গোয়ালন্দে সহিংসতায় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭, এক জনের স্বীকারোক্তি
- Update Time : ১০:০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৫০ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ৩ হাজার ৫শত জনকে আসামী করে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় রবিবার বিকাল পর্যন্ত ৭জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আদালতে এক জনের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ৪ জনের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দেওয়ানপাড়া গ্রামের আফজাল সরদারের ছেলে শাফিন সরদার (১৮), উজানচর ইউনিয়নের দিরাজতুল্লা মৃধাপাড়ার মৃত আক্কাস মৃধার ছেলে ও উজানচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নিষিদ্ধঘোষিত সহসভাপতি মাসুদ মৃধা, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের লাল মিয়া মৃধার ছেলে ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিরু মৃধা, দেওয়ানপাড়া গ্রামের মো. জহির উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক জনি (৩২), কাজীপাড়া গ্রামের কাজি আরিফের ছেলে কাজী অপু (২৫), উজানচর ইউনিয়নের মৃধাপাড়া গ্রামের মোকলেসুর রহমানের ছেলে হায়াত আলী (২৯) এবং গোয়ালন্দের নতুন পাড়া মোল্লা পট্টির মোঃ শওকত সরদারের ছেলে মোঃ জীবন সরদার (২২)।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ মো. শরীফ আল রাজীব। তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কাজী অপু রাজবাড়ীর আদালতে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও লাশ উত্তোলন, মাজার ভাংচুরের বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেছে। সেই সাথে শাফিন সরদার, মাসুদ মৃধা, হিরু মৃধা ও এনামুল হক জনির বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের সেখানে উপস্থিত থাকার প্রমান সাপেক্ষে তাদের আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর দুপুর তিনটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গোয়ালন্দের নুরাল পাগলার দরবারে হামলা চালায় কথিত ‘তৌহিদী জনতা’। হামলাকারীরা ১৩ দিন আগে দাফন করা নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে এবং উল্লাস করতে করতে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে পদ্মার মোড় এলাকায় নিয়ে গিয়ে সেটি পুড়িয়ে দেয়। এরপর মৃতদেহের ছাই ও দেহাবশেষ পদ্মা নদীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এদিকে গোয়ালন্দে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও দরবারে হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে অজ্ঞাত ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থলের ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































