গোয়ালন্দে প্রেমিকের বাড়ীতে প্রেমিকার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল-
- Update Time : ০৭:২৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯
- / ৬৬ Time View

রুবেলুর, ইমরান, আতিয়ার : রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিলে প্রেমিক রায়হানের বাড়ীতে ৮ম শ্রেনীতে পড়ূয়া প্রিয়া আক্তার নামে এক প্রেমিকার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
নিহত প্রিয়ার পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবী ফোনে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে প্রিয়াকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে । এদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের ধারনা এটি আত্মহত্যা। তবে পুলিশ এখন বলেছে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানাযাবে। মৃত্যুর পর এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে অভিযুক্ত রায়হানদের বাড়ীতে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে নিহত প্রিয়ার স্বজন ও এলাকাবাসীরা হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবী করেছেন। ১৯ আগষ্ট দিবাগত রাতে প্রিয়া আক্তারের এ রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রিয়া আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের হাউলি কেউটিল গ্রামের দরিদ্র সন্তোষ মোল্লার মেয়ে ও গোয়ালন্দ দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী এবং প্রেমিক রায়হান শেখ (২৫) একই গ্রামের বারেক শেখের ছেলে। সে পেশায় একজন দর্জি ।
এদিকে ২২ আগষ্ট এ ঘটনায় নিহত প্রিয়ার ভাই রানা মোল্লা বাদী হয়ে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ২নং আমলী আদালতে রায়হান শেখ (২৫), রায়হানের পিতা বারেক শেখ (৬০) ও মা রেজি বেগম (৪০)কে আসামী করে একটি মামলা করেছেন।
জানাগেছে, উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল এলাকার দরিদ্র অসহায় পরিবার সন্তোষ মোল্লার ছোট মেয়ে প্রিয়া ও একই এলাকার প্রতিবেশী বারেক শেখের ছেলে দর্জির কাজ করা রায়হানের সাথে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়ের পরিবার থেকে ছেলের পরিবার আর্থিক দিক দিয়ে কিছুটা সাবলম্বী। যার ফলে ছেলে ও মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেউ ছেলের পরিবার সেটি মানতে রাজি হন নাই। বরংচ ঘটনার ৪ দিন পর ২৩ আগষ্ট শুক্রবার ছেলেটির অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছিল তার পরিবার। কিন্তু বিয়ের ৪ দিন আগে ১৯ আগষ্ট সোমবার দিবাগত রাতে প্রিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু হয় প্রেমিক রায়হানের বাড়ীতে। আর এ মৃত্যু ( হত্যা বা আত্মহত্যা ) নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারনা এটি পরিকল্পিত হত্যা এবং পুলিশের প্রাথমিক ধারনা একটি আত্মহত্যা।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, প্রিয়া আত্মহত্যা করতে পারে না, সে আত্মহত্যা করার মত মেয়ে না। যে দিন প্রিয়া মারা যায় সেদিন ১৯ আগষ্ট বিকালে রায়হানের ছোট ভাই প্রিয়াকে একটি মোবাইল ফোন দিয়ে যায় এবং সেই ফোনের মাধ্যমে রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রিয়াকে রায়হান তার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মধ্যে রাতে রায়হানের বাড়ীর বাড়ান্দায় প্রিয়ার লাশ পাওয়া যায়। প্রিয়ার মুখে, ঘাড়ে, চলে, হাতে, পিঠেসহ বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ দেখেছেন। কিন্তু রায়হানরা বলছে প্রিয়া তাদের বাড়ীর একটি কাঁঠাল গাছের সাথে ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আসলে তারা বাঁচার জন্য মিথ্যা বলছে। যে গাছটিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে সেই গাছটির