বাবুদের প্রতারণের ফাঁদে দৌলতদিয়ার যৌনকর্মীরা,নির্যাতন, অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ –
- Update Time : ০৬:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অগাস্ট ২০২১
- / ৫৩ Time View
শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
দেশের সর্ববৃহৎ গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ভালবাসার লোক তথা বাবুদের হাতে যৌনকর্মীদের নির্যাতন ও সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে এখানে হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনাও রয়েছে বেশ কয়েকটি।
রবিবার দুপুরে এ রকম এক বাবুর হাতে এক যৌনকর্মীকে ব্যাপক মারধর, ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণলঙ্কার হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
ভুক্তভোগী যৌনকর্মী (২২) প্রতিকার চেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ওই বাবুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযুক্ত ব্যাক্তির নাম রফিক সরদার (৩২)।সে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের উম্বার সরদার পাড়ার উম্বার সরদারের ছেলে।
আলাপকালে ওই যৌনকর্মী বলেন, তিনি ঝালকাঠির দরিদ্র পরিবারের সন্তান। ৩ বছর আগে পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে এ পল্লীতে আসেন।তখন থেকেই রফিক সরদারের সাথে তার ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে তাকে বিয়ে করে বাইরে নিয়ে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ সময়ে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা নেয় । সে পল্লীতে সাধারণ একজন বিকাশ এজেন্ট হিসেবে ব্যাবসা করতো। কিছুদিন পূর্বে আমার কাছ থেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে পল্লীতে একটি বাড়ি কেনে।কথা ছিল বাড়ির মালিকানা আমার নামে করবে।কিন্তু সে তা করেনি। এখন সে আরেকটি মেয়ের সাথে একই ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
রবিবার দুপুর ১ টার দিকে সে আমার ঘরে আসে।সে সময় আমি এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমিও প্রতিবাদ করলে সে অমানুষিকভাবে আমাকে মারপিট করে এবং আমার ঘরের মূল্যবান বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ফার্ণিচার ভাংচুর করে। এ সময় সে ঘরে থাকা আমার নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং ৩৯ হাজার টাকা মূল্যমানের ৯ আনা ওজনের দুইটি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। সেইসাথে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করলে সে আমাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত রফিক সরদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি।
যৌনপল্লীর কয়েকটি সূত্র জানায়,পল্লীর অসহায় মেয়েরা একটু ভালবাসা ও সংসার জীবনের আশায় বাবুদের অন্ধের মতে ভালবাসে।তাদেরকে থাকা-খাওয়া, টাকা-পয়সা, ও জীবন-যৌবন বিলিয়ে দেয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা প্রতারনা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সর্বশান্ত হয়।ইতিপূর্বে কয়েকটি মেয়ে বাবুদের হাতে খুন পর্যন্ত হয়েছে। অভিমানে কয়েকটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এখানে।কিন্তু এর কোন ন্যায় বিচার পায় না মেয়েরা।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবির জানান, পল্লীতে বাবুদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই মেয়েদের নির্যাতনের নানা ঘটনা ঘটে থাকে।অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই মিটমাট হয়ে যায়।আমরা ইতিপূর্বে পল্লীকে বাবুমুক্ত করার উদ্যোগ নেই।কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়েরাই বাবুদের পক্ষ নেয়।তবে নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।আজকের অভিযোগটির বিষয়েও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































