রাজবাড়ীতে ১৩টি অনুমোদিত এবং অনুমোদনহীন দেড়শ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার
- Update Time : ০৬:২৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২
- / ৩৯ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
অনলাইনে পরিচালক, হাসপাতাল বরাবর আবেদন করেই রাতারাতি রাজবাড়ীতে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক বনে যাচ্ছেন অনেকেই। রাজবাড়ীর জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে জেলা শহরে মাত্র ১৩টি বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অনুমোদন রয়েছে। বাকি দেড় থেকে দুই শতাধিক বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নেই কোন অনুমোদন। যার অংশ হিসেবে গত ২১ মে তারা অনুমোদনহীন বেসরকারী হাসপাতাল বন্ধের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এরই মাঝে গত বুধবার (২৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ আহমেদুল কবির স্বাক্ষরিত ওই পত্রে বলা হয়েছে, ৭২ ঘন্টার মধ্যে দেশের অনিবন্ধিত বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সমূহ বন্ধ করতে হবে। একই সাথে যে সকল প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে তারা লাইসেন্স প্রাপ্তির আগে কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
রাজবাড়ীর জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের পাঠানো অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। আর যার প্রতিফল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দেখা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, রাজবাড়ী জেলা শহরে মাত্র ১৩টি বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অনুমোদন রয়েছে। আর বাকী দেড় থেকে দুই শত বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার হাওয়ার উপরে চলছে। তাদের প্রতি জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন পদক্ষেপ নেই। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠিান অনলাইনে পরিচালক, হাসপাতাল বরাবর আবেদন করেই রাতারাতি স্থাপন করা হচ্ছে। গত ২০ মে জেলা শহরের বড়পুল এলাকার ১০ তলা আবাসিক ভবনে রাজবাড়ী সেন্ট্রাল হাসপাতাল নামে একটি ক্লিনিকের উদ্বোধন করা হয়েছে। অথচ আবাসিক ভবনে ক্লিনিক স্থাপনের কোন সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শহরে “রাজবাড়ী সেন্ট্রাল হাসপাতাল” চিকিৎসা সেবা পাবার মাইকিং করতে দেখাগেছে।
কোন রুপ অনুমোদন এবং রেজিষ্টেশন না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়ে “রাজবাড়ী সেন্ট্রাল হাসপাতাল” ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাজবাড়ীর বিশিষ্ঠ বালু ব্যবসায়ী দীপক কুন্ডু জানিয়েছেন, কোন ক্লিনিকই সরকারী হাসপাতালের এক কিলো মিটারের মধ্যে এবং আবাসিক এলাকা ও ভবনে স্থাপন করার সুযোগ নেই। এরপরও অনুমোদন পাবার জন্য আমরা আবেদন করেছি। অনুমোদন না পেলে ক্লিনিক চালু করা সম্ভব হবে না। তাহলে সাইনবোর্ড টানিয়ে এবং ক্লিনিক উদ্বোধনের পত্র কেন বিলি করার ঘোষনা দেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এই ভবনে প্রাথমিক ভাবে ৭/৮ জন চিকিৎসক দিয়ে আগত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করছি।
৭২ ঘন্টার মধ্যে দেশের অনিবন্ধিত বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সমূহ বন্ধের নির্দেশনাপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাবার কথা স্বীকার করে রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটোন জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই অনুমোদিত বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার সমূহের অনুমোদন নবায়ন এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে অনলাইনে পরিচালক, হাসপাতাল বরাবর আবেদনকারীদের অনুমোদন নেয়ার জন্য পত্রপ্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনুমোদন না নেয়া হলে তারা তারা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে জেলা কত গুলো অনুমোদিত এবং অঅনুমোদিত বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে তার তথ্য তিনি প্রদান করতে পারেন নি।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































