শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত, রাজবাড়ীর যৌন হয়রানীকারী শিক্ষক হাবিবকে নিয়ে রশিটানাটানি –
- Update Time : ০৯:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮
- / ৪৯ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
চিরকুমার শিক্ষক নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা হাবিব তার কর্মস্থালে চলা পরীক্ষা শেষে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রী (১২) কে শাররীক ভাবে যৌনহয়রানী করে। ওই ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে নেয়া হচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। যদিও বিয়ষটি “উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভা”য় রেজুলেশন হিসেবে লিপিব্ধ করা হয়েছে, তার পরও চলছে রশিটানাটানি।
সদর উপজেলার কল্যানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, গত ৩০ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর পরিক্ষণ বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ধর্ম বিষয়ের পরীক্ষা চলছিলো। পরীক্ষা শেষে শিক্ষক হাবিবুর রহমান হাবিব ওই ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন হয়রানী করেন। বিষয়টি যেনে উপজেলার বেশ কয়েক জন নারী শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়ীতে যান এবং ছাত্রী ও তার মায়ের সাথে কথা বলেন। সে সময় ওই ছাত্রীর মা শিক্ষক হাবিবের বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন এবং ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে পাঠানোও বন্ধ করে দেন। এতে করে নারী শিক্ষকরা ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। গত ১০ জুন তারা পিটিআই-এর মধ্যেই নারী শিক্ষকরা হাবিবকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামান এবং শাররীক ভাবে তাকে লঞ্চিত করেন। যার প্রেক্ষিতে পিটিআই কর্তৃপক্ষ শিক্ষক হাবিবকে পরিক্ষণ বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পত্র প্রদান করে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ৯ নভেম্বর শিক্ষক হাবিব রাজবাড়ী উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের সূর্য্যনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া অপর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করে।
সংশ্লিষ্ঠরা জানান, গত ১৯ জুন রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে “উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভা” অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ এমএ খালেক সভাপতিত্বে করেন। সভায় এ কমিটির উপদেষ্টা শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি চিরকুমার হাবিবুর রহমান মোল্লা হাবিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই সাথে ওই সভায় উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা বলেন, শিক্ষকরা মারুষ গড়ার কারিগর। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের সন্তানতুল্য। অথচ শিক্ষক হাবিব বারবার তার পশুবৃত্তি চরিতার্থ করে যাচ্ছে এবং জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি পদে থাকায় সে বিভিন্ন কুকর্ম করেও রেহাই যেয়ে যাচ্ছে। এবার তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সে সময় এ সভার সভাপতি সকলের সাথে একমত পোষন করে শিক্ষক হাবিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে কৈফিয়ত তলবের মাধ্যমে প্রশাসনিক বদলীসহ সাময়িক বরখাস্ত করার সর্বসম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নৃপেন্দ্রনাথ সরকার জানান, শিক্ষক হাবিবের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় নেয়া সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি মৌখিক ভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমিকে জানিয়েছেন। তবে ওই সভার সিদ্ধান্ত নেয়া রেজুলেশনের কপি তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে এখনো প্রদান করেননি। কেন গত ১৪ দিনে রেজুলেশন কপি প্রদান করা হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই/এক দিনের মধেই ওই কপি জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
অপরদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে ইয়াসমিন করিমি জানান, শিক্ষক হাবিবের বিরুদ্ধে সরাসরি কোন ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। এখন সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পরবেন, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) -এর সুপারিনটেনডেন্ট। আর সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না তা তিনি জানেন না। তবে ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। ওই সব পত্রিকার সংবাদের আলোকে গত ২৭ জুন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নৃপেন্দ্রনাথ সরকারকে সূর্য্যনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর সুপারিনটেনডেন্টকে পিটিআই-এর পরিক্ষণ বিদ্যালয়ের ঘটনা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার অনুরোধ করেছেন।
পিটিআই-এর পরিক্ষণ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরা আক্তার বিথি জানান, ঘটনার পর টানা ৭দিন পঞ্চম শ্রেণীর ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়। যে কারণে তারা ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করেন। সে সময় ঘটনার শিকার ছাত্রীর বাবা ও মা পিটিআই-এর তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্টসহ তাদের কাছে এসে অপর সহকারী শিক্ষক হাবিবের বিরুদ্ধে তার মেয়ের সাথে করা যৌনহয়রানীর বিচার দাবী করেন। যে কারণে পিটিআই-এর তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট শিক্ষক হাবিবকে পরিক্ষণ বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পত্র প্রদান করেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, শিক্ষক হাবিবের কারণে তারা আজ বিব্রত। সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের প্রতিবাজে মন্তব্য অব্যাহত রেখেছে। অথচ পিটিআই-এর সুপারিনটেনডেন্ট এবং সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনার দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও নিচ্ছে না কোন ব্যবস্থা। ঈদের ছুটির পর গত ১৯ জুন বিদ্যালয় খোলে। অথচ হাবিব যোগদান না করে তার ভাইকে দিয়ে একটা প্রেসকিপশন ও ১৫ দিনের জন্য একটা মেডিকেল ছুটির আবেদনপত্র পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পিটিআই-এর সুপারিনটেনডেন্ট নাছির উদ্দিন সার্টিফিকেট ছাড়া ওই ছুটি মঞ্জুরও করেছেন। এ ১৫ দিনের ছুটি শেষ হয়েছে গত বুধবার। হাবিব নিয়মকে থোড়ায় কেয়ার করে আর কোন আবেদন ছাড়াই গত দুই দিন রয়েছে বিদ্যালয়ের বাইরে। পিটিআই-এর সুপারিনটেনডেন্ট নিচ্ছেনা কোন ব্যবস্থা। তারা আরো বলেন, হাবিব এ বিদ্যালয়ে যোগদান করলে ওই শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে নির্যাতনের শিকার হবে। যা কোন অভিভাবকের কাছেই কাম্য নয়।
শিক্ষক হাবিব কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে মেডিকেল ছুটি মঞ্জুর করার কথা অস্বীকার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এর সুপারিনটেনডেন্ট নাছির উদ্দিন বলেন, হাবিব যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তার নিজেরই উচিৎ এ পরিক্ষণ বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়া। হাবিবের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠিয়েছেন তা দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রদান করা হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































