পাংশায় টাকা ও স্বর্ণালংকারের লোভে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩, এসপি’র ব্রিফিং
- Update Time : ০৯:৪১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩
- / ৬৪৬ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর পাংশায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারের লোভে কাতার প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০) কে সুকৌশলে ঘরের বাইরে এনে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১২ ঘন্টার মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের ছেলে মিলন শেখ (৩০), আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দার (১৫)।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সাথে বিফ্রিংকালে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ এ কথা বলেন।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাংশা উপজেলার মচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০), তার মেয়ে সিনহা আক্তার (৯) ও ছেলে হুসাইন (১৪ মাস) কে নিয়ে নতুন বসত বাড়ীতে এক বছর যাবৎ বসবাস করে আসছেন। রুনা খাতুন তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার সময় রাতের খাবার শেষে তাদের বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। গত ২০ আগস্ট তারিখ রাত দেড় টার ছেলে হুসাইনের কান্নাকাটিতে মেয়ে সিনহার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সিনহা ঘুম থেকে জেগে তার মাকে বিছানায় না পেয়ে বারান্দায় এসে মিলন শেখকে বারান্দায় দেখে জিজ্ঞেস করে যে, তার মা কোথায় ? তখন মিলন জানায় তার বাড়ীতে গেছে। সিনহা রুমের মধ্যে গিয়ে তার ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে তার মাকে ডাকাডাকি করতে করতে বারান্দায় আসলে মিলন সিনহার মুখ চেপে ধরে এবং চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। সিনহা আসামীর হাত থেকে ছুটে মিলনসহ উঠানে দাঁড়ানো অজ্ঞাতনামা আরো দুই জনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে। সিনহা কান্না করতে করতে উঠানের উপরে আসে এবং তার মাকে উঠানের উপর মাটিতে দুই পা বাঁধা অবস্থায় দেখে চিৎকার করতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, তখন আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসে এবং রুনা খাতুনকে দুই পা বাঁধা মৃত অবস্থায় দেখতে পায় এবং তার ব্যবহৃত স্মার্ট মোবাইল ফোনটি খুজে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে পাংশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রবিবার সকালে মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পরে নিহতের বড় ভাই মোঃ রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার সার্বিক দিক নির্দেশনায় পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে পাংশা মডেল থানার একটি চৌকস পুলিশ টিম রবিবার রাতে থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে হত্যা কান্ডে জড়িত মিলন শেখ, শিশু তেছেম সরদার ও রিয়াজ জোয়াদ্দারদের গ্রেফতার করেন এবং কাছ থেকে ছিনতাই যাওয়া মোবাইল ফোন ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেন। তারা পুলিশী জিজ্ঞাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































