দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পুরনো ফেরিতে আটকে যেতে পারে কর্তৃপক্ষের ঈদ প্রস্তুতি –
- Update Time : ০৯:২৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮
- / ৫১ Time View
আসজাদ হোসেন আজু, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
আসন্ন ঈদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে চলাচলকারী ঘরমুখো মানুষকে নির্বিঘেœ পারাপার করতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ নানান উদ্যোগ গ্রহন করেছে। তবে রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলো বেশীর ভাগই অনেক পুরনো হওয়ায় তা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ন পথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। এই নৌপথে বর্তমানে ১৬ টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি বহরের একমাত্র রোরো (বড়) ফেরি ভাষা শহীদ গোলাম মওলা ছাড়া অপর ১৫ টি ফেরিই ত্রুটিপূর্ন। প্রায়ই এ ফেরিগুলো বিকল হয়ে নদীতে আটকে থাকে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। এছাড়া প্রতিনিয়ত কোন না কোন যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হওয়ায় বন্ধ রেখে পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় মেরামত করা হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষ বলছে ত্রুটিপূর্ন ফেরিগুলো মাঝে মাঝেই পুর্নবাসন করতে হচ্ছে। ভাষা শহীদ গোলাম মওলার মত আর দু-একটি ফেরি বহরে সংযুক্ত করা হলে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা সহজ হতো।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে খান জাহান আলী, ভাষা শহীদ বরকত, আমানত শাহ, শাহ আলী, শাহ মকদুম নামে রোরো (বড়) পাঁচটি ফেরি বহরে যুক্ত হয়। ফেরিগুলো দীর্ঘদিনে হওয়ায় বর্তমানে এই ফেরিগুলো মাঝে-মধ্যেই বিকল হয়ে ভাসমান কারখানায় মেরামতে থাকছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এই ফেরিগুলো এখন বয়সের ভারে আর চলতে পারছে না। তাছাড়া মেরামত করা হলেও কয়েকদিন পর আবার বিকল হচ্ছে। পরবর্তীতে কিছু ইউটিলিটি ফেরি বহরে যুক্ত হলেও সেগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। অনেকটা নতুন ওই ফেরিগুলো যানবাহন পারাপার করছে কোনমতো জোড়াতালি দিয়ে। এখন এই রুটে যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রাখতে আরো কয়েকটি নতুন ফেরির প্রয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ফেরি মাস্টার জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি গুলো দীর্ঘদিনে পুরনো হওয়ায় তা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। সামান্য ¯্রােত বা বাতাস হলেই আর চলাচল করতে পারেনা। অনেক সময় ঘাট থেকে ছেড়ে গিয়ে চলতে না পেরে আবার ফিরে আসে। আবার চলতে গিয়ে স্রোতের কারণে অনেক পথ ঘুরে আসে ঘাটে। এতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘন্টা। এতে তেল খরচও বেড়ে যায় অনেক।
পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এনামুল হক অপু জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী ফেরিগুলো একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের পুরনো, অপরদিকে যতক্ষন কোন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা না দেয় ততক্ষনই অপারেশনে থাকে। যে কোন ইঞ্জিনের চালু থাকার সময়ের পাশাপাশি বিশ্রামে থাকারও একটা সময় নির্ধারিত থাকে। কিন্তু এখানকার ফেরি গুলো সচল থাকলে ২৪ ঘন্টাই যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করে থাকে। এতে করে মেরাতম করা ফেরি গুলো আশানুরূপ সার্ভিস দিতে ব্যার্থ হয়। তিনি আরো জানান, আসন্ন ঈদে চলাচলকারী ফেরিগুলো যাতে সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারে সেই লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। এছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কারখানার সকল শ্রমিকের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া অফিসের ব্যাবস্থাপক (বানিজ্য) সফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৬ টি ফেরি চলাচল করছে। আসন্ন ঈদে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে আরো ৩ টি ফেরি বহরে যুক্ত হবে। এই ফেরিগুলো প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ বছর আগে ক্রয় করা। অনেক পুরাতন হওয়ার কারনে মাঝে মধ্যেই পুনর্বাসন করতে হচ্ছে ফেরিগুলোকে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































