“বিশ্বায়ন ও যন্ত্রের যাতনা” – লেখক মোঃ রাজ্জাকুল আলম –
- Update Time : ১১:২০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১
- / ৮৩ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
ক্রম বিবর্তনের ধারায় সৃষ্ট আধুনিক সভ্যতার মূল উৎস globalization বা বিশ্বায়ণ।এটি একদিকে যেমন সভ্য সমাজের কারিগর অন্যদিকে বিশ্বায়নের উপাদানের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার সমাজের মানুষের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর প্রভাব মানুষের পারস্পারিক সাহায্য -সহযোগিতা, সহমর্মিতা, মায়া,মমতা ঐক্যবদ্ধতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। শিল্প সমাজের শ্রম বিভাজনের যাতাকলে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গিয়ে কৃষি বেকারত্ব ও মৌসুমি বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যন্ত্রের ব্যবহারে প্রতিযোগিতামূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে হীতাহীত জ্ঞানশুন্য হয়ে সমাজের মানুষের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা, ব্লাকমেইলিং,অশ্লীলতা,কুরুচিপূর্ণ মনোভাব,বীভৎসতাসহ বিভিন্ন অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড বাড়ছে। তদপরি মানুষ বিষন্নতায় ভুগছে। যন্ত্রের ব্যবহারিক কারুকার্যের(মোবাইল,ল্যাপটপ,টেলিফোন,কম্পিউটার) প্রসারে মানুষের নিজস্বতা, গোপনীয়তা ধুলিসাৎ হয়ে আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটছে। বিশ্বায়নের সৃষ্ট প্রযুক্তির উন্নয়নের ফল ভোগ করতে মানুষ যখনঢেকিছাটার পরিবর্তে মেশিনে কাটা চাউল,ঘানের পরিবর্তে মেশিনে সৃষ্ট তেল,টাটকা খাবারের পরিবর্তে ফ্রিজের খাবার খাচ্ছে তখন মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হেতু মানুষের উচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও ফুসফুসের সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার কারখানার ধোয়া ও শব্দে শ্রবনের, মাথা,চোখ, ত্বক এলার্জি সমস্যা সহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। একইসাথে যান্ত্রিক ত্রুটি, অসাবধানতা ও অপরিকল্পিত ভাবে কারখানা গড়ে উঠায় অনেক সময় বড় দুঘর্টনায় প্রাণহাণি ঘটছে ।
আবার ভারি যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে কুটির শিল্পে জড়িত লোকেরা কাজ হারিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে । তা ছাড়া হাতে তৈরি পরিবেশবান্ধব ব্যবহার্য সামগ্রির (বাঁশ,বেত ও মাটির তৈরী জিনিস) পরিবর্তে প্লাষ্টিক,পলিথিন,সিলভার এর ব্যবহার হচ্ছে যা মানব স্বাস্হ্যের জন্য ক্ষতিকর। সর্বোপরি যন্ত্রের অত্যধিক ব্যবহারে ওজোনস্তর ক্ষয় ও সমুদ্রপৃষ্ঠ উচু হচ্ছে যা পরিবেশের জন্য ভয়ংকর হুমকিস্বরুপ ।আকাশ সংস্কৃতির প্রবেশে ভিনদেশী কুরুচিপূর্ন ছবি বা অনুষ্ঠান দেখে খুনখারাবি, মারামারি, ধর্ষন,বিভৎসতার নানা কৌশল ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রয়োগের অপ চেষ্টায় সামাজিক বিশৃঙ্খলা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে পাশাপাশি পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে নারী নির্যাতন ও বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণ ও বাড়ছে। পুঁজিবাদী সমাজের অবাধ বানিজ্যের সুযোগে শিল্প সমাজের অধিপতিরা পুজি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। ফলে সামাজিক অসমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে যা কাম্য নয়। ইতিবাচক সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্য পরিকল্পিত, সঠিক,নিয়ন্ত্রিত ভাবে যন্ত্রের ব্যাবহারের মাধ্যমে সামাজিক ভেদাভেদ দুরীভূত হয়ে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হোক এই প্রত্যাশা বিশ্বায়িত বিশ্বের নিকট।
লেখক- মোঃ রাজ্জাকুল আলম, সহকারী অধ্যাপক, মীর মশাররফ হোসেন কলেজ, সোনাপুর, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ি।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































