করোনাকালীন সৌদি আরবের সুখ-দুঃখ এবং কিছু বাস্তব স্মৃতি: সাহিদা সুলতানা রীমা –
- Update Time : ০৪:২০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২০
- / ৮৩ Time View
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ ঘন কুয়াশার মত নেমে এলো কোভিড-১৯ পৃথিবীর বহুল বাণিজ্যিক দেশ চায়না হতে। আজও বিতর্কিত, আসলে মহামারি নাকি এটা বাইলোজিক্যাল ইউপেন্স। তবে এর বিষদ এ না গিয়ে সৌদি আরব- এর কিছু চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
শুরুতে বিষয়টা ছিলো অজানা, যুযু বুড়ির ভয়ে থাকার মত অসহনীয় ছিল। এখন অনেক টা সহনশীলতা এসে গেছে সবার মাঝে। করোনাকে সাথে করে চলার ধরন টাও বুঝে উঠেছি সবাই কিছু টা হলেও। করোনায় এ পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থানরত ৫ থেকে ৮ জন বাংলাদেশী চিকিৎসকসহ ৩৭৫ জন বাংলাদেশী মারা গিয়েছেন। বিদায় নিয়েছে কোভিড এ আক্রান্ত আরো কিছু অজানা জীবন। কিছু বেসরকারি ক্লিনিক তাদের নিজেদের টিম পাঠিয়ে নানা প্রতিষ্ঠানের জীবিকারত অবস্থায় যারা আছেন তাদের সোয়াপ সংগ্রহ করে নিয়ে টেস্ট করছে। শুধু মাত্র সেই সব ক্লিনিক গুলো নিচ্ছে ২০০০ থেকে পর্যায়ক্রমে ১,৭০০, ১০০০, ৬০০ (রিয়াল) এ নেমেছে কথা টি সত্য।
তবে বিভিন্ন কোম্পানিতে যারা কর্মরত অবস্থায় আছেন কোম্পানি সেটা বেয়ার করছে ইন্সুইরেন্স এর মাধ্যমে। প্রত্যেক টি শহরে বিভিন্ন হেলথ্ সেন্টার গুলো তে পুরো পুরি ফ্রি তে টেষ্ট করা হচ্ছে। ৮ টি হেল্থ সেন্টার করা হয়েছে রিয়াদ বিভাগএ। প্রথম দিকে মহামারীর দাপট যখন তীব্র ছিল ঠিক তখন বেশ কিছু মানুষ সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে না পারায় অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন।
তাদের মাঝে ভয় ছিল ৯৩৭ কল মানে তার আর ফিরে আসা হবে না বা তার মৃত্যুর পর তার লাশ পাবে না তার আত্নীয় স্বজনরা। অনেক ধরনের ভয় ভীত নিয়ে তারা সরকারী ফ্রি চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হ্যা কথা ঠিক, যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বেশির ভাগ লাশই এদেশে দাফন হয়ে গেছে। আমরা অনেক সময় আবেগ নিয়ে চলি বাস্তবটা বোঝার চেষ্টা করি না। সারা পৃথিবীর কম বেশি মানুষ এর মৃত্যু হয়েছে, আর যেহেতু রোগটি সংক্রমিত তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামান্য কিছু লাশ দেশে ফিরে গেছে তাও শেষের দিকে।
মক্কা তে ৬ বছর আমি থেকেছি, আমাদের ভীষন কাছের একজন ভাই তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হলো। যেহেতু মক্কা শহরে কোন এয়ারপোর্টে নেই, সেহেতু তার মরদেহ জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে হয়। সে একটি ট্রাভেল এজেন্সি তে চকুরী করতেন। তার পরিবার দেশে থাকতো। ৯৩৭ নং এর কথা বলছি। যদিও তখন প্রচুর রাস ছিল তার পর তারা সারা দিয়েছে। সেটা আমার হাজবেন্ড কে দিয়ে বাস্তব ধারনা হয়েছ। একটি দুঃখ জনক ঘটনা! রফিক ভাই, আমাদের ফ্যামিলী ফ্রেন্ড ঠিক আজ থেকে এক বছর আগের কথা রিয়াদ প্যানারোমা মল এর