গোয়ালন্দে বাড়িতে প্রসব করাতে গিয়ে মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু –
- Update Time : ০৮:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ নভেম্বর ২০২১
- / ৫৮ Time View
শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বাড়িতে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে মা ও নবজাতক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রসুতি মায়ের নাম রাহিমা আক্তার (২৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের জলিল সরদার পাড়ার নিজাম মন্ডলের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে বাবার বাড়িতে গ্রাম্য দাইয়ের মাধ্যমে প্রসবের চেষ্টা করাতে গিয়ে মারা যায় তার নব জাতিকা কন্যা শিশু।
এদিকে এ ঘটনার জেরে প্রচন্ড শোকে রাহিমার স্বামী ইসলাম সরদার (৩৫) গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোপালবাড়ি এলাকায়। পেশায় একজন টেইলর মাষ্টার। তাদের ৮ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
রাহিমার ছোট চাচা মাসুদ রানা ও ননদ রুবি খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রসব বেদনা শুরু হয় রাহিমার। এসময় তাকে বাড়িতে রেখে গ্রামের মহিলাদের (দাই) দিয়ে প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ২ টার দিকে একটি মৃত মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। অপরিকল্পিতভাবে প্রসব করাতে গিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের ধারনা।
এদিকে বাচ্চা প্রসব করার পরপর প্রচুর রক্তক্ষরনে রাহিমার অবস্হাও বেগতিক হয়ে ওঠে।এ পর্যায়ে বাড়ির লোকজন তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা জটিল দেখে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। স্বজনরা তাকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়ার পথে বেলা ৩ টার দিকে এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে এ ঘটনায় দুটো পরিবার সহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে রাহিমার স্বামী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জ্ঞান ফিরলেও তার কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ চন্দন কুমার ঘোষ জানান, রাহিমাকে অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তারপরও তাকে স্যালাইন দিয়ে দ্রুত ফরিদপুরে রেফার্ড করি। তাকে যদি বাড়িতে প্রসব করানোর চেষ্টা না করে সকালেই হাসপাতালে নিয়ে আসা হতো তাহলে হয়তো এভাবে দুটো প্রাণ অকালে ঝড়ে যেত না।
তিনি আরো জানান,হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনা খরচে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের সহায়তায় অনেক নর্মাল ডেলিভারি করা হচ্ছে এবং সরকারিভাবে তাদের বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও দেয়া হচ্ছে। তারপরও অসচেতনভাবে অনেকেই বাড়িতে বাচ্চা প্রসব করানোর চেষ্টা করাতে গিয়ে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সকলকে এগিয়ে আসা দরকার।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































