বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে জেএসসিতেই ৫৪ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন শেষ –
- Update Time : ০৮:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮
- / ৪৮ Time View
আসজাদ হোসেন আজু, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে। এ উপজেলায় বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে ৫৪ জন ছাত্রীর চলমান জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে। ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় কার্যত এখানেই শেষ হয়ে গেছে তাদের শিক্ষা জীবন। এছাড়া বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীরা শারীরিক ও মানষিক ভাবে মারত্মক স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়ছে। দারিদ্রতা ও সামাজিক নিরাপত্তা ছাড়াও কতিপয় আইনজীবির সহযোগিতা এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সোয় দুই লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত গোয়ালন্দে বাল্যবিয়ে অহরহ সম্পন্ন করা হচ্ছে। পদ্মা নদী তীরবর্তী দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও উজানচর ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হওয়ায় এ সমস্যা প্রকট। এখানে ১২/১৩ বছরের কিশোরী এবং ১৬/১৮ বছর বয়সী কিশোরদের বিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। এক্ষেত্রে সরকারের কঠোর আইন থাকলেও কতিপয় আইনজীবি অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই বিয়ের আইনগত কোন ভিত্তি নেই। আবার অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা বিনা কাবিনে শুধু মৌলভী দিয়ে শরীয়া মতে তাদের সন্তানদের বিয়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে মেয়েদের অভিষ্যত আরো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। এছাড়া মিথ্যা তথ্যদিয়ে প্রাপ্ত বয়ষ্কের জন্ম নিবন্ধন সনদ যোগার করেও বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ায় বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়ার সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হতে চলতি বছর মোট ২,২১৮ জন পরীক্ষার্থী জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১৯৯৮ জন জেএসসি এবং ২২০ জন জেডিসি পরীক্ষার্থী রয়েছে। গত ১ নভেম্বর হতে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় শুরু থেকেই ৭৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ জন মেয়ে ও ২৪ জন ছেলে রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে পরীক্ষা কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, মেয়েদের প্রায় সবাই বাল্যবিয়ের শিকার হওয়ায় ফরম পূরণ করা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে তাদের লজ্জা, স্বামীর অনাগ্রহ ও দারিদ্রতা প্রধান দায়ী। ছেলেরা মূলত পরিবারে অভাবের কারণে কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে।
দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ৪ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জেনেছি মেয়েগুলোর বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছেলেরা কাজের সন্ধানে এলাকার বাইরে চলে গেছে। তিনি জানান, বন্যা ও নদী ভাঙন কবলিত এলাকা হওয়ায় প্রতি বৎসরই এভাবে তার প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তির পর থেকেই ঝড়ে পড়া শুরু হয়। আমরা চেষ্টা করেও রোধ করতে পারছি না।
আক্কাস আলী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দরিদ্র ও অসচেতন অভিভাবকরা মেয়েদের প্রকৃত বয়স গোপন রেখে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া কোন কোন অভিভাবক অসাধু আইনজীবিদের মাধ্যমে এ্যাফিডেভিট করার পর এলাকার মৌলভী দিয়ে বিয়ের কাজ সারছেন। তাদের কোন কাবিন রেজিস্ট্রি হচ্ছে না। এ সকল মেয়েরা আরো অধিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান জানান, অষ্টম শ্রেণিতেই ৭৮ জন ছেলে-মেয়ের ঝড়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। মেয়েদেরকে অবৈধ উপায়ে গোপনে বিয়ে দেয়া হয়। আগে থেকে জানতে পারলে বিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া যায়।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