ফুড কোটে অনেক হাসি মজার মাঝে সবাই মিলে রাতের খাবার খেলাম। আমাকে বললো ভাবি আপনার কবিতা আবৃত্তি গান শুনতে চাই, আমি বললাম আমি নিজে শোনার মত ভাই। হাসলেন তিনি। ভাই ঢাকার বাসা তে আসবেন অবশ্যই। ঠিক আছে দেশে গেলে চেষ্টা করবো বাসায় যাওয়ার। একটি ক্যাটারিং কোম্পানীতে সে দীর্ঘ দিন যাবত চাকুরী রত অবস্থায় ছিলেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। তার দু সন্তানই উচ্চ শিক্ষার ধাপে আছে। ঢাকা তে তিনটি ফ্লাট ও আরব ইষ্টালে ডুপলেস্ক বাড়ী ভিডিওতে দেখিয়ে ছিলেন, যেদিন ডিনার করেছিলাম সেই দিন। সে যাই হোক সব ছেড়ে বিদেশ ভূমে প্রাণ ত্যাগ করলেন করনাকালীন সময়। জ্বর, মাথা ব্যাথা ও শ্বাস কষ্ট ছিলো করোনার সিমটমই সব। তবে করোনা সনাক্ত হয় নি তার। তার পরিবার দেশে বসবাস করে। তার অন্তরঙ্গ ব্ন্ধু আনোয়ার সাহেব কয়েক দিন দেখা শুনা করেন তার। আত্নীয় স্বজনরা যারা সৌদিতে আছেন দুঃসময়ে কেউ কাছে আসে নি, হয়তো করনার ভীতিতে তার বন্ধু আপ্রাণ চেষ্টা করেছে নানা হসপিটাল ঘুরে শেষ পর্যন্ত বাথা এলাকায় সেফা হসপিটাল এ ভর্তি করেন। হারা, বাথা এলাকা গুলো বহু বাংলাদেশীদের বসবাসের জায়গা গুলোর মধ্যে দুটো স্থান। যাই হোক তিনি শেষ নিঃস্বাস সেফা হসপিটালে ত্যাগ করেন। এ দেশে দাফন হয়ে যায়। পরিবারের কাছে শেষ ফিরে যাওয়া টাও আর হয়নি। অসুস্থতার ঘোরে তার বন্ধু বা তারা কেউ ই কল করেনি তার টেস্ট করার সুযোগ টি পায় নি।
৯৩৭ এ এমারজেন্সি তে এখন বলবো এই ভুল টি কেউ করবেন না, কল না করে। তার মৃত্যুর পর খবর টি জানতে পারি। কারন আমার হাজবেন্ড যখন করোনা আক্রান্ত হয়। সৌদি জার্মান হসপিটালে টেস্ট সেম্পল দেওয়া হয় দুদিন পরই রেজাল্ট পেয়ে যাই মোবাইলএ, তার রেজাল্ট পজিটিভ ছিল। তার শারিরীক অবস্থা খুব একটা খারাপ ছিল না তবুও ৯৩৭ সে কল দেই। তখন তারা গাইড দিয়েছিল www.moh.gov.sa নির্দিষ্ট সাইডে ফরম পূরণ করে রাখো তোমার অবস্থা বেশী খারাপ হলে আমরা তার ব্যবস্থা নেব। সে তাই করে। তারা ফোন করে তার খবর নিত এমন কি সেরে যাওয়ার পরও জানতে চেয়েছে বিস্তারিত।
জানার ভুলে আর সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন না করে অনেকে চিকিৎসা পায় নি। আমরা না বুঝে বিভিন্ন হসপিটাল ডাক্তার দের গালি গালাজ করি তা মনে হয় পুরো পুরি ঠিক নয়। সে সময় সব হসপিটালে পরীক্ষার কিট থাকতো না বড় বড় সরকারি আধা সরকারি ও কিছু হেলথ্ সেন্টারের মাধ্যমে ব্যবস্থা গুলো রাখা হয়েছিল অন্য সব পেষেন্ট দের মাঝে না জেনে কোন রোগি কে নিতেও ভয় হয়তো পেতো তারা।
সব শেষ এই কথা টি না বলল্লে নয় ডাক্তারী পেশা অনেক মহত পেশা কখনো তাদের দুর ব্যবহার অনেক পরিবার কে আঘাত করেছে। বিশেষ করে নার্সদের সঠিক ভাবে রোগী কে গুরুত্ব না দেওয়া এখানেও ঘটেছে। হয়তো পরিস্থিতি এমন ছিল, সব মিলিয়ে সবার বোঝার বাইরে ছিল।
লেখক-
সাহিদা সুলতানা রীমা।
সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী, বাংলাদেশ।
২৮/৮/২০২০।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































