দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি পেল ৪ কিশোরী –
- Update Time : ০৬:২৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৮
- / ৪৮ Time View
আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
৯৯৯ নম্বরে ফোন করে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি পেল তিন কিশোরী ও এক তরুনী। গত শুক্রবার ভোর রাতে বন্দিদশা থেকে তাদের ৪ জনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। এসময় দুই নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর রামখন্ড গ্রামের আ. আজিজ মোল্লার মেয়ে রুপা (৪৫) ও কুমিল্লা জেলার চান্দিনা নগর উপজেলার বিটতলা গ্রামের ওহেদ মিয়ার মেয়ে সুমি (৩০)।
উদ্ধার হওয়া ১৮ বছর বয়সী তরুনী জানায়, সে দিনাজপুরের একটি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে। কম বয়সেই সে বাল্যবিয়ের শিকার হয়। তার স্বামী তার অজান্তেই দ্বিতীয় বিয়ে করলে সে রাগে দুঃখে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসে। গত কোববানীর ঈদের আগে সে কাজের সন্ধানে ঢাকা উদ্দেশ্যে ট্রেনে করে কমলাপুর স্টেশনে নামে। কমলাপুর রেলস্টেশনে তার সাথে আলাপ হয় শুভ নামের এক ব্যক্তির। প্রথম দিকে তার কষ্টের কথা শুভকে সে বলতে না চাইলেও শুভ বিভিন্ন ভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তাকে বলে একটি কাজের সন্ধানে সে ঢাকায় এসেছে। এসময় শুভ তাকে জানায়, তার বিউটি পার্লারের ব্যবসা আছে। ইচ্ছা করলে সে সেখানে কাজ করতে পারে। ভালো বেতনের আশ^াস দিলে সে (ওই তরুনী) শুভ’র কথায় রাজি হয়ে যায়। এরপর শুভ তাকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রুপা বাড়িওয়ালীর কাছে বিক্রি করে দেয়। রুপা অপর বাড়িওয়ালী সুমির সহযোগিতায় তাকে আটকে রেখে মারপিট করে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করে। তার সাথে একই কায়দায় আটকে রাখা হয় ১৪, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরো ৩ কিশোরীকে। তাদেরকেও বিউটি পার্লারে চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে শুভ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি করেছে। এরা প্রত্যেকেই এই অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তির পথ খুজতে থাকে।
এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে ওই তরুনীর কাছে আসা এক ব্যাক্তির মোবাইল ফোন থেকে ওই তরুনী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে উদ্ধারের আকুতি জানায়। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ শনিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর রুপা বাড়িওয়ালীর বাড়ি থেকে ৩ কিশোরী ও ১ তরুনীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এজাজ শফী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে চারজনকেই উদ্ধার করা হয়। এসময় ঘটনায় জড়িত দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের পক্ষ থেকে ১৮ বছর বয়সী তরুনী বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করেছে। পলাতক আসামী শুভ’র কোন ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে তার মোবাইল নম্বর জানা গেছে। এ সূত্র ধরেই তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































