আবারও ভাঙছে দৌলতদিয়া, হুমকিতে ফেরি ঘাট সহ শতাধিক বসতবাড়ী
- Update Time : ১০:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
- / ১১৩ Time View

রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
পদ্মার তীব্র স্রোতে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায়। ফলে ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে ঘাটসহ শতাধিক বসতবাড়ী।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ভাঙন দেখা শুরু হয় দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী পাড়া। ভাঙনে সিদ্দিক কাজী পাড়ার ৫ থেকে ৭ টি বসতভিটা মুহুর্তের মধ্যে নদীতে বিলিন হয়ে যায়। ফলে ভাঙন আতঙ্কে নদীর পাড়ের অনেকই বসতবাড়ী অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে ভাঙন রোধে সকাল থেকে বালুর বস্তা ফেলার কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে বালুর বস্তায় ভাঙন রোধ হবে না বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থ ও স্থানীয়দের। ভাঙন শুরু হলে কিছু বস্তা ফেলা হয়। তবে অধিকহারে বস্তা ফেললে ভাঙন ঠেকতে পারে। কিন্তু কম বস্তা ফেলে বলা হয়, বেশি ফেলা হয়েছে। একমাত্র স্থায়ী কাজের মাধ্যমে ভাঙন রোধ সম্ভব বলে তাদের দাবি।
অপরদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া প্রান্তের বর্তমান ৫টি ফেরি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে ২টি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
জানাগেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দেশের অন্যতম একটি নৌরুট। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ২১ জেলার হাজার হাজার যানবাহন ও লক্ষাধিক যাত্রী নদী পারাপার হয়। তবে চলতি বছরের (২৫ জুন) স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর পাল্টে গেছে দৌলতদিয়া ঘাটের চিত্র। বর্তমান ঘাট সংকট থাকলেও কোন প্রকার ভোগান্তি ছারাই গন্তব্যে যাচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন। কয়েক বছর আগে পদ্মার তীব্র ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বন্ধ হয়ে যায় দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ঘাট। পরবর্তীতে অন্য ৫টি ঘাট দিয়ে চলে যানবাহন পারাপার। এরপর চলতি মাসের (৬ সেপ্টম্বর) ৫ নম্বর ঘাটের র্যামের নিচের মাটি নদীতে ধসে বন্ধ হয়ে যায় ঘাটটি আজও সচল হয়নি। এবং বর্তমানে ভাঙন ও র্যামের ত্রুটির কারণে বন্ধ ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট। ফলে ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট দুইটি দিয়ে চলছে যানবাহন পারাপার। এরমধ্যে দুই ঘাটে মাত্র ৪টি পকেট রয়েছে। ৬ নম্বর ঘাটে শুধু ছোট ইউটিলিটি ফেরি ভেরার জন্য একটি পকেট এবং ৭ নম্বর ঘাটে দুইটি রো রো ও একটি ইউটিলিটি ফেরি ভিরতে পারছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ৩ নম্বর ফেরি ঘাট সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী পাড়ার ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ। এবং ভাঙন আতঙ্কে বাড়ী-ঘর সড়ানোর কাজ করছে ক্ষতিগ্রস্থরা। ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দুইটি ভাঙন ও র্যাম ত্রুটির কারণে বন্ধ এবং ৫ নম্বর ঘাটটি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বন্ধ প্রায় তিন সপ্তাহ।
বিআইডব্লিউটিএ সুত্রে জানাগেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারীতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের উভয় প্রান্তে ঘাট আধুনিকায়নের জন্য ৬৮০ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দ্বায়িত্ব পায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে না পারা এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা করা হয়েছে। যার ডিজাইন এখনও চুরান্ত না হওয়ায় স্থায়ী কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার ঘাট প্রান্তে ২ ও দেবগ্রামের ৪ কিলোমিটার সহ ৬ কিলোমিটার এলাকায় ডিজাইন অনুযায়ী প্রয়োজন প্রায় সাড়ে ৮শ কোটি টাকা। অথচো পূর্বে বরাদ্ধ হয়েছিলো মাত্র ৫১০ কোটি। যার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের করা ডিজাইন (বিআইডব্লিউটিএ)র কাছে হস্তান্তর করে। এবং টিএ সেটি যাচাই বাছাই করতে পাঠায় বুয়েটে। যা এখনও প্রক্রিয়াধীন।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ শারমিন বেগম বলেন, এখন তার ঘরের সাথে নদী। কয়েকজন ঘর ভেঙ্গে সরিয়ে নিলেও গরিব মানুষ হওয়া এবং জায়গা জমি না থাকায় ঘর ভেঙ্গে সরাতে পারছেন না। এরআগেও তিন বার ভেঙ্গেছে। কিন্তু এখন কি করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। সরকার ভাল করে নদী শাসন করলে শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা হতো।
নিছা বেগম, আব্দুর রহিম ও বাচ্চু খান বলেন, প্রতিবছর নদী ভাঙনে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হন। কিন্তু কেউ খবর রাখে না। সরকারের বড় বড় কর্মকর্তারা এসে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না। প্রতিবছর নদীর পানিতে হাবু ডুবু খান। এবং বাড়ী ভাঙে আবার অন্যত্র সরিয়ে নেন। জায়গা জমি না থাকায় এবার আর যাবার জায়গা নাই। তাছাড়া ভাঙন আতঙ্কে দুরে কোথাও কাজেও যেতে পারেন না। কখন কি হয়। এই ভাবে থেকে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনাও করাতে পারছেন না।
ঘাটের মুদি দোকানদার হারুন ভূইয়া বলেন, রাতে হঠাৎ ভাঙনের শব্দ শুনে তার ঘুম ভাঙে। তখন তারাহুরা করে কয়েকটি ঘর ভেঙ্গে সরিয়ে নেন। এখন তো ফেরি ঘাটসহ পুরো এলাকার ঘরবাড়ী ভাঙন ঝুকিতে রয়েছে। ঘাটও বন্ধ। এখন তো ব্যবসা বাণিজ্য হচ্ছে না। তাছারা অল্প কিছু বস্তা ফেলে, বলে অনেক বস্তা ফেলা হয়েছে। আসলে স্থায়ী কাজ না হওয়া পর্যন্ত তাদের শান্তি নাই।
বিআইডব্লিউটিএ আরিটা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭ টি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে ৩ ও ৫ নম্বর ঘাট দুটি ভাঙন সমস্যায় রয়েছে। ফেরি ঘাট টিকিয়ে রাখতে জিও ব্যাগ দিয়ে তারা ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান রেখেছেন। ৫ নম্বর ঘাটটি চলতি মাসের প্রথম দিকে এবং ৩ ঘাটের ডাউনে আজ ভোর রাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খবর পাওয়ার পর সকাল থেকেই ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ আশা করছেন আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া স্টিমেট ও ডিজাইন বুয়েটে পাঠানো হয়েছে, যেটা বুয়েট পর্যবেক্ষণ করছে। হয়তো আগামী সপ্তাহের মধ্যে বুয়েট সব ঠিকঠাক করে দেবে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করে মুল কাজ শুরু করা হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































