স্মৃতি অমলিন প্রফেসর ড. কে এম মোহসীন স্মরণে – লেখক : শিপন আলম –
- Update Time : ১১:১৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- / ৪৬ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
প্রবাহমান নদীর মতো আমাদের জীবন। একবার তার যাত্রা শুরু হলে মৃত্যু অবধি চলতে থাকে অবিরাম। অবিরাম এ পথচলায় হাজারো প্রিয়জনের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার। জড়ায় শ্রদ্ধা, প্রেম, ভালবাসার বন্ধনে। কিছু সম্পর্ক সময়ের সাথে ক্ষয়ে যায়, কিছু সম্পর্ক থাকে অবিনশ্বর। সময় আর স্থানকে অতিক্রম করে কিছু স্মৃতি থাকে চির জাগ্রত। জীবনভর থাকে সেসব স্মৃতি চির অমলিন। প্রফেসর ড. কে এম মোহসীন স্যারের সাথে কাটানো এমনই সব মুহুর্ত আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল দীপ্তিময়, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।
সময়টা ছিল ২০০৬ সাল। আমি তখন এসএসসি পরীক্ষা সমাপ্ত করে গ্রামে অবস্থান করছিলাম। স্যারের ছোট ভাই- কে এম নজীবুল্লাহ (আমার হাই স্কুল শিক্ষক) স্যারের দুই ছেলেকে আমি বাসায় পড়াতাম। নজীব স্যার তখন পরিবারসহ গ্রামে তাদের পৈত্রিক বাড়িতেই বসবাস করতেন। সকাল আটটা থেকে ছিল আমার পড়ানোর সময়। আমি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি তখন থেকেই আমি ওদের পড়াই। বলতে গেলে আমার মাধ্যমেই আমার এই প্রিয় দুই দু্ষ্ট-মিষ্ট ছাত্রের হাতেখড়ি। পড়িয়েছিলাম পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত।
একদিন সকালে পড়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দেখি ঘরের বারান্দার পাশে খানিকটা জটলা। উঠোনে ঘরের সিড়ির সম্মুখে ছিলেন নজীব স্যার আর তার মিসেস বারান্দায় ডাইনিং টেবিলে সকালের নাশতা প্রস্তুত করছেন,একপাশে ছিলেন আকরাম ভাই (বাড়ির কাজের ছেলে) এবং আরো দুই তিন জন লোক কিন্তু তাদের কাউকেই চিনতে পারলাম না। আর সবার মাঝে মধ্যমণি হয়ে যিনি সিড়িতে বসে বালতি মগ দিয়ে নিজের হাত পা ধৌত করছেন তিনিই হলেন এলাকার পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. কে এম মোহসীন স্যার। পরনে সাদা কালো চেক লুঙ্গি, গায়ে শুচি শুভ্র সাদা গেঞ্জি পরিহিত ফর্সা রঙের গোলাকৃতি মুখের শান্ত সৌম্য যে ভদ্র চেহারাটি দেখলাম তাতে পরম শ্রদ্ধায় নিজের মনও শুচি শুভ্র হয়ে উঠল। স্যারকে আমি আগে কখনো দেখলেও সেটি মনে নেই। স্যারের বাড়ি আমাদের পুরাতন বাড়ি (যেটি এখন নদীগর্ভে বিলীন) থেকে আধা কি.মি. মতো দূরে। ছোটবেলায় খুবই লাজুক প্রকৃতির স্বভাবের কারণে আর হয়তো সচেতন পরিবেশের অভাবে এতো কাছে থেকেও স্যারের সাথে আমার পরিচয় হতে বেশ সময় লেগেছিল।
নজীব স্যার আমার প্রসঙ্গে স্যারকে বললেন- ‘ওর নাম শিপন, পিয়াস নিয়াজের গৃহ শিক্ষক। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা আশা করছি ও A+ পাবে।’ আমি স্যারকে সালাম দিলে স্যার সালামের উত্তর দিয়ে বললেন-“খুবই ভাল কথা। তুমি যদি ইংরেজিতে A+ পাও তাহলে সঙ্গীতা ম্যাগাজিন প্রকাশের দিন তোমাকে ১০,০০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হবে। আর দুই জন ইংরেজিতে A+ পেলে দুইজনে ৫,০০০ টাকা করে পাবে। তুমি A+ পাবে তো?” আমি ‘আশা করি’ বললে স্যার তখন বললেন -“তবে বেশ, দেখা যাক কি হয়।” তারপর স্যার ধীর পদে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে আমিও পড়ানোর কক্ষে প্রবেশ করি। স্যারের সাথে এটাই ছিল আমার সাক্ষাতের প্রথম পর্ব।
