দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আশঙ্কাজনক হারে গমন করছে স্কুল-কলেজের ছাত্ররা –
- Update Time : ০৮:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০১৯
- / ৭৫ Time View
আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
দেশের সর্ববৃহৎ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বড়দের পাশাপাশি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে স্কুল-কলেজগামী কিশোর-যুবকদের। এতে করে তারা অনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আসক্ত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন মাদকে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে ধারালো চাকুসহ আটক করা হয় দুই কলেজকে। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালত দু’জনকে মোট ৮ হাজার টাকা আর্থিক দন্ডের আদেশ দেয়। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্ম কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। আজ যাদের শাস্তি দিলাম, তাদের শিক্ষাঙ্গনে থাকার কথা। অথচ তারা আটক হয়েছে যৌনপল্লী থেকে। আমাদের আগামী প্রজন্মকে সঠিক দিক নির্দেশনা ও অভিভাবকদের আরো সচেতন না হলে এ অঞ্চলের কিশোর-যুবকদের অনেকেই অন্ধকার জীবনে ঢুকে পড়বে। শুধু আজ নয় সম্প্রতি বেশ কয়েকজন কিশোরকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে। এখানে সংশ্লিষ্টদের আগামী প্রজন্মকে রক্ষায় বিশেষ ভাবে কাজ করতে হবে। তা করতে না পারলে ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে দাঁরাবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। এসময় তিনি দন্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
দৌলতদিয়া যৌনপল্লী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, যৌনপল্লীতে আগতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কিশোর-যুবক। যাদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর। স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ জেলা থেকে কিশোর-যুবকরা দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আসে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও এই বয়সের কিশোররা দল বেঁধে পল্লীতে এসে থাকে। আর এখানে আগতরা বিভিন্ন ধরনের মাদকের নেশাগ্রস্থ হওয়া ছাড়াও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
অপরদিকে যৌনপল্লীতে জন্ম নেয়া বেশির ভাগ কিশোর-যুবকরা বর্তমানে মাদকাশক্ত হয়ে পড়েছে। এরা চুরি, ছিনতাই, নারীপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। বাইরের প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী ও নারী পাচারকারীরা তাদেরকে এ ব্যবসায় নামিয়ে দিয়ে নিজেরা ফায়দা লুটছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে একাধিক ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে খুনের ঘটনায় এখানে আগতদের দেহ তল্লাশী করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এরই অংশ হিসেবে ওই দুই যুবকের দেহ তল্লাশী করে ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে আদালত একজনকে ৫ হাজার টাকা ও অপরজনকে ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দেয়।
যৌনপল্লীর শিশুদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কেকেএস’র কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, যৌনপল্লী ও বাইরের কিশোর যুবকরা সঠিক গাইডলাইন ও সুস্থ পরিবেশের অভাবে মাদকাসক্ত, ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জেিড়য়ে যাচ্ছে। তাদের ভবিষ্যত নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে ওদের ভাল পথে আনা যাবে না। আর সেটা না পারলে এক সময় তারা গোটা সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































