কোল থেকে দুধের বাচ্চাটি ওরা কেড়ে নিয়ে মেরে ফেললো-
- Update Time : ১১:২০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২০
- / ৮৫ Time View
রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
‘কন্যাসন্তান প্রসব করায় ওরা আমার ওপর অনেক নির্যাতন চালিয়েছে, ভাতের কষ্ট দিয়েছে। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব সহ্য করেছি। শেষে আমার কোল থেকে দুধের বাচ্চাটি ওরা কেড়ে নিয়ে মেরে ফেলল।’ কাঁদতে কাঁদতে গতকাল রবিবার কথাগুলো বললেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বকারটিলা গ্রামের গৃহবধূ কাকলী আক্তার। তাঁর তিন মাসের কন্যাশিশুকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কাকলী বাদী হয়ে গত শনিবার স্বামী রুবেল বেপারী, শ্বশুর ছহোর উদ্দিন বেপারী, শাশুড়ি রুবী বেগম ও ননদ চায়না বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ওই দিন রাতেই রুবী বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার বকারটিলা গ্রামের ছহোর বেপারীর ছেলে রুবেলের (২৮) সঙ্গে একই উপজেলার বেপারীপাড়া গ্রামের কুদ্দুস শেখের মেয়ে কাকলীর তিন বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয়। রুবেল ঢাকায় কাজ করেন। তিন মাস আগে তাঁদের একটি মেয়ে হয়। নাম রাখা হয় রুমা। তবে মেয়ে হওয়ায় নাখোশ রুবেলের পরিবার কাকলীর ওপর নানাভাবে অত্যাচার করে আসছিল বলে অভিযোগ।
গত বৃহস্পতিবার সকালে রুমাকে মেডিক্যাল চেকআপ করাতে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে যান কাকলী। তখন ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন রুবেল। স্ত্রীকে দেখতে না পেয়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। সবার সামনে স্ত্রীকে গালাগাল করেন। পরদিন গত শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নাতনিকে দেখতে বৃদ্ধা শাশুড়ি জহুরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে কাকলীর মা নাজমা বেগম রুবেলদের বাড়ি যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাকলীকে মারপিট করেন রুবেলসহ পরিবারের লোকজন। পরে অনেক অনুরোধ করে নাতনি ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পান নাজমা বেগম। তবে কিছু দূর যাওয়ার পর পরিবারের লোকজনসহ রুবেল তাঁদের পথ রোধ করে রুমাকে জোর করে নিয়ে যান। এর পরদিন শনিবার সকাল ১১টার দিকে রুমার মৃত্যু সংবাদ পান কাকলী ও তাঁর পরিবার। তাঁরা বকারটিলা গ্রামে গিয়ে দেখতে পান, রুবেলদের প্রতিবেশী হায়দার আলীর ঘরের বারান্দায় পড়ে আছে রুমার লাশ। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানাপুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল রবিবার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে রুমার লাশ।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, ‘মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেওয়া তিন মাসের শিশুকন্যা রুমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর তা জানা যাবে।’ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। সৌজন্যে- দৈনিক কালের কণ্ঠ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































