গোয়ালন্দে উন্নয়ন মেলায় চেতনার আলো ছড়াচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর’ –
- Update Time : ০৮:১৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১৮
- / ৫৩ Time View
আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ী গোয়ালন্দে উন্নয়ন মেলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলো ছড়াচ্ছে দেশের প্রথম গোয়ালন্দে ব্যাক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর’। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ৩ দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করা হয়। এতে অন্যান্য স্টলের চাইতে ওই যাদুঘর কর্তৃক নির্মিত স্টলে শিক্ষার্থীদের দারুন আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। এখানে বিভিন্ন স্থিরচিত্রের পাশাপাশি বড় পর্দায় প্রদর্শন করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ইতিহাস।
উন্নয়ন মেলায় আগত উজানচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফায়াত হোসেন, মিরাজ শেখ, ইজতিহান মোল্লা, ইলমা আক্তারসহ অন্যান্যরা এসময় বলে, আমরা স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পকে জানতাম না। তা জানার তেমন একটা সুযোগও হয় না। পাঠ্য পুস্তকে আমাদের গোয়ালন্দের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু নেই। আজাকের মেলায় এই আয়োজন থাকায় মুক্তিযুদ্ধকালীন আমাদের এলাকায় বিভিন্ন ঘটনা আমরা জানতে পারলাম।
জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০১ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাটাখালী কাশিমা গ্রামে ব্যাক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ জাদুঘরে প্রদর্শন করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন।
গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস তাঁর নিজ বাড়িতে দুই শতাংশ জায়গার উপর জাদুঘরটি গড়ে তুলেছেন। জাদুঘরে রয়েছে কাজী হেদায়েত হোসেন গ্যালারী, শহীদ আব্দুল আজিজ খুশি গ্যালারী, শহীদ ফকীর মহিউদ্দিন গ্যালারী, ভাষা শহীদ ওয়াজেদ চৌধুরী গ্যালারী। এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমা এলাকার বিভিন্ন রণাঙ্গনের দুর্লভ আলোকচিত্র, যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের কপি, স্থানীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ও পরিচিতি, যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন শতাধিক আলোকচিত্র। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার শত শত দর্শনার্থী উপস্থিত হয়ে প্রতিদিন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারী পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু নাসার উদ্দিন বলেন, ‘আমি গোয়ালন্দে যোগদিয়েই মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর পরিদর্শন করে মুগ্ধ হই। নিভৃত পল্লীতে এ রকম একটি আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। এ কারণে জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে গত দুই বছর যাবত উন্নয়ন মেলায় আমন্ত্রন জানাচ্ছি। এসময় তিনি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরটির উদ্যোক্তা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করে তাদেরকে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই জাদুঘরটি গড়ে তুলেছি। সে লক্ষ্যে এই উন্নয়ন মেলায় এসেছি। তবে জাদুঘরটি পরিচালনায় তেমন কোন সরকারী সহায়তা নেই। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহন করার জন্যও কোন আর্থিক সহায়তা করা হয় না।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































