দৌলতদিয়ায় অসংখ্য যাত্রী, যানবাহনের ভিড়ে কর্মস্থলগামীদের দুর্ভোগ চরমে –
- Update Time : ০৯:০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮
- / ৫৩ Time View
আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
ঈদের সরকারী ছুটির পর অতিরিক্ত ঐচ্ছিক ছুটিও শেষ। আগামীকাল শনিবার থেকে গার্মেন্টসসহ সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান পুরোদমে চালু হচ্ছে। এ জন্য আজ শুক্রবার দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাটে অসংখ্য যাত্রী ও যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বয়ে আনা হাজার হাজার যানবাহনের চাপে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ৮ কিলোমিটার জুড়ে যানজট। এতেকরে শুক্রবার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় মানুষ পড়েছে অসহনীয় দুর্ভোগে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে দৌলতদিয়া ঘাট এলকায় যানজট ও যাত্রীদের ভোগান্তি শুক্রবার চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। দৌলতদিা ঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ উপজেলার মকবুলের দোকান পর্যন্ত বিকেল ৪টা নাগাদ যানবাহনের দীর্ঘ সারি হয়েছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে যানবাহনের সারি লম্বা হচ্ছে। দৌলতদিয়া আড়াই কিলোমিটার ফোরলেন মহাসড়কের কোথাও কোথাও যানবাহনের ৩/৪টি সারি সৃষ্টি হয়ে মাঝে মধ্যেই যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থপনায় বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকলেও যাত্রী ও চালকদের শৃঙ্খলা না মানার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পিপড়ের সারির মত আসা অসংখ্য ব্যাক্তিগত গাড়ি, পিকআপ, মাহেন্দ্র, অটোরিক্সা, রিক্সা ও ভ্যানের মত যানবাহনগুলোকে পুলিশ দৌলতদিয়া ঘাটের ৫ কিলোমিটার আগে থেকেই গোয়ালন্দ বাজার বাসস্ট্যান্ড ও পদ্মার মোড়দিয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এ গাড়িগুলো চর দৌলতদিয়া হয়ে সরু সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে। এছাড়া অনেক ছোট গাড়ি ঝুকি নিয়ে গোয়ালন্দ বাজার গরু হাট হয়ে রেলের পাশদিয়ে ফকির পাড়া হয়ে ঘাটের দিকে যাতায়াত করছে। এ যানবাহনগুলোর যাত্রীদেরকে গুনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ গুন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া।
এদিকে মহাসড়কে আটকে থাকা অসংখ্য বাসের হাজার হাজার যাত্রীকে অন্তত ৬/৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছাতে দেখা গেছে। এসকল যাত্রীদের অনেকেই রিক্সা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে ঘাটে পৌঁছান। কিন্তু দূর্ভোগের সুযোগে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় দুই থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত। প্রচন্ড রোদ ও গরমে যাত্রীদের অনেকেই গাড়িতে ও সড়কে অসুস্থ হয়ে পড়েন। নারী-শিশু ও বয়ষ্ক যাত্রীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ।
যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ফেরিতে দু’একটি বাস ছাড়া শুধু মাত্র যাত্রী ও ব্যাক্তিগত গাড়ি পারাপার করছে। এতেকরে মহাসড়কে যাত্রীবাহি বাসের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া শত শত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দুইদিন ধরে মহাসড়কে আটকে আছে। লঞ্চঘাটেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ঘাটে একটি লঞ্চ ভিড়ার সাথে সাথে শত শত যাত্রী মুহুর্তেই লঞ্চে উঠে পড়ছে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার নিয়ন্ত্রণ করতে কর্তৃপক্ষকে বেগ পেতে হচ্ছে।
ঢাকাগামী যাত্রী মাসুমা আক্তার, শোয়েব আহমেদসহ অনেকেই জানান, ফরিদপুর থেকে লোকাল গাড়ীতে এসেছি। কিন্ত মহাসড়কে যানজট থাকার কারণে ৫কিলোমিটার দুরে আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে সাথে থাকা ব্যাগ নিয়ে প্রচন্ড গরমের মধ্যে পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছাতে হচ্ছে।
ঢাকাগামী যশোরের আরিফুল ইসলাম বলেন, যানজটের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে মহাসড়কে ৫ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। ৫ মিনিটের পথ যেতে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এই প্রচন্ড গরমে ফেরি’র অপেক্ষায় গাড়ীর মধ্যেই বসে থাকতে হচ্ছে।
একে ট্রাভেলস পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি সহিদুল ইসলাম জানান, ঘাটে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে তাদের কোম্পানীর বৃহস্পতিবারের একাধিক নৈশ্যকোচ শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে ফেরির নাগাল পায়।
কর্তব্যরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল কান্তি জানান, কর্মস্থলগামী মানুষকে বয়ে আনা যানবাহন এক যোগে ঘাটে আসা শুরু করায় মহাসড়কে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করে যাচ্ছে। ঘাট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি নিজেই সরেজমিন এসে সার্বিক দিক তদারকি করছেন।
বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে তারা ফেরিতে দু’একটি বাস ছাড়া ব্যাক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার করছেন। এতেকরে মহাসড়কে গাড়ি আটকা পড়ছে। তবে মহাসড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা থাকলে তারা আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যেই পারাপার করতে পারবেন। নৌরুটে ২০টি ফেরি চালাচল করছেন বলে তিনি জানান।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































