রাজবাড়ীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত প্রসুতিরা
- Update Time : ০৬:২১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২
- / ৬২ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
২০২১ সালের ৮ মার্চ থেকে রাজবাড়ী জেলা শহরের ৩নং বেড়াডাঙ্গা সড়কে অবস্থিত সরকারী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বন্ধ হয়ে গেছে প্রসুতি মায়ের সিজারিয়ান কার্যক্রম। প্রায় এক বছর হলেও তা সচল করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে রাজবাড়ী জেলার হাজারো প্রসুতি মা সরকারী এ সেবা কার্যক্রম থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। সেই সাথে কমে গেছে স্বাভাবিক (নরমাল) সন্তান প্রসবও। কর্তৃপক্ষ বলছে একটি মাত্র সার্জনের পদ এখানে থাকলেও তা দিনের পর দির শূন্য থাকায় মায়েরা এই সমস্যার সম্মুখিন হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে সরজমিনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, রোগিদের তেমন কোন ভীর নেই। সে সময় ওই চত্বরে অবস্থানরত এক রোগীর স্বজন আমিনুল ইসলাম বলেন, তার ভাইয়ের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। তাকে কয়েক দিনের মধ্যেই সিজার করাতে হবে। এখানে সিজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে কিনা তা জানতে এসেছিলেন। এখান থেকে বলা হয়েছে বর্তমানে সিজার বন্ধ।
ওই প্রসুতির ছোট ভাই আবুল কালাম বলেন, তার ভগ্নিপতি একজন দিন মজুর। টাকা পয়সা নেই। তারা তারা এসেছিলেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। অথচ এসে দেখেন এটা চালু থাকলেও সিজার করা হচ্ছে না। এখন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন গতি নেই। আর ক্লিনিকে নিয়ে গেলেতো কম করে ২০ হাজার টাকা উপরে ব্যয় হবে। এতো টাকা তারা পাবেন কই?।
সেখানে উপস্থিত আরেক রোগীর স্বজন লিপি খাতুন বলেন, চিকিৎসক না থাকলেও এখানে নরমাল ডেলিভারি করা হচ্ছে। তার বোনকে আনা হয়েছে। আসা করছেন ভালো ভাবে নরমাল ডেলিভারি হবে। তবে ভয় হলো নরমাল ডেলিভারিব সময় রোগির অন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে ওই চিকিৎসা সেবা দেবার মত তেমন কোন চিকিৎসক এখানে নেই। তার প্রশ্ন, একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠানের এ করুন দশা কেন?, কেন একবছর ধরে একজন সার্জন দেয়া হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে গাইনী সার্জন প্রদান করা হোক।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অবস্থানরত একাধিক কর্মচারী নামপ্রকাশ না করা সর্তে বলেন, জেলা শহরে বিনা মূল্যে প্রসুতি সিজারের প্রধান সরকারী প্রতিষ্ঠান এটি। অথচ এই প্রতিষ্ঠানে কোন গাইনী কনসালটেন্ট নেই প্রায় এক বছর। সর্বশেষ ডাঃ গোলাপ চন্দ্র সুত্রধর নামক সার্জন এই প্রতিষ্ঠান থেকে বদলী হয়ে যাবার পর থেকে তারা বেকায়দায় রয়েছেন। আগে প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৪০ জন প্রসুতিকে সিজার করা হতো এবং নরমাল ডেলিভারি হতো ৫০ থেকে ৬০ জন। প্রতিদিন এখানে ১৫০ থেকে ২০০ জন প্রসুতি মা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিতে আসতেন। বর্তমানে কোন রকমে চলছে এই প্রতিষ্ঠান। দিনে ২০ থেকে ২৫ জনও প্রসুতি আসে না। মাসে মাত্র ৭ থেকে ৮টি নরমাল ডেলিভারি করা সম্ভব হচ্ছে। এখানে শুধুমাত্র একজন অজ্ঞান ডাক্তার রয়েছেন।
জানাগেছে, জেলা শহরের এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মত খারাপ অবস্থা জেলার পাংশা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেরও সেখানে কোন চিকিৎসকই নেই। বালিয়াকান্দিতে রয়েছেন মাত্র একজন। তিনিও আগামী ডিসেম্বর মাসে অবসরে চলে যাবেন। আর গোয়ালন্দ ও কালুখালীতে রয়েছেন মাত্র একজন করে চিকিৎসক।
এ প্রসঙ্গে জেলা পরিবাল পরিকল্পনা অধিপ্তরের উপ পরিচালক গোলাম মোঃ আজম বলেন, বিষয়টা তারা লিখিত ভাবে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করেছেন। তবে এখনো কোন সার্জনকে এখানে বদলী করা হয়নি। সার্জন আসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































