“বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ করার প্রয়োজনীয়তা” বা “আমরা কেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ করব ?”
- Update Time : ০৮:৪৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
- / ২১৭ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
১৯৭০ সালের ৪ এপ্রিল এক ঝাঁক লড়াকু নারী কবি সুফিয়া কামালের সাথে যুক্ত হয়ে নারী-পুরুষের সমতা ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারীদের গণমুখী সংগঠন “পূর্ব পাকিস্থান মহিলা পরিষদ” প্রতিষ্ঠিত করেন। মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল এবং সাধারন সম্পাদক মালেকা বেগম।
এই সংগঠনের সদস্যরা মহিলা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে উনসত্তরের গণঅভ’থ্যান, সত্তরের ঘূর্নিঝড়, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর “পূর্ব পাকিস্থান মহিলা পরিষদ” রুপান্তরিত হয়“ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে”। তখন থেকেই নারী-পুরুষের সমতা ভিত্তিক সমাজ বির্নিমানের দুরুহ ও দুর্গম পথ চলা শুরু হয়।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ভাবাদর্শে লালিত ও কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত মহিলা পরিষদ মনে করে নারীর অধিকার মানবাধিকার। তাদের গঠনতন্ত্র ও কার্যক্রম কখনো পুরুষদের চ্যালেঞ্জ করেনি বরং পুরুষদের সঙ্গে নিয়ে সংগ্রামকে চুড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছে। তারা চ্যালেঞ্জ করেছে পুরুষতন্ত্রকে, সমাজের পশ্চাতপদ চিন্তাকে, অনেক বৈষম্যপূর্ন ও নারী অধিকার বিরোধী আইনের সংস্কার ও বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছে। কিন্তু আইন পাস হলেও এর যথাযথ প্রয়োগ নেই। গণধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মামলায় মাত্র ৩ শতাংশ অভিযুক্ত ব্যক্তি শাস্তি পায়। বাকিরা আইনের ফাঁক – ফোকর ও গাফিলতির সুযোগে পার পেয়ে যায়।
এই নিষ্ঠুর সমাজে নরম ভাষায় প্রতিবাদ করে কিছু আদায় করা যায় না। বিচারহীন তাই নারীকে আরও অনিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যায়। আমরা স্বাধীন দেশে বাস করলেও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, কুসংস্কার, সেকেলে চিন্তা নারীর সামনে চলার পথে এখনো বড়ো বাধা। নারী শিক্ষাহার বাড়ার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে তাঁর অংশগ্রহণ বেড়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা বাড়েনি এবং দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টায় নি। কর্মক্ষেত্রের সর্বস্তরে নারীর অবস্থান থাকলেও সমাজের অগ্রগতির ধারক হতে পারেনি। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীরা অনেক পিছিয়ে আছেন। প্রশাসন থেকে উচ্চ বিচারালয়ে যদি নারীরা কৃতিত্বের সাক্ষর রাখতে পারেন তাহলে জাতীয় সংসদে নয় কেন?
মহিলা পরিষদ আশির দশক থেকে জাতিসংঘ প্রনীত নারীর প্রতি সব ধরণের বৈষম্য বিলোপের সনদের (সিডও) পূর্ন অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে, এখানেও রাষ্ট্রতন্ত্র নীরব। ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজে অসন্তোষ হবে -এই ধুয়াতুলে সিডও’র দুটি ধারার অনুমোদন ঠেকিয়ে রেখেছে।
মহিলা পরিষদ তার গঠনতন্ত্রে পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে সংগঠনের নেতৃত্বে বিকাশ নিশ্চিত করা, সংগঠনকে শহর ও গ্রাম পর্যায়ে (তৃণমূল) বিস্তৃত করা এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে বহুমুখী কর্মসূচী গ্রহনের মাধম্যে কৃষক নারী, শ্রমিক নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও পেশাজীবী নারীদের সংগঠিত করার বিষয়েও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নারীনির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূল কাজের অংশ হিসেবে মহিলা পরিষদ ১৯৮৩ সালে রোকেয়া সনদ প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রতিষ্ঠান অগনিত দুস্থ ও নির্যাতিত নারীকে আশ্রয় দিয়েছে। আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করেছে।
মহিলা পরিষদ নারীর আপন ভাগ্য গড়ার সহযাত্রী, প্রতিটি নারীর পথচলার সঙ্গী, নারীর বিপদে পাশে দাঁড়াবে ভয়কে জয় করে সাহস যোগাবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রতিটি নারীকে মানুষ হিসাবে পৃথিবীতে থাকার জন্য যে লড়াই, সংগ্রাম করতে হবে তাঁর জন্য অনুপ্রেরনা যোগায়।
লেখক -পূর্ণিমা দত্ত, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখা।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































