রাজবাড়ীর অ্যাক্রোবেটিক সেন্টারটির জীর্ণদশা দীর্ঘদিন সংস্কারহীন –
- Update Time : ০৮:২০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ মে ২০১৮
- / ৪৮ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
যাদের নয়নাভিরাম অনিন্দ্য সুন্দর ক্রীড়াশৈলী মানুষকে মুগ্ধ করে। দেয় আনন্দ। প্রাণভরে উপভোগ করে ছন্দময় সব প্রদর্শনী। কখনও বাঁশের উঁচুতে ওঠে, কখনও রিং নিয়ে আবার কখনও ড্রাম নিয়ে প্রদর্শনী সত্যিকার অর্থেই চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মুগ্ধ হয়েছেন তাদের এ ক্রীড়াশৈলীতে। অ্যাক্রোবেটিক শিল্পীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি রাজবাড়ীতে অবস্থিত। এই অ্যাক্রোবেটিক সেন্টারটি দীর্ঘকাল ধরে সংস্কার না হওয়ায় জীর্ণদশায় পরিণত হয়েছে সেন্টারটি। রয়েছে জনবলের সংকট। সঠিক পরিচর্যার অভাবে হলরুমসহ অন্য ভবনগুলোও নষ্ট হওয়ার পথে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু জটিলতার কারণে এর যতটা উন্নয়ন হওয়া দরকার ছিল, তা হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়িই এটির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী অ্যাক্রোবেটিক সেন্টার সূত্র জানায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার শ্রীপুর এলাকায় ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সেন্টারটি। ওই সময় ফাইন অ্যান্ড পারফরমিং আর্ট নামে একটি প্রকল্পের আওতায় এর কার্যক্রম শুরু হয়। ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য হোস্টেলে থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল তখন। মাসিক ভাতাও পেতেন তারা। ২০০৫ সালে ফাইন অ্যান্ড পারফরমিং আর্ট-২ নামে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৭ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগ করা হয়- ফাইন অ্যান্ড পারফরমিং আর্ট-২ নামে যে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল তা ঠিকাদারকে নিয়ম মেনে দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হলে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছু দিন পর অ্যাক্রোবেটিক সেন্টারটি র্যাব ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহূত হতে থাকে। র্যাব ক্যাম্প তুলে নেওয়ার পর ২০১২ সালে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী অ্যাক্রোবেটিক সেন্টারটি আবারও চালু করার উদ্যোগ নেন। ২০১৪ সালে সার্বিক বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করার জন্য হাইকোর্ট একটি কমিটি করে দেন। এ কমিটির সদস্যরা ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা), বুয়েটের একজন শিক্ষক, রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে হাইকোর্ট রায় দেন, সরকার ঠিকাদারের কাছে টাকা পাবে এবং সরকারই ঠিক করবে যে প্রকল্পটি চালু ছিল সেটি অব্যাহত রাখবে কি-না।
বর্তমানে এ সেন্টারটিতে প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন ৩২ জন। যাদের মধ্যে গত বছর ১০ জন চীন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। অ্যাক্রোবেটিক কার্যক্রম চালু থাকলেও সেন্টারটির একটি হলরুম, দুটি ছাত্রাবাস, একটি অফিসার্স ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন ও দুটি ডাইনিং রুম সবকিছুই জীর্ণদশায় পরিণত হয়েছে। মূল প্রশিক্ষণ যেখানে হয়, সেই হলরুমের বোর্ড ও সিলিং খসে পড়ছে। নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। সরঞ্জামাদি রাখার জায়গাও নেই। ফাটল ধরেছে হলরুমটিতে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেন্টারটি পরিচালনার জন্য একজন পরিচালক, একজন উপ-পরিচালক, একজন হিসাবরক্ষক, একজন অফিস সহকারী থাকার কথা থাকলেও কিছুই নেই। রয়েছেন কেবল দু’জন এমএলএসএস আর দু’জন নৈশপ্রহরী।
বর্তমানে অ্যাক্রোবেটিক সেন্টারটিতে টিম লিডারের দায়িত্ব পালন করছেন সঞ্জয় ভৌমিক। যিনি নিজেও চীন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি সুস্থ ধারার একটি শিল্প মাধ্যম। এই শিল্প মাধ্যমকে যদি পরিচর্যা করা যায়, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাশ বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে এর কার্যক্রম থমকে গেছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এই সেন্টারটি উজ্জীবীত করার জন্য সদা সচেষ্ট। তিনি চীনে গিয়ে অ্যাক্রোবেটিক কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই আদলে আমাদের এখানেও ট্রেনিং সেন্টার করার চিন্তা ভাবনা করছেন।( সৌজন্যে- সমকাল)।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































