গোয়ালন্দে ইমাম মাহাদী দাবিদার নুরাল পাগলের বিরুদ্ধে কলেমা বিকৃতির অভিযোগ, উত্তেজনা-
- Update Time : ০৯:৫০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮
- / ৯৯ Time View
আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মো. নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল (৭০) নামে এক ব্যাক্তি নিজেকে শেষ জামানার ইমাম মাহাদী দাবি করে কলেমা, যিকির, আযান ও নামাজের আকামত বিকৃত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে উপজেলা ইমাম কমিটির নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত নুরুল হকের পিতা মৃত হাতেম আলী মোল্লা ও মাতার নাম মৃত আখিরুন নেছা। তার বাড়ি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লার পাড়ায়।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার ফজর নামাজের আযানের সময় নুরাল পাগলের দরবার শরীফ থেকে যে আযান ভেসে আসে তাতে প্রচলিত আযান থেকে কিছু নতুন শব্দ যোগ করা হয়। প্রচলিত আযানে যে স্থানে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (স.) বলার কথা, সেখানে বলা হয় আশহাদু আন্না মুহাম্মদ ইমাম মাহাদী পাক রাসুলুল্লাহ। একই ভাবে পবিত্র কলেমাতেও তার নাম যুক্ত করে পাঠ করার রেওয়াজ চালু করেন। পাশাপাশি যিকির সহ অন্যান্য ইবাদতে নিজের নামের সাথে সাথে তার সন্তানদের নামও যুক্ত করে ভক্তরা যিকির করতে থাকে। যোহরের আযানেও একই ভাবে বিকৃত করে মাইকে প্রচার করা হয়।
এদিকে এ বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সকালের দিকে দরবার শরীফের বাইরে কয়েকশ লোক জড়ো হলে ওই এলাকায় একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলানা জালাল উদ্দিন প্রামানিক, সাধারন সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আজিজ, মুফতি মাওলানা সামছুল হুদাসহ বিক্ষুব্ধরা গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে বিষয়টি অবগত করেন। সেই সাথে উত্তেজিত জনতা কর্তৃক যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা ইমাম কমিটির সাধারন সম্পাদক মওলানা আব্দুল আজিজ বলেন, ইমাম মাহাদীর মদিনাতে আবির্ভাব ঘটবে। যখন দুনিয়াতে কোরআন তথা ইসলামের হেফাজত করার মত কেউ থাকবে না তখন। তার পিতার নাম হবে আব্দুল্লাহ ও মাতার নাম হবে আমিনা। গোয়ালন্দে যিনি নিজেকে ইমাম মাহাদী দাবি করছেন তিনি একজন ভন্ড। তিনি নিজস্ব মতবাদ তৈরী করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন। সেই সাথে এটাকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তিনি আরো জানান, ৯০ দশকের শুরুর দিকে তিনি প্রথম এ ধরনের দাবি করেন। তখন তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ও তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে তিনি এলাকা থেকে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ১৯৯৩ সালে এ ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর মুচলেকা দিয়ে তিনি এলাকায় ফেরেন।
সরেজমিন শনিবার বেলা ৩টার দিকে নুরুল হকের দরবারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে আলিশান বাড়ি জুড়ে কয়েকশ ভক্তের সমাগম। তারা দরবারের রীতি অনুযায়ী ধর্মীয় কর্মকান্ডে ব্যাস্ত। কয়েক ধাপ নিরাপত্তা বেস্টনি পাড় হওয়ার পর স্বাক্ষত পাওয়া যায় কথিত ইমাম মাহাদী ওরফে নুরাল পাগলের। সে সময় অনেক ভক্ত তাকে আল্লাহ বলে সম্বোধন করে বলে লক্ষ্য করা যায়।
আলাপকালে নুরুল হক দাবি করেন, আখেরী নবীর জামানা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি ইমাম মাহাদী সঠিক পথে থেকে ইসলাম প্রচারের কাজ করে চলেছি। আল্লাহ আমাকে দিয়ে এটা করাচ্ছেন। যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে তারা ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানে না। আমার সাথে এলাকার কিছু লোক ব্যাক্তিগত ভাবে শত্রুতা করে চলেছে।
নুরুল হকের ছেলে মেহেদী আল আমীন দাবি করেন, বাংলাদেশ ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এখানে যে যার মত স্বাধীন ভাবে ধর্ম পালন করতে পারবে এটা সাংবিধানিক অধিকার। আমরা কাউকে জোর করে এখানে আনি না। আমার আল্লাহ (বাবা) একটি দর্শন নিয়ে চলেন। এই দর্শনে অনুপ্রানিত হয়ে ভক্তরা এখানে আসে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু নাসার উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়ে নুরুল হকের সাথে কথা বলার জন্য আমি থানার ওসিকে নিয়ে (বিকেল পৌনে ৫টা) দরবারের ফটকে অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। তার সাথে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করব। কোন ভাবেই যাতে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে এ জন্য তিনি এলাকাবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