প্রসঙ্গত বলে রাখি, সঙ্গীতা ছিল স্যারের একমাত্র কন্যা যিনি ইংরেজি বিষয়ে লেখাপড়া শেষ করে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়েই অধ্যাপনায় নিয়োজিত ছিলেন। অতঃপর সন্তান প্রসবের সময় ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অল্প বয়সেই ইহধাম ত্যাগ করেন। সঙ্গীতার স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখবার প্রয়াসে স্যার এবং সঙ্গীতা আপু’র পরিবারের উদ্যোগে ‘সঙ্গীতা’ নামে একটি বাৎসরিক সাময়িকী হাবাসপুর কে. রাজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আর সঙ্গীতা আপু যেহেতু ইংরেজি বিষয়ে অধ্যাপনা করতেন তাই হাবাসপুর কে.রাজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় প্রতি বছর ইংরেজি বিষয়ে A+ প্রাপ্তদের মোট ১০,০০০ টাকা বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
আমার মাধ্যমিক শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন মনির স্যারের সম্পাদনায় প্রকাশিত এ সাময়িকীটি হাবাসপুরের সাহিত্যধারাকে বোধ করি খরস্রোতা নদীর মতই বেগবান করেছে। সাময়িকীটিকে কেন্দ্র করে এক ধরণের নতুন সাহিত্যিক গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের মাটি, মানুষ, হাজার বছর ধরে বয়ে চলা একই জীবনধারা, চিরায়ত প্রকৃতি, নদী, সবুজ ক্ষেত, লোকজ সংস্কৃতি আর গ্রামীণ নানা অনুষঙ্গ তাদের লেখনীর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে এর মাধ্যমে। সবচেয়ে ইতিবাচক যে বিষয়টি চোখে পড়েছে সেটি হচ্ছে অনেক নবীন লেখক, পাঠক তাদের তরুণ সাহিত্যিক মনে জমে থাকা না বলা কথাগুলো প্রকাশের একটা শক্তিশালী অবলম্বন পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্যারের মন্তব্যও আমার বক্তব্যকে যুক্তিপূর্ণভাবেই সমর্থন করেছে। স্যার আমাকে বলেছেন, “সাময়িকীটির মাধ্যমে এলাকার মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ যেন কিছু লিখতে পারে, সাহিত্য যে নির্মল আনন্দ লাভের একটি অনিন্দ্য সুন্দর ক্ষেত্র সেটি যেন তারা আবিষ্কার করতে পারে, আর আমার অকালপ্রয়াত মেয়েটিও যেন লেখনীর মাধ্যমে বেঁচে থাকতে পারে সে উদ্দেশ্যেই আমি সাময়িকীটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি।”
সাময়িকীটি প্রকাশের তের বছর অতিবাহিত হবার পর এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে স্যার সাময়িকীটি প্রকাশের কাজে ব্রতী হয়েছিলেন তা অনেকাংশেই পূর্ণ হয়েছে।
২২ শে জুন, ২০০৬ সালে আমার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। অন্য সব বিষয়ে A+ পেলেও ইংরেজি বিষয়ে A গ্রেড পাই। ফলে সঙ্গীতা সাময়িকীটির পক্ষ থেকে বৃত্তির জন্য প্রদত্ত শর্ত অনুযায়ী বৃত্তি পেতে ব্যর্থ হই। ফলাফল প্রকাশের পর বকশীপুরের রমজান আলী মণ্ডল (সঙ্গীতায় প্রকাশিত ‘কাকা- আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব’ প্রবন্ধে তাকে নিয়ে বিস্তারিত লিখেছি।) কাকার সহযোগিতায় আমি ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত এফএম ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ভর্তি হই। স্যার তখন ইউজিসি’র সম্মানিত সদস্য। একদিন কাকার সাথেই ঢাকার আগারগাঁও- এ অবস্থিত ইউজিসি ভবনে স্যারের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে যাই। আমি ঢাকায় ভর্তি হয়েছি জেনে স্যার বললেন – “আমরা গ্রামে কলেজ (ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজ) প্রতিষ্ঠা করলাম যেন গ্রামের ছেলে মেয়েরা নিজ বাড়িতে ডাল ভাত খেয়ে লেখাপড়া করতে পারে। গ্রামের কলেজেও তো কিছু ভাল ছেলে মেয়ের দরকার আছে। আর ঢাকায় তো অনেক খরচ।” খরচের প্রসঙ্গ আসতেই কাকা জানালেন ওর কলেজের পক্ষ থেকেই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। স্যার তখন বললেন – “তাহলে ভর্তি হয়ে যাও। যেকোন প্রয়োজনে এসো।” তারপর দুই বন্ধু মিলে বেশ খানিকটা সময় নানা বিষয়ে আড্ডা দিলেন। আড্ডার এক ফাঁকে কাকাকে উদ্দেশ্য করে স্যারকে বলতে শুনলাম – ‘তোমার স্বাস্থ্য তো আগের চেয়েও বেড়ে গেছে। খাওয়া দাওয়া একটু কমাও না ক্যান।’ কাকাও ঝটপট উত্তর দিলেন- ‘আর বাঁচবোই কতদিন। যে কয়দিন আছি খাই।’ প্রসঙ্গত রমজান কাকা খুবই মোটা মানুষ ছিলেন। তাই স্যার তার স্বাস্থ্য নিয়ে কিঞ্চিত রসিকতা করেছিলেন মাত্র। ইউজিসির রেস্টুরেন্ট থেকেই আমরা দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। আসার সময় স্যারের অফিসে কর্মরত এলাকার সাচ্চু ভাই আমাকে একটি কলম আর একটি প্যাড উপহার দিয়েছিলেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে স্যারের সাথে আমার আর তেমন যোগাযোগ হয় নি। লাজুক প্রকৃতির স্বভাব আর এতো বড় গুণী মানুষের সাথে কিভাবে কথা বলবো- এই মানসিক দীনতা থেকেই স্যারের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। তবে গ্রামে প্রতি ঈদুল আযহার পরের দিন হাবাসপুর-বাহাদুরপুর প্রাক্তন ছাত্র সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী ও ছাত্র বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে হয়তো। মাঝে একবার স্যারের অফিসে গিয়েছিলাম একটু দেখা করতে। তবে যেতে বিলম্ব হওয়ায় স্যার ছিলেন না। আরেকবার স্যারের বাসা গুলশানে যেতে গিয়ে ভুল করে গুলিস্তানে চলে গিয়েছিলাম। ভুল শুধরে যেতে যেতে বিকেল হয়ে গিয়েছিল। তাই দেখা হয় নি সেদিনও।
এইচএসসি-তে আমি গোল্ডেন A+ পাই। স্যারকে আমি সরাসরি আমার ফলাফলের খবর জানিয়েছিলাম কিনা স্মৃতি হাতড়িয়ে এখন আর তা মনে করতে পারি না।
ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। এরপর থেকেই স্যারের সাথে আমার মোবাইল ফোনে সরাসরি কথা বলা শুরু হয়। কলেজ থেকে বের হওয়ার পরই আমি খুব আর্থিক সঙ্কটে পড়ি। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পরও এ ধারা অব্যাহত ছিলো। আমি তখনো হলে উঠি নি। কাজীপাড়ায় একটা ব্যাচেলর মেসে থাকি। আর্থিক সঙ্কটের কারণে বই কিনতে কয়েকদিন দেরি হচ্ছিল। বিভাগের একজন স্যার আমাদের সবাইকে বই কিনতে তাগিদ দিচ্ছিলেন। নইলে ক্লাসে আসতে বারণ করেছিলেন। আমি স্যারকে বিষয়টি অবগত করলে স্যার খুব বিরক্তি নিয়ে বলেন- ‘বই ছাড়া ক্লাসে যাওয়া যাবে না এমন কথা তো কোনদিন শুনি নি। এটা আবার কোন কাল শুরু হলো।’ ক্লাসের স্যার হয়তো আমাদের সবাইকে লেখাপড়ায় আরো বেশি মনোযোগী হওয়ার জন্য, সবাইকে বইমুখী করার জন্য কথাটি বলেছিলেন কিন্তু আমার সরল মন সেটি ধরতে পারে নি তখন। স্যারের এমন মন্তব্যের পর আমার নিজের কাছেই সেদিন খারাপ লেগেছিল এই ভেবে যে আমি না জেনে, না বুঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সম্পর্কে এমন মন্তব্য করলাম যিনি কিনা আমার নিজেরই শিক্ষক।
মেসে দুই এক মাস থাকার পর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি হলে উঠে পড়ি। আমার হল ছিল মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল। হলে উঠার কিছুদিন পর ‘ঘ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়। আমার বাল্যবন্ধু শাহিনুর রহমান এই ইউনিটের ফলাফলে ওয়েটিং লিস্টে ছিল। সে আমাকে তাগাদা দিচ্ছিল স্যারের সাথে দেখা করে এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য। আমি স্যারের সাথে মোবাইলে কথা বলে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্যার আমাকে সময় দেন।
