দৌলতদিয়ায় বাড়তি টাকা ছাড়া ট্রাক চালকদের মেলে না ফেরির টিকিট –
- Update Time : ১০:০৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮
- / ৪৯ Time View
আসজাদ হোসেন আজু , রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানীর পশুবাহী যানবাহন নদী পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়ায় আসতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্র আরো বেশী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের মাধ্যম ছাড়া ফেরির টিকিট মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে গাড়ী প্রতি ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায় করা হচ্ছে বলে চালকরা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তীব্র নব্য সংকটে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট দিয়ে যানবাহন পারাপার প্রচন্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের উপর। কিন্তু এখানে তীব্র ¯্রােত ও অধিকাংশ ফেরি যান্ত্রিকভাবে দুর্বল থাকায় চাপ সামাল দেয়া কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কোরবানীর পশুবাহী যানবাহনসহ অন্যান্য বাড়তি যানবাহনও চলাচল ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বাড়তি এ চাপ সামাল দিতে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে অলস বসে থাকা ফেরি শাহ মখদুম, এনায়েতপুরী ও ক্যামেলিয়া নামের ৩টি ফেরি গত সোমবার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে নিয়ে আসা হয়। শাহ পরান নামের আরেকটি ফেরিও আজ বহরে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার ছোট-বড় মিলিয়ে এ রুটে ফেরি চলছিল ২১টি। কিন্তু অধিকাংশ ফেরি জড়াজীর্ণ হওয়ায় কখন কোনটি বিকল হয়ে পড়ে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে গত কয়েকদিনের ন্যায় বুধবারও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদী পারের জন্য ঘাটে এসে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। বিকাল নাগাদ যানবাহনের সারি ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিমি বিস্তৃত ছিল। এর মধ্যে ২ কিমি জুড়ে ছিল যানবাহনের দুটি সারি। আটকে থাকা ৫ শতাধিক যানবাহনের মধ্যে ২/৩ দিনেও ফেরির নাগাল পায়নি শতাধিক অপচনশীল পণ্য বোঝাই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। এ ছাড়া যাত্রীবাহী বাস, পশু বোঝাই ট্রাক, কাচামালবাহী ট্রাকসহ জরুরী প্রতিটি যানবাহন অন্তত ১/২ ঘন্টা সিরিয়ালে আটকে থাকার পর ফেরির নাগাল পাচ্ছে। আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রী, চালক ও কোরবানীর পশু প্রচন্ড রোদ ও গরমে দুর্ভোগের শিকার হয়।
অপর দিকে ঘাটে যানবাহন আটকে পড়ার সুযোগ নিচ্ছে সংঘবন্ধ দালাল চক্র। গরুবাহি ট্রাক, কাচামাল এমনকি অপচনশীল পণ্য বোঝাই ট্রাক চালকরা অভিযোগ করেছেন, তারা দালাল ছাড়া সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে টিকিটের নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে ২৫০-১০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা দালালের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। বিনিময়ে তারা গাড়ীতে বসেই টিকিট হাতে পেয়ে যাচ্ছে। চালক ছাড়া কারো হাতে টিকিট না দেয়ার বিধান রয়েছে। দালাল নিয়ন্ত্রণের জন্য কাউন্টার এলাকায় সার্বক্ষণিক ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকলেও দালাল নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না বলে চালকরা অভিযোগ করেছেন। দালালসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রনে কাউন্টারসহ ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলোও সচল হয়নি এখনো।
কুষ্টিয়া থেকে ২০টি গরু নিয়ে আসা ট্রাক চালক আমিরুল ইসলাম ও বেপারী হারেজ মিয়া জানান, তাদের ট্রাকের ৮টি গরু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ট্রাকটি দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল এলাকায় রেখে গরুগুলো নামিয়ে বিশ্রাম দিচ্ছেন। গরুগুলো কিছুটা সুস্থ্য হলে ফের রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। ফেরি পারাপারের ব্যাপারে কথাবার্তা বলছেন বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল হোসেন জানান, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা অগ্রাধিকার দিয়ে গরুর গাড়িগুলোকে দ্রুত ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, বাড়তি টাকা আদায় সম্পর্কিত কোন অভিযোগ তার জানা নেই। তাছাড়া ট্রাক বুকিং কাউন্টার থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই। বাইরে দালালদের কেউ ওই চালক বা বেপারীকে প্রতারিত করে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































