গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা-
- Update Time : ১০:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯
- / ৭০ Time View

আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের বেশীর ভাগ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। এতেকরে এলাকার রোগীদের চিকিৎসা সেবা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকায় এ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি ছিল চিকিৎসক সংকট সমাধানের। বিভিন্ন সময় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের কাছে এই দাবি তুললে তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, সামনে চিকিৎসকদের বড় একটা নিয়োগ রয়েছে, এটা সম্পন্ন হলে এ সংকট আর থাকবে না। কিন্তু সেই নিয়োগের পর গোয়ালন্দ বাসী আশাহত হয়েছে। ২০ জন চিকিৎসকের পদ শুন্য থাকলেও পদায়ন করা হয়েছে মাত্র ৪জন।
ব্যাস্ততম ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান। এ হাসপাতালটিতে স্থানীয়রা সহ রাজবাড়ী সদর উপজেলার বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হয়ে আহতরা এ হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে তারা পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
গোয়ালন্দ উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা গোয়ালন্দ হাসপাতাল ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও চিকিৎসক সংকটে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। হাসপাতালটিতে মোট ২৬ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত ছিল মাত্র ৬ জন। ৪১তম বিসিএস এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ হাসপাতালে মাত্র ৪জন চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া খাতা কলমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন থাকলেও ২০১৫ সাল থেকে ডা. শুভংকর ডেপুটেশনে ঢাকায় কর্মরত আছেন। অপরদিকে, শিশু কনসালটেন্ট ডা. আলাউদ্দিন প্রায় এক বছর ও গাইনি কনসলটেন্ট ডা. ফারজানা ইসলাম প্রায় দেড় বছর কর্মস্থলে আসেন না। এতেকরে এলাকার সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে এসে বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এ হাসপাতালে আধুনিকমানের একটি অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্বেও দীর্ঘদিন যাবত তা বন্ধ রয়েছে। ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। যে কোন ধরনের সামান্য অপারেশনের রোগীরাও বাধ্য হচ্ছেন অধিক খরচে রাজবাড়ী অথবা ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হতে। এতেকরে তারা প্রচন্ড দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেই সাথে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। নদী ভাঙ্গন প্রবণ এ দরিদ্র জনপদে বেসরকারী ভাবেও কোন হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ চিকিৎসক না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সর্বশেষ নিয়োগে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অন্ততপক্ষে ১০ জন চিকিৎসককে এ হাসপাতালে পদায়ন করা হবে। কিন্তু আমরা পেয়েছি চারজন। তিনি আরো বলেন, অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ থাকায় আমরা বাধ্য হচ্ছি প্রসুতি ও অন্যান্য অপারেশনের রোগীকে স্থানান্তর করতে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমরা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি ও মন্ত্রনালয়কে অবহিত করে আসছি।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































