গোয়ালন্দে ১০ টাকা কেজির চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ –
- Update Time : ০৯:৫১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
- / ৮১ Time View

শামীম শেথ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও চালের ডিলার আবুল হোসেন ফকিরের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলায় সরকারিভাবে হতদরিদ্্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি মূল্য দরে চাল বিতরণ কর্মসূচীর আওতায় ২০১৬ সাল থেকে কর্মসূচী চলছে। এতে উজানচর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ৫৬২ জন কার্ডধারীর জন্য ডিলার নিযুক্ত হন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ফকির। এ এলাকায় চালের ওজনে কম দেয়া, সচ্ছল, প্রবাসী ও অবস্থা সম্পন্ন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কার্ড ও চাল বিতরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবস্থা সম্পন্নরা এ চাল তুলে বাইরে বিক্রি করা ছাড়াও গরু, ঘোড়া, কবুতর ও মুরগীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুরে উজানচর জামতলার হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ডিলার হিসেবে চাল বিক্রির জন্য আবুল হোসেন ফকিরের নিজস্ব কোন ঘর বা আড়ৎ নেই। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কার্যালয় হতে কার্ডধারী ব্যক্তিদের কাছে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। ৩০ কেজি চালের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০০টাকা এবং নিয়ম বহির্ভুতভাবে বস্তার জন্য আরো ২০টাকা করে বাড়তি আদায় করা হচ্ছে। ৩০ কেজির জায়গায় দেয়া হচ্ছে ২৭-২৮ কেজি করে চাল। তদারকির জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সেখানে নিযুক্ত থাকলেও তিনি নেই।
এ সময় আলম মোল্লা নামের এক ব্যক্তির চালের বস্তা ডিলার আবুল হোসেনের সামনেই পূনরায় ওজন দেয়া হলে দেখা যায় সেখানে ২৭ কেজি ৬৫০ গ্রাম চাল রয়েছে। জুলহাস সরদারের বস্তায় পাওয়া যায় ২৭ কেজি ২০ গ্রাম চাল। আবুল হোসেনের স্কেলের বাইরে পাশের আবুল কাশেমের সারের দোকানে গিয়ে নুরজাহান বেগম, মোন্তাজ হোসেন, গোলজার শেখসহ কয়েকজনের চাল মেপে দেখা যায় প্রত্যেক বস্তায় ২৭ থেকে ২৮ কেজি করে চাল রয়েছে। তবে এ সময় ডিলার কম পাওয়া প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল পুরণ করে দেন। বস্তার জন্য বাড়তি নেয়া ২০ টাকাও তিনি ফেরত দেন।
এ বিষয়ে ডিলার আবুল হোসেন দাবী করে বলেন, চাল দেয়ার সময় আমি কাছে ছিলাম না। মাপার কাজে নিযুক্ত লোকজন ভুল করে কম দিয়েছে। যারা বস্তা আনেননি শুধু তাদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে রেখে অন্যদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এমন কাজ এর আগে কখনো হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।
তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সমাজসেবা অফিসার চন্দন কুমার মিত্র বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। আজই অফিসে এসেছি। ডিলার আবুল হোসেন আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমি যেতে না পারায় এবং লোকজন চালের অপেক্ষায় বসে রয়েছেন শুনে ডিলারকে চাল বিতরণের কথা বলে দেই।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, জামতলা এলাকায় চালের ওজনে কম দেয়ার ব্যাপারে আমার কাছে অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন। আমি এ বিষয়ে ডিলারকে সতর্ক করেছিলাম।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, চাল বিতরণের অনিয়ম সম্পর্কে আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































