গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসক ও সহকারীর ৪৫ টি পদ শূন্য, স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত –
- Update Time : ০৮:৫১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুলাই ২০২১
- / ৭৭ Time View
শামীম শেখ,রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সহকারীর অন্তত ৪৫ টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য হয়ে আছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্হ্য সেবা। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে আছে প্রায় আড়াই বছর ধরে।কয়েক দফা মেরামতের চেষ্টা করেও মেশিনটি সচল করা যায় নি। এদিকে গত জানুয়ারি মাসে এখানে সরকারীভাবে নতুন আরেকটি এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। মেশিনটি চালু করতে ঢাকা হতে দক্ষ কারিগরদের আসার কথা রয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি তারা না আসায় মেশিনটি তালাবদ্ধ ঘরে অলস পড়ে আছে। ফলে হাসপাতাল হতে এক্স-রে পরীক্ষা করাতে না পেরে সাধারণ রোগীরা বিপাকে পড়েছেন।বাধ্য হয়ে বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে বেশী খরচে এক্সরে করাতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারনে অপারেশন থিয়েটারটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে , দক্ষিণ বঙ্গের ২১ জেলার প্রবেশ দ্বার গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অবস্থানগত কারনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় উপজেলার দেড় লক্ষাধিক জনগনের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম ভরসার জায়গা এ হাসপাতালটি। এখানে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক বিভিন্ন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই থাকে সড়ক দূর্ঘটনাজনিত দূর-দূরান্তের অনেক রোগী। কিন্তু এক্স-রে মেশিন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ অনেক যন্ত্রাংশ, চিকিৎসক, সহকারী ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় এখানে অধিকাংশ রোগী সেবা নিতে এসে বাধ্য হয়ে ফিরে যান। সূত্র মতে, ২০১৪ সালে ৩১ শয্যা হতে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সে অনুপাতে এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকবল দেয়া হয় নি।এখানে দীর্ঘদিন ধরে ১৩ টি গুরুত্ত্বপূর্ণ চিকিৎসকের পদ শূন্য। ৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) মধ্যে ২ টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ৩ জন ফার্মাসিস্টের একজনও নেই বহুদিন ধরে।ফিজিওথেরাপির পদেও কেউ নেই বহুদিন হলো।নেই কোন যন্ত্রপাতিও। এছাড়া ৪ টি এমএলএসএস পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৩ টি পদ,ওয়ার্ড বয় রয়েছে ৩ জনের মধ্যে ১ জন,আয়ার দুটো পদই শূন্য, নৈশ প্রহরীর ২ টি পদের মধ্যে শূন্য ১ টি পদ,৫ জনের সুইপার পদে নেই একজনও। অফিস সহকারী ৩ জনের মধ্যে শূন্য ২ টি পদ। ষ্টোর কিপারের একটি পদে লোক নেই অনেকদিন। গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্হ্য পরিদর্শকের একটি পদ থাকলেও সেটি শূন্য বহুদিন ধরে।এছাড়া সহকারী স্বাস্হ্য পরিদর্শকের ৪ টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২টি পদ।স্বাস্হ্য সহকারীর ২০ টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৭ টি পদ।এছাড়াও এ্যানেসথেসিস্ট, প্যাথলজিষ্ট,আইএমও,ইএমও পদে একজন করে লোক থাকার কথা থাকলেও এ পদগুলো শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) আমিরুল ইসলাম রনি জানান,তার পদে ৩ জন লোক থাকার কথা।অথচ তিনি একা বিগত ৭/৮ বছর ধরে অনেক কষ্টে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু করোনার এ দুঃসময়ে একদিকে সাধারণ রোগীদের নানা পরিক্ষা-নিরিক্ষা। অন্যদিকে প্রতিদিনই করোনার নমুনা পরিক্ষা করতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থার মধ্যেও গত বছরের এপ্রিল হতে চলতি জুন পর্যন্ত তিনি ১ হাজার ৭৬৬ টি করোনার নমুনা পরিক্ষা করেছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট (রেডিওলজি) মো. কামরুল হাসান জানান, হাসপাতালের পুরাতন এক্সরে মেশিনটি ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে বিকল হয়ে সেভাবেই পড়ে আছে।অনেক চেষ্টা করেও বিকল মেশিনটি সচল করা যায় নি। গত জানুয়ারিতে এখানে নতুন একটি এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের অভাবে নতুন মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না।ফলে রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এক্সরে সেবা হতে বঞ্চিত রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্য শূন্যপদ এবং সার্বিক বিষয়ে আমরা প্রতি মাসেই উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পেশ করি।নতুন এক্স-রে মেশিনটি দ্রুত চালু করা সহ অন্যান্য বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি দ্রুত সকল সমস্যার সমাধান হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































