সবাইকে কাঁদিয়ে ও নিজে কেঁদে বিদায় নিলেন গোয়ালন্দের ইউএনও আজিজুল
- Update Time : ০৯:১২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুন ২০২২
- / ৬৬ Time View
শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
শেষ বেলায় আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না। চোখ ভরা জল আর, তবু মুখের স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে প্রিয় সহকর্মী ও উপজেলাবাসীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন গোয়ালন্দের জননন্দিত ইউএনও আজিজুল হক খান মামুন।
রবিবার (১২ জুন) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
বিদায়কালে ইউএনও আজিজুল হক খান বলেন, ইউএনও হিসেবে এখানেই আমার প্রথম চাকরি। তাই এই গোয়ালন্দের কথা সারা জীবনেও ভুলব না। এখানকার মানুষেরা খুব ভালো। আমিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি তাদের জন্য ভালো সেবা দেয়ার জন্য। প্রার্থনা করি ভালো থাকুক গোয়ালন্দ উপজেলার প্রতিটি মানুষ। আমার কর্মজীবনে সেরা সঞ্চয় পেয়েছি এখানকার মানুষের ভালোবাসা। উপজেলার সহকর্মী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,সংবাদ কর্মী সহ সর্বস্তর হতে আমি কাজের ক্ষেত্রে অনেক রকমের সহয়তা পেয়েছি। কাজ আদায় করার জন্য হয়তো কারো বিরাগভাজন হয়েছি। অনেক সময় ইতিবাচক আবার কখনো নেতিবাচক ভাবে মানুষকে উপস্থাপন করা হয়। খোলা চোখ দিয়ে সবকিছু দেখা যায় না। চোখের আড়ালেও অনেক কিছু থাকে। তবে নিজের অজান্তেও যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, কারো প্রতি অন্যায় করে থাকি তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
বিদায়বেলায় উপস্থিত বেশির ভাগ মানুষের চোখেই ছিলো পানি। আবেগ সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলেন অনেকেই। তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
জানা যায়, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল গোয়ালন্দ উপজেলা ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন আজিজুল হক খান মামুন। পদোন্নতী পেয়ে ঢাকার নারায়নগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পরবর্তী কর্মস্থলে যোগদান করবেন তিনি।
তাকে নিয়ে স্হানীয়দেন বক্তব্য, তিনি কখনো সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেননি। তিনি সকলকে নিজের আপন মানুষ ভেবে কাজ করেছেন। কাজের ক্ষেত্রে তিনি কেবল প্রশংসিতই হয়েছেন তা নয়, কখনো কখনো সমালোচিতও হয়েছেন । তবুও আপোস করেননি।
তিনি পৌরসভা হতে শুরু করে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নির্বাচিত ও পরাজিত নেতা এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনঠাসা হয়ে থাকা নেতা-কর্মীদেরকেও কাছে টেনে তাদের নিয়ে পথ চলেছেন। এই গুণাবলি তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে অনেকেই বলেছেন।
এর আগে উপজেলার সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,জন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে তাকে বিদায় সংবর্ধনা জানান। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে তার বিদায় নিয়ে ফেসবুকে বহু আবেগঘন পোস্ট দিয়ে চলেছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
প্রসঙ্গত,রবিবার এখানে নতুন ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছেন মোঃ জাকির হোসেন। তিনি সর্বশেষ মাদারীপুরের কালকিনি ও মানিকগন্জের শিবালয় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইউএনও আজিজুল হককে নিয়ে লেখা গোয়ালন্দ পৌরসভার এ্যাসেসর ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান সেলিমের কবিতা—-
পদ্মা পাড়ে আসলেন তিনি ক্ষনিকেরই তরে; পা খানি রাখলেন শুধুই, বসলেন না মোর ঘরে। আসার পরে হয়নি দেখা পাইনি কোন ডাক, দূর থেকেই শুনেছি তাঁর জয়ধ্বনির ঢাক। কর্তাগিরি কমই করেছেনছিলেন সাধারণ; ভালোবাসায় ভাসিয়েছেন, বিমুগ্ধ জনগণ! সবার সাথেই হাসিমুখে মনের কথা বলেন, অল্পদিনেই অনেক গল্পের জনক তিনি হলেন।আমারও ছিল কত কথা, হলোনা আর বলা; রাজনীতি,সমাজকর্ম আর নিয়ে শিল্পকলা। জানিনা কবে হবে দেখা কথা হবে আর কিনা, নিশীথের আড্ডাটা কখনো জমবেনা তাঁর বিনা! “কোনদিন যদি না হয় দেখা না হয় যদি কথা, বিনয় করে বলি তোমায় রেখোনা মনে ব্যথা। ভালো থেকো প্রিয় মানুষ, মঙ্গলময় হোক দিন; তোমার কাছে রইলো মোদের ভালোবাসার ঋণ।”
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































