মাটির টানে পদ্মার পাড়ে বারবার ছুটে আসেন গোয়ালন্দের বৃদ্ধ জিন্দার মোল্লা –
- Update Time : ০৫:১৯:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১
- / ৭৯ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
“মন মানে না বাঁজান,তাই বারবার মাটির টানে এহানে ছুইটা আসি। এহানে আসলে দুই-চারজন পরিচিত লোকজনের দ্যাহা মেলে। তাগো লগে কতা কইলে অন্তরডা জুড়ায় যায়। কিন্তু রাক্ষুসে পদ্মার দিকে তাকাইলে বুকের ভেতরডা হাহাকার করে ওঠে “। পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে সর্বস্ব হারানো ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ জিন্দার মোল্লা এভাবেই তার মনের কথাগুলো বলছিলেন।
সরেজমিন গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত মুন্সিবাজার এলাকায় কথা হয় জিন্দার মোল্লার সাথে। তিনি বলেন, ২ বছর আগে দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম গ্রামে তার মত কয়েকশ পরিবারের সাজানো সংসার ছিল। কিন্তু পদ্মা নদীর ভাঙনে আমরা সবাই সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ি। আমি ৬ মাসের মতো স্হানীয় আরপিডিএস এর শূন্য ভিটেয় কোন মতে মাথা গুঁজে ছিলাম। এরপর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের জটু মিস্ত্রি পাড়ায় মেজ ছেলের শ্বশুর একটু জায়গা দিলে সেখানে গিয়ে একটা ঘর তুলে স্ত্রীসহ ওদের সাথে কোনমতে বসবাস করছি। বড় ছেলে চলে গেছে দক্ষিণ দৌলতদিয়া এলাকায়। ছোট ছেলেটা ঢাকায় কাজ করে।ও কোনদিন বাড়িঘর করতে পারবে কিনা জানি না। জিন্দার মোল্লা দুঃখ করে বলেন, পদ্মা শুধু আমার বাড়িঘর,ফসলি জমিই ভাঙেনি।ভেঙেছে আমার মনটাও।ভাঙনে ছেলে,মেয়ে, আত্মীয়, স্বজন, প্রতিবেশী,বন্ধু – বান্ধব সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। তাই মনটা যখন খুব ছটফট করে তখন কষ্ট হলেও এখানে ছুটে আসি। দু’চারজন পরিচিত লোকজনের সাথে দেখা হয়। একটু ভালো লাগে।তাছাড়া বড় ছেলেটা এখানে ১ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে পটল ক্ষেত করেছে।এখানে আসলে ক্ষেতটারও একটু দেখাশোনা হয়।সকালে বাড়ি থেকে কিছু একটা খেয়ে আসেন।দুপুরে কাছাকাছি কোন দোকান থেকে দু’একটা বিস্কুট খেয়ে তার দিনটা কেটে যায় বলে জানান।
জিন্দার মোল্লা ক্ষোভের সাথে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার ভাঙনে দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া অঞ্চলে আমার মতো হাজার হাজার পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু সরকার ভাঙন ঠেকাতে কোনই ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ সময় মুন্সি পাড়ার বাসিন্দা নিকাত সরদার (৭০),রহিমা বেগম (৬৫),সরিফা খাতুন (৪৫)সহ অনেকেই আশংকা প্রকাশ করে বলেন,এবারের ভাঙনে এ এলাকায় তাদের যে কয়েকটি ঘর বাদ আছে হয়তো সেগুলোও ভেঙে যাবে।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরে পদ্মা নদীর ভাঙনে তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। চাপা কষ্ট নিয়ে যে যেখানে পেরেছে চলে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে বহুবার উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট আবেদন -নিবেদন করেও কোন কাজ হয় নি।তবে অনেকদিন ধরে শুনে আসছি দৌলতদিয়া ঘাট থেকে উজানে ৪ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন রক্ষায় কাজ হবে।হলে ভালো। কিন্তু যতদিনে হবে ততদিনে হয়তো আরো বহু ক্ষতি হয়ে যাবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































