রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত –
- Update Time : ১০:২২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ মার্চ ২০২২
- / ৪৬ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
টেকসই আগামীর জন্য জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্যপ্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর রাজাবাড়ী এবং সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক) রাজবাড়ীর যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসন ও উপ-পরিচালকের কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, রাজবাড়ীর আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি ও এনজিও ফেডারেশন রাজবাড়ীর সহযোগিতায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমতলা থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসেেকন্দ্র করে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু কায়সার খান, জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ রাজবাড়ী, শাকিলুজ্জামান, পুলিশ সুপার, রাজবাড়ী, ডাঃ মোঃ ইব্রাহীম টিটন, সিভিল সার্জন, রাজবাড়ী, মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সহ-সভাপতি, সনাক, রাজবাড়ী। বেলা ১১ টায় বর্ণাঢ্য র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শেষ হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মাহাবুর রহমান শেখ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন বলেন; নারীরা এখন বিভিন্ন বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, নারীদের উন্নয়নে নারীদের মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে, বর্তমানে নারী শিক্ষার হার আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেঔের উচ্চ শিক্ষার হার খুব সন্তোষজনক নয়। এখন নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত। দেশে উন্নয়ন করতে হলে নারী পুরুষের নায্যতা এবং সমতা নিশ্চিত করতে হবে।
নারী অগ্রযাত্রার গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২২ উপলক্ষে টিআইবির পক্ষথেকে ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের কথা বলা হয় তাহলো- টেকসই উন্নয়ন অজনের কর্মপরিকল্পনায় অভীষ্ট-৫ ও ১৬ কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে দুর্নীতি কমিয়ে আনাসহ সরকারকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জাতীয় পরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিতের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পথরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল প্রকার নারী অধিকার হরণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানকেÑ বিশেষ করে প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার, জবাবদিহিতা ও সার্বিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে রাজনৈতিক দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলসমূহের আমূল সংস্কার করতে হবে। “গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (সংশোধিত) আইন ২০০৯” অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী প্রার্থী মনোনয়ন বাড়াতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলের কমিটিতে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতিটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ন্যয়বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিতে যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নারীদের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিশেষকরে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় অন্যতম প্রতিবন্ধক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধকে মূলধারাভুক্ত করতে হবে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দায় সম্পর্কে নারীদের সচেতন করতে প্রচারণা জোরদার করতে হবে। নারীর নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের আইনি বিধান ও সাজা সম্পকে সচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও স্থানীয় সরকার, আইনি সংস্থা ও বিচারব্যবস্থাসহ নারীরা সেবা নিতে যান এমন প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবাÑ বিশেষ করে নারীদের জন্য প্রদত্ত সেবা সম্পর্কে জেন্ডার সংবেদনশীল পদ্ধতিতে তথ্য প্রচার করতে হবে এবং নারীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সকল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তাসহ একটি নারীবান্ধব অভিযোগ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতিসহ সকল প্রকার আইনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধে ব্যক্তির রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা ও প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে দরিদ্র এবং মেধাবী ছাত্রীদের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়েছে। র্যালি ও আলোচনা সভায় উল্যেখযোগ্য সংখ্যক নারী, শিক্ষার্থী, সাধারণ জনগোষ্ঠি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ,অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, আইনজীবী, সনাক, স্বজন, ইয়েস, ও টিআইবি কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































