দৌলতদিয়া ঘাটে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, ওদের থামাবে কে ? –
- Update Time : ০৯:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
- / ৫০ Time View
আসজাদ হোসেন আজু, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
দেশের ব্যাস্ততম গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বেপরোয়া একদল হিজড়া। এরা সিরিয়ালে আটকে থাকা দুরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদের নাজাহেল করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে আসছে। এছাড়া হিজড়ার দল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী চলন্ত ফেরিতেও প্রতিনিয়ত দিচ্ছে হানা।
চাঁদার দাবীতে তারা চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশ্লীল গালিগালাজসহ অঙ্গভঙ্গি করে থাকে। কোন কোন সময় তাদের কেউ কেউ বিবস্ত্র হয়ে মানুষকে নাকাল করে টাকা আদায় করে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায় না। যে কারণে তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অনেকেই বলেন, হিজড়াদের টাকা তোলার বিষয়টিকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন। এ সুযোগে হিজড়াদের টাকা তোলা এখন জোড়পূর্বক চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাটে দুরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহন প্রায়ই দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকে থাকে। এসকল পরিবহনের যাত্রীরা হিজরাদের দ্বারা নাজাহেলের শিকার হন। অনেকেই তাদের হাতে অপমানিত হওয়ার ভয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য হন। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলেও হতে হয় অপমানিত। এদের চাঁদাবাজির ছবি তুলতে গিয়ে ইতিমধ্যে এক সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। এছাড়া ফেরিতে নদী পারাপারের সময় প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের যাত্রীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি জানান, তিনি তার প্রাইভেট কারে ঢাকা থেকে রাজবাড়ীতে ফিরছিলেন। পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে উঠে তিনি তার গাড়ীতেই বসে ছিলেন। এসময় একদল হিজড়া তাদের হাতে থাকা আংটি দিয়ে বিশেষ কায়দায় গাড়ির গ্লাসে আঘাত করে। দ্রুত ড্রাইভিং সিটে বসা তার এক আত্মীয় তাদের হাতে ১শ টাকা দিয়ে দেয়। এরপর তারা ঘুরে এসে তার পাশের জানালার কাঁচে একই ভাবে আঘাত করতে থাকে। তখন মনে হচ্ছিল হয়ত কাঁচটি ভেঙেই যাবে। এসময় তিনি বিরক্ত হয়ে গাড়ির দরজা খুলে বেড়িয়ে এসে ধমক দিলে তারা চিনতে পেরে কিছুটা চেপে যায়। এভাবে দুর-দুরান্তের সাধারন মানুষকে হয়রানি করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে হিজড়ারা বলে তিনি জানান।
সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা যায়, পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাস ৩/৪ ঘন্টা সিরিয়ালে আটকে থেকে দৌলতদিয়া ৩নং ফেরি ঘাটের কাছে পৌঁছালে বাসটিতে হানা দেয় একদল হিজড়া। বাসের প্রায় সকল যাত্রী অপমানিত হওয়ার ভয়ে দ্রুত তাদের চাহিদা মত টাকা দিতে থাকে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাসের সিটে বসে ছিলেন রফিকুল ইসলাম নামের এক যাত্রী। কোলে তার শিশু সন্তান। তার টাকা বের করতে একটু দেরি হওয়াতে তাকে আজেবাজে কথা বলতে শুরু করে হিজরা। দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে বসে থাকায় বিরক্ত হয়ে তিনিও তাদের দু’একটি কথার জবাব দেন। এতে হিজড়ারা তাকে শারীরিক ভাবে লঞ্চিত করতে উদ্যেত হয়। এসময় পাশে থাকা তার স্ত্রী দ্রুত তাদের চাহিদামত টাকা দিয়ে স্বামীকে হিজড়াদের হাত থেকে রক্ষা করে। এ ধরনের ঘটনা দৌলতদিয়া ঘাটে অহরহ ঘটে থাকে। একই ভাবে পাটুরিয়া ঘাটেও সিরিয়ালে আটকে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে হিজড়ার দল টাকা আদায় করে থাকে।
পরিচয় গোপন রেখে হিজড়াদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, তাদের বেশীর ভাগেরই বাড়ি নাটোর ও ঝিনাইদহ জেলায়। স্থানীয় একজন হিজড়া তাদেরকে দৌলতদিয়া ঘাটে এনেছেন। এর বিনিময়ে তাকে প্রতিদিন জনপ্রতি দিতে হয় ৫শ টাকা। এর বেশী প্রশ্ন করলে তারা আর কোন উত্তর দিতে রাজি হয়নি।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চলে আসায় এটা চাঁদাবাজি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে তা অত্যাচারের পর্যায়ে গেলে অবশ্যই এই তৎপরতা বন্ধ করা হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































