বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে অনিশ্চয়তায় গোয়ালন্দের অদম্য মেধাবী জহুরুল –
- Update Time : ০৯:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৮
- / ৪৪ Time View
শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
বাবা একজন বর্গাচাষী। নিজেদের তেমন কোন জায়গা-জমি নেই। এ অবস্থায় প্রায় ৫ বছর আগে বাবা প্যারালাইজড হয়ে গেলে পুরো সংসার এসে পড়ে আমার উপর। তখন আমি ৯ম শ্রেণির ছাত্র। সে অবস্থায় ছোট দুই ভাই ও মায়ের সাথে মিলে অতিকষ্টে আমাদের সংসার চালিয়ে আসছি। পাশাপাশি চলছে লেখা-পড়া। এতোদিন খরচাপাতী কম লাগলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছি। সাথে রয়েছে অসুস্থ্য বাবা ও সংসারের চিন্তা।
সদ্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অধিকারী জহুরুল ইসলাম জহির এভাবেই তার সমস্যা ও সংগ্রামের কথা বলছিলেন। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়ার দরিদ্র কৃষক আ. সালাম ও জোহরা বেগমের বড় ছেলে।
আলাপকালে জহুরুল ইসলাম জানায়, সে গোয়ালন্দ নাজিরউদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে বিজ্ঞান বিভাগ হতে ৪.৮৩ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করে। এরপর ফরিদপুর সিটি কলেজে ভর্তি হয়। কিন্তু পারিবারিক কারণে সেখানে নিয়মিত থেকে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় গত এইচএসসি পরীক্ষায় সে ৩.৮৩ পয়েন্ট পেয়ে পাশ করে। রেজাল্ট আশানুরূপ না হলেও উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নে সে দৃঢ় ছিল। অসুস্থ্য বাবাকে বিষয়টি জানালে তিনি তাদের বর্গা জমি আরেকজনের কাছে ২০ হাজার টাকায় লিজ রেখে টাকাগুলো আমাকে দেন। ওই টাকায় আমি ৩ মাস ফরিদপুরের একটি কোচিং সেন্টারে কোচিং করি। শেষ পর্যন্ত যশোরে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাওয়ার খরচটাও আমি একজনের কাছ থেকে ধার নেই।
জহুরুল আরো বলেন, আমি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ইউনিটের মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অধিকার করেছি। আমার ইচ্ছা সেখানে ফার্মেসী বিষয়ে পড়ালেখা করার। আগামী ৩ তারিখ ভর্তির সময় সূচি শুরু। ভর্তিতে প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো লাগবে। কিন্তু আমাকে টাকা দেয়ার মতো আর কোন ব্যবস্থা আমার বাবার নেই। আমার স্বপ্ন যতো কষ্টই হোক পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং অসুস্থ্য বাবার সুচিকিৎসা ও মায়ের দুঃখ দুর করার পাশাপাশি দেশের সেবা করা।
এ বিষয়ে জহুরুলের বাবা-মা তাদের সন্তানের লেখাপড়ায় সহায়তার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































