কুল সহ ১০ ধরনের বড়ই । এবং বেদানা, নারকেল, খেজুর, আঙুর, মালটা সহ প্রায় আড়াইশ ধরনের ফলের চারা। এবং তড়িৎ চন্ডাল, রাহু চন্ডাল সহ প্রায় ২২ থেকে ২৩ প্রজাতির ঔষুধি সহ ৭ থেকে ৮ প্রজাতির বনজ গাছের চারা রয়েছে।
এছাড়া নার্সারিতে কাঠ গোলাপ, নীলকন্ঠ, গন্ধরাজ, বেলী, জুই, থাইল্যান্ড জবা, গোলাপ, এডিনিয়াম সহ প্রায় ৩ শতাধিক প্রজাতির ফুলের চারা সংগ্রহে রয়েছে।
অফিস, প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ী সাজানো এবং বাগান ও ছাদ বাগান তৈরিতে হরেক রকমের গাছের চারা কিনতে ক্রেতারা প্রতিনিয়তই ভির করছেন জেলা শহরের ভবানীপুরের রোজ গার্ডেন মিশ্র নার্সারিতে। প্রতিদিন শতশত ক্রেতা ও দর্শানার্থীর পদচারায় মুখরিত হয় নার্সারি।
এদিকে বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে ২৫ থেকে ২৬ জন শ্রমকি।
উদ্দ্যোক্তা জালাল শিকদার রাজবাড়ী জেলা শহরের ভবানীপুরের মোঃ ছবদুল শিকদারের ছেলে।
নার্সারি পরিচর্যার শ্রমিকরা বলেন, তারা ২৫/২৬ জন বাগান দেখা শুনা ও গাছের চারা রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এবং বাগানে কাজ করেই তাদের সংসার চলে। প্রতিদিন অনেক মানুষ অাসে চারা কিনতে। অাবার অনেকে দেখতে অাসে। সব ধরনের ফুল, ফল ও ঔষুধি গাছের চারা এখানে অাছে।
ক্রেতারা বলেন, রোজ গার্ডেনে সব ধরনের গাছের চারা পাওয়া যায় বলেই কিনতে অাসেন। তবে দাম একটু বেশি।
উদ্দ্যোক্তা জালাল শিকদার বলেন, তিনি ঢাকায় উদ্দিপন নামে এনজিওতে চাকরী করতেন। ছোট বয়স থেকেই তার গাছের প্রতি ছিলো অকৃত্তিম ভালবাসা। সখের বসে ২০১৩ সালে ঢাকার বাণিজ্য মেলা থেকে ৪টি ক্যাকটাস কিনে বাসার ছাদে রোপন করেন। একবছর পর সেখান থেকে ৩৫ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেন। এরপর অারও বেশি গাছের প্রতি ভালবাসা তৈরি হয়। চাকরিরত অবস্থায় ২০১৬ সালের শেষের দিকে নিজ জেলা রাজবাড়ী মিজানপুরের গঙ্গাপ্রসাদপুরে ৪ বিঘা জমিতে মালটার বাগান করেন। কিন্তু তখন মানুষের গাছের চারার প্রতি অাগ্রহ দেখে রোজ গার্ডেন (নার্সারি) সহ ৪টি বাগান করেন। তখন থেকে বাগানে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফলজ, বনজ ও ঔষুধি গাছের চারা সংগ্রহ করতে থাকেন। প্রায় দুই বছর পর ২০১৮ সালে সফলতার মুখ দেখেন। এবং রোজ গার্ডেন থেকে বাণিজ্যিক ভাবে ফুল, ফল সহ অন্যান্য গাছের চারা বিক্রি শুরু করেন। বাগান (নার্সারি) লাভজনক হওয়ায় ২০১৯ সালের শেষের দিকে এনজিওর চাকরি ছেড়ে পেশা হিসাবে বেছে নেন নার্সারি ব্যবসা। এখন ৭ একর জায়গার ওপর তার রোজ গার্ডেন মিশ্র নার্সারি। এখানে প্রায় ১৭শ সহ ৪টি বাগানে সাড়ে ৩ হাজার প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে।
তিনি বলেন, নার্সারি ব্যবসায় তিনি সফল। তার নার্সারির চারা দেশের বিভিন্নস্থানে যায়। এবং তিনি গিয়ে ছাদ বাগান করে দেন। তার সফলতা দেখে অনেক বাগান করছেন। এখন মাসে তার অায় প্রায় অাড়াই লক্ষ টাকা। এবং ২৫/২৬ জন শ্রমিকের কর্মস্থান হয়েছে তার বাগানে। প্রথমে কষ্ট হলেও কৃষি অফিসের সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছেন। ভবিষৎতে নার্সারির পরিধি অারও বাড়াবেন। এখন তার সংগ্রহে সব ধরনের ফুল, ফলের চারা রয়েছে। কাউকে অার অাগের মত ফিরে যেতে হয় না।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ বাহাউদ্দিন সেখ বলেন, নার্সারি ব্যবসা লাভজনক ব্যবসা। জেলায় ছোট বড় ৪০টি বেশি নার্সারি অাছে।পৌর এলাকায় জালালের নার্সারি সহ বানিবহ, চন্দনী, অালীপুর, খানখানাপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন বাগান ও নার্সারি তৈরি হচ্ছে। এবং স্থানীয় চাহিদা পুরন হচ্ছে। তরুন উদ্দ্যোক্তাদের মধ্যে জালাল অন্যতম। অল্প সময়ে তিনি সফল নার্সারি মালিক হয়ে উঠেছেন। তার নার্সারিতে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এবং সব ধরনের ফুল, ফল, ঔষুধি গাছের চারা তার নার্সারিতে পাওয়া যায়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি ও মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। জালালের দেখাদেখি এখন অনেকে নার্সারি ও বাগান করতে অাগ্রহি হচ্ছে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