সাথে একটি পাটকাঠির বেড়া রয়েছে। যেখানে কোন চিহৃ নাই। শুনেছেন স্বাভাবিক ভাবে কেউ গলায় ফাঁস নিতে গেলে গলায় ফাঁস লাগার পর বাঁচার জন্য হাত পা ছুটা ছুটি করে। আর হাত পা ছুটা ছুটি যদি করতো তাহলে তো পাটকাঠির বেড়ার দু একটা কাঠি ভাঙ্গতো। কিন্তু বেড়ার একটি কাঠিও ভাঙ্গা নাই। আসলে প্রিয়াকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য রায়হানরা এ প্রচার চালিয়েছে এবং তারা যদি হত্যাই না করবে তবে ঘটনার পর থেকে কেন তারা সবাই পালিয়ে রয়েছে? প্রিয়া গরিব পরিবারের মেয়ে হওয়ায় ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হোক, সেটা তারা চান না। প্রিয়া হত্যার মুল কারণ উদঘাটন করে জরিতদের সর্বোচ্চ শ্বাস্তি ফাঁসির দাবী তাদের।
রায়হানের প্রতিবেশী বাদশা বলেন, ঘটনার দিন রাতে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে আসলে রায়হানদের বাড়ীতে কথার শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন বাড়ান্দা প্রিয়ার লাশ পড়ে আছে। পড়ে তিনি প্রিয়াদের বাড়ীতে গিয়ে সবাইকে প্রিয়ার মৃত্যুর ঘটনা জানান।
নিহত প্রিয়ার বাবা সন্তোষ মোল্লা বলেন, রাতে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন এ সময় রায়হানের পাশের বাড়ীর বাদশা এসে তাকে ডেকে তুলে প্রিয়ার মৃত্যুর খবর দেয় এবং বলে প্রিয়ার লাশ রায়হানদের বাড়ীর বাড়ান্দায় পড়ে রয়েছে। তখন কান্নাজরিত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার মেয়েকে রায়হান আর ওর বাবা-মা মিলে মেরে ফেলেছে। আমি ওদের ফাঁসি চাই।
মামলার বাদী প্রিয়ার ভাই রানা মোল্লা বলেন, রায়হান ও প্রিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনা এলাকার অনেকেই জানতো। ঘটনার দিন বিকালে রায়হানের ছোট ভাই প্রিয়াকে একটি ফোন দিয়ে যায়। আর রাতে ফোন করে প্রিয়াকে ডেকে নিয়ে যায়। অনেক রাতে রায়হানের প্রতিবেশী বাদশা নামের একজন এসে তার বোন প্রিয়ার মৃত্যুর খবর দেয়। তখন দৌড়ে গিয়ে দেখেন রায়হানদের বাড়ীর বাড়ান্দায় প্রিয়ার লাশ পড়ে রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে না যে প্রিয়া আত্মহত্যা করেছে। প্রিয়াকে ডেকে নিয়ে ওরা খুন করেছে। সকাল হবার পর থানায় গিয়ে জানালে পুলিশ আসে। কিন্তু থানায় মামলা লেখার পরও থানায় কোন মামলা হয়নি। পড়ে ২২ আগষ্ট কোর্টে রায়হান ও তার মা বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ভাই হিসেবে ওদের সবার সর্বোচ্চ শ্বাস্তি ফাঁসি চান।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় মিডিয়াকর্মীদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং লাশটি উদ্ধার করে সুরহাতাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে পাঠিয়ে দেন। মেয়েটির হত্যা বা আত্মহত্যা নিয়ে পরস্পর বিরোধী অভিযোগ রয়েছে এবং উভয় পক্ষের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহও রয়েছে। তাই লাশটি পোষ্ট মর্ডাম রিপোর্টের জন্য পাঠিয়েছেন। রিপোর্ট পাওয়া গেলে আইনগত ভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান সরকার জানান, প্রিয়া নামের মেয়েটি পোষ্ট মর্টাম রিপোর্টটি গতকাল ২৫ আগষ্ট রোববার পর্যন্ত তার টেবিলে আসে নাই। তবে রিপোর্টটি তৈরি হয়ে যাবার কথা। আসলে পোষ্ট মর্টাম করার পর কিছু কাগজপত্র লেখা লেখির কাজ থাকে। সে প্রক্রিয়া শেষে প্রতিবেদন আকারে তার কাছে দেন। পড়ে তিনি সেটি ফরওয়ার্ডিং দেন। হয়তো আজ রিপোর্টটি পেয়ে যেতে পারেন। আর রিপোর্ট পেলে আজই ফরওয়ার্ডিং দেবেন।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৯ আগষ্ট সোমবার গোয়ালন্দের ছোটভাকলার হাউলি কেউটিল এলাকা দিবাগত রাতে প্রিয়া আক্তারের হত্যার ঘটনা ঘটে এবং মঙ্গলবার সকালে তার লাশটি উদ্ধার করেন পুলিশ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































