রাজবাড়ীর মৎস্য কর্মকর্তারা চেনেন না প্রকৃত জেলেদের –
- Update Time : ০৯:৪৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অক্টোবর ২০২১
- / ৭৯ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীর রাজবাড়ী জেলার ৮৫ কিলো মিটার অংশ মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। আর ওই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে এ নদীতে মাছ শিকার করা প্রকৃত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণী কার্যক্রম শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। তবে যাদের মাঝে এই খাদ্য সহায়তা তুলে দেয়া হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই মূল পেশা জেলা নয়। ফলে সরকারের এ কর্মসূচীর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা।
জানাগেছে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে রাজবাড়ীর পদ্মায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা মৎস্য অধিদপ্তর। যা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেই সাথে জেলেদের নদীতে জাল ফেলা বন্ধ রাখতে খাদ্যা সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। এবার জেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের ৪ হাজার ৭শত জন নিবন্ধিত জেলেকে ২০ কেজি করে চাল প্রদান করা হচ্ছে। মঙ্গলবারও জেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের ওই চাল প্রদান করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের নিমাই হালদারসহ অন্যান্যরা জানিয়েছেন, মৎস্য অফিসের লোকজন প্রকৃত জেলেদেরই চেনে না। যাদেরকে চাল প্রদান করা হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই জেলে না। অনেকাংশেই প্রকৃত জেলেরা পাচ্ছেন না সরকারের এই খাদ্য সহায়তা।
মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের ৪৭১ জন নিবন্ধিত কার্ড ধারী জেলেকে এবার চাল দেয়া হচ্ছে। এই নিবন্ধন কার্যক্রম প্রায় ১০ বছর আগে করা হয়েছে। যারা নিবন্ধনের আওতায় চাল পাচ্ছেন তাদের অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। অনেকে আবার সৌখিন ম্যৎস্য শিকারী, কেউ কেউ আদীবাসি, কেউ কখনো জেলে পেশার সাথে সম্পৃক্তই না। যে কারণে তারা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বলেছেন তালিকা যাচাই-বাইছাই করে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধন করে খাদ্য সহায়তা প্রদানের। কিন্তু তাদের কর্ণপাত করা হয়নি।
বরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সালাম জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের ২৫৩ জন নিবন্ধিত জেলে পাচ্ছেন এবার খাদ্য সহায়তা। ইতোপূর্বেও এসব নিবন্ধিতদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। অথচ প্রকৃত অনেক জেলে রয়েছেন যারা নিবন্ধিত হতে পারেন নি। যাদের চেনেনই না মৎস্য অধিদপ্তরের লোকজন। যে কারণে তারা প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধন এবং অপেশাদার জেলেদের বাদ দেবার জন্য সংশ্লিষ্ঠদের অনুরোধ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য অফিসার রোকুনুজ্জামান জানিয়েছেন, ২০১১/২০১২ সালে রাজবাড়ীর জেলেদের নিবন্ধন এবং তাদের জেলে কার্ড প্রদান করা হয়। এরপর তালিকা আর নবায়ন করা হয়নি। যে কারণে তারা নতুন করে তালিকা হালনাগাদ করার কথা বলেছেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