সময়টা তখন হয়তো মার্চ কি এপ্রিল মাস হবে। প্রচণ্ড গরম ঢাকায়। স্যার তখন গুলশান-০১ এর লেকপাড়ের বাসায় থাকতেন। রাত ৮.০০-৯.০০ টার দিকে আমরা স্যারের বাসায় পৌছাই। কলিং বেল চেপে ভেতরে গিয়ে ড্রয়িং রুমে বসি। কাজের মেয়ে আমাদের নাশতা দেয়। কিছুক্ষণ পরে স্যার আসলে আমরা দুজনই দাঁড়িয়ে স্যারকে সালাম করি। আমাদের বসতে বলে স্যারও আমাদের সামনের সোফায় বসেন। স্যার আমাকে তখনও ঠিকমতো চিনতেন না। তাই আলাপের এক ফাঁকে তিনি জানতে চান- ‘তোমাদের মধ্যে শিপন কে?’ আমি বিনীতভাবে ‘স্যার, আমি’ বললে তিনি বলেন, ‘তুমি তো জিয়া হলে উঠেছ। কষ্ট করে এক বছর গণরুমে থাকতে হবে। এরপরে সিট পাবে।’ আমরা নাশতা খেতে ইতস্ততবোধ করছি দেখে তিনি আমাদের নাশতা খেতে বলেন এবং আমাদের সাথে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানিতে প্রস্ততকৃত এক গ্লাস শরবত খেয়ে আমাদের দুজনের ক্লান্তিই অনেকটা কেটে গেল। শরবতের সাথে আর কি নাশতা ছিল তা আর মনে নেই। নাশতা শেষে শাহিনুরের ‘ঘ’ ইউনিটে ওয়েটিং লিস্টের বিষয়টি আসলে স্যার সরাসরিই বলেন- ‘এখন আর তদবিরে কাজ হয় না। তুমি আরো যে বিশ্ববিদ্যালয় আছে সেগুলোতে চেষ্টা করো।’ স্যারের নিকট থেকে এমন মন্তব্য শোনার পরে আমরা আর এ বিষয়ে কথা বলি নি। গ্রাম ও অন্যান্য বিষয়ে আরো কিছু সময় আলাপের পর আমরা স্যারকে সালাম করে চলে আসি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও স্যারের সাথে খুব একটা যোগাযোগ হয় নি আর। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করি স্যার তখন অবসরে। তবে মাঝে মাঝে কাজ থাকলে আসতেন তিনি।
প্রথম বর্ষে থাকতে হাবাসপুর বাহাদুরপুর প্রাক্তন ছাত্র সমিতির উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজনে যোগদান করেছিলাম একবার। ড. এম এ মাজেদ স্যারের মাধ্যমে এ বনভোজনে যোগদান আমার। ঐ বনভোজনের একটি ঘটনা আমাকে এখনো আনন্দ দেয়। বনভোজনের অনেকগুলো ইভেন্টের মধ্যে একটি ছিলো বয়স্কদের জন্য হাঁটা প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় মোহসীন স্যার, মাজেদ স্যার, সানাউল্লাহ স্যারসহ ষাটোর্ধ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন। আবু হেনা স্যার সেই বনভোজনে ছিলেন কিনা মনে নেই। সবার মধ্যে মাজেদ স্যারের বয়স ছিল কম আর তিনি অনেক লম্বাও বটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু ফিনিশিং লাইনে পৌছানোর আগেই ঘটে অন্য রকম ঘটনা যা ছিল আমাদের চিন্তার বাইরে। মাজেদ স্যার মোহসীন স্যারকে ডিঙিয়ে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করবেন এমন সময় মোহসীন স্যার পেছন থেকে মাজেদ স্যারকে টেনে ধরে সামনে এগিয়ে আসেন। মাজেদ স্যারও কোন প্রতিবাদ না করে মোহসীন স্যারের সামনে যাওয়ার পথ করে দিয়ে নিজে পিছিয়ে যান। ফলে মোহসীন স্যার হাসতে হাসতে সামনে চলে আসেন এবং প্রতিযোগিতায় জয়ী হোন। আর মাজেদ স্যার হেরে গিয়েও বড়দের সম্মান দেখিয়ে জিতে যান। এ ঘটনা আমাকে নতুন একটি শিক্ষা দেয়- মাজেদ স্যাররা তাদের বড়দের কতো গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন, সম্মান করেন। বড়দের হাসির জন্য তাঁরা খেলার মাঠেও হারতে প্রস্তুত থাকেন সব সময়।
(প্রথম অংশ)
লেখক- শিপন আলম, প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগরাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































