“জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল”- লেখক : ডাঃ সুনীল কুমার বিশ্বাস –
- Update Time : ০৬:০৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১
- / ৫৪ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
কবি সুফিয়া কামাল তুমি জননী সাহসিকা নামে খ্যাত,হে দুর্গম পথেরযাত্রী, তোমার চলার পথ ছিলনা কুসুমাস্তীর্ণ সর্বদাই সম্মুখে ছিল অন্তহীন রাত্রি। আজ তোমার ২২ তম প্রয়াণ দিবসে তোমাকে জানাই অশেষ শ্রদ্ধা ও প্রণাম, হে চির সংগ্রামী তোমার যাত্রাপথে ছিল সর্বদাই এক পলাশীর প্রান্তর, অতি সহজে না হলেও সে পথ অতিক্রম করেছ,জয় করেছ সে বাধার প্রাচীর।
তোমার জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে, যুক্ত ছিলে সারাজীবন প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব লড়াই-সংগ্রামে। হে চির সংগ্রামী তোমার যাত্রাপথে সর্বদাই ছিল এক পলাশীর প্রান্তর, তুমি সেই প্রান্তর পার হয়ে গেছো সহজে না হলেও সেই বাধার প্রাচীর। এডভোকেট সৈয়দ আবুল বারী ছিলেন তোমার পিতা, মহীয়সী সাবেরা বেগম ছিলেন তব মাতা। তাঁদের পরিবারে নারীশিক্ষার ছিলনা প্রচলন, বাড়িতে মা সাবেরা বেগমের হাত ধরেই শুরু হয় শিক্ষা জীবন। মাত্র ১২ বছর বয়সেই শুরু হলো তাঁর বৈবাহিক জীবন, তাঁর স্বামী ছিলেন সৈয়দ নেহাল হোসেন, তাঁর স্বামী তাকে সাহিত্য পাঠে আগ্রহী করে তোলেন। পরবর্তীকালে তিনি সাহিত্য রচনায় মনোযোগী হন। ১৯২৩ সালে তাঁর প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধু’ বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
১৯২৬ সালে তার প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মহাত্মা গান্ধীর সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি কিছুদিন চরকায় সুতা কাটেন, এ সময়ে তিনি যোগ দেন মাতৃমঙ্গল এ যা ছিল এক নারী কল্যাণ মূলক সংগঠন। ১৯২৯ সালে তিনি বেগম রোকেয়ার আঞ্জুমানে সাখাওয়াতিন ই ইসলাম এর যোগ দেন। এ সময় তিনি বেগম রোকেয়ার আদর্শে প্রভাবিত হন। ১৯৩১ সালে তিনি মুসলিম নারীদের মধ্যে প্রথম ইন্ডিয়ান মহিলা ফেডারেশনের সদস্য নির্বাচিত হন, তার স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু তিনি বিচলিত হন এবং ১৯৩২ হতে ১৯৪১ পর্যন্ত তিনি কলকাতা কর্পোরেশন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৩৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’ প্রকাশিত হয়। কবি নজরুল ইসলাম যার ভূমিকা লিখেছিলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রশংসা করেছিলেন। ১৯৩৯ সালে কামাল উদ্দিন আহমেদের সাথে তিনি অাবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তিনি বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তিনি সরাসরি যোগদান করেন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে (বর্তমানে মহিলা পরিষদ) তিনি প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাচিত হন।
এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই ছায়ানটের সভাপতি ছিলেন, তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে ‘সাঁঝের মায়া’ ‘মায়া কাজল, ‘মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, ‘দিওয়ান’ তাঁর গল্পগ্রন্থ, কেয়ার কাঁটা, ভ্রমণ কাহিনী, সোভিয়েত দিনগুলো, ‘স্মৃতিকথা’ ‘একাত্তরের ডায়েরী’ তিনি ৫০টিরও অধিক পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি,সোভিয়েত লেনিন, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পদকসহ আরো অনেক পুরস্কার। পরিশেষে কবি ও গায়ক সুমন কবিরের একটি গানের কয়েকটি চরন করব উচ্চারণ – “এইতো লক্ষ ছেলেমেয়ে নাতি-নাতনি দামাল সবুজ দ্বীপের মতো মাঝখানে সুফিয়া কামাল।”
লেখক : ডাঃ সুনীল কুমার বিশ্বাস – ২০/১১/২০২১, রাজবাড়ী।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































