দৌলতদিয়া ঘাটের তিন সমস্যার সমাধান না হলে এবারও ঈদযাত্রায় সঙ্গী হবে দুর্ভোগ –
- Update Time : ০৯:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মে ২০১৮
- / ৫৭ Time View
আসজাদ হোসেন আজু, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বারখ্যাত গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। প্রায় সারা বছরই এ ঘাটে দূর্ভোগ লেগেই থাকে। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে তা অসহনীয় মাত্রায় রূপ নেয়। বিশেষ করে দুই ঈদে এ ঘাট দিয়ে চলাচলকারীরা চরম দূর্ভোগে পড়েন।
বাড়তি মানুষের চাপের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ প্রতি ঈদেই দুর্ভোগ লাঘবে নানান উদ্যোগ গ্রহন করে থাকে। কিন্তু সাধারন যাত্রীদের দূর্ভোগ কখনো পিছু ছাড়েনি। এবারও নৌপরিবহন মন্ত্রী সরেজমিন ঘাট পরিদর্শন করে বিভিন্ন ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী সামাল দিতে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তবে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ফোরলেন মহাসড়কের দুই কিলোমিটার খানাখন্দ সংস্কার, দৌলতদিয়ার ৪টি ফেরিঘাট সর্বক্ষন সচল রাখা ও ঘাটের সংখ্যা আরো বাড়ানো এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অন্তত ২০-২২টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা। এ সকল বিষয় আমলে নিয়ে দ্রুত সমাধান না করলে আসন্ন ঈদেও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে ঈদযাত্রায় সঙ্গী হবে চরম দূর্ভোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট দীর্ঘ দিনের। এ নৌরুটে প্রতিনিয়তই যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ফেরির সংখ্যা বাড়ছে না। তাছাড়া পুরাতন ও লক্কর ঝক্কর ফেরি দিয়ে চলছে যানবাহন পারাপার। সামান্য ¯্রােত বা বৈরী আবহাওয়ায় ঘাটে বসে থাকে ফেরি গুলো। এছাড়া রয়েছে ফেরি ঘাট সমস্যা সেই সাথে বর্তমানে মহাসড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। এ সকল সমস্যার সমাধান না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ ঘরমুখি মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারীজ পর্যন্ত ফোরলেন মহাসড়কের এক পাশের অংশে বিভিন্ন্ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এসকল গর্তের কারণে অনেক সময় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় সৃষ্টি হয় যানজট। মাঝে মধ্যে রাস্তায় যানবাহন বিকল হওয়াসহ উল্টানোর চিত্রও চোখে পড়ে। অপরদিকে বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তে ৪টি ফেরি ঘাটের মধ্যে দুটি ঘাট সচল রয়েছে। বাকি ১ নং ও ৪ নং ফেরি ঘাট আংশিক সচল রয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি বহরে ১৫ থেকে ১৬ টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ চলাচলকারী ফেরিগুলো অত্যন্ত পুরনো হওয়ায় দমকা হাওয়া, তীব্র ¯্রােত, অনেক গুলো রাতে চলাচল করতে পারে না। এতেকরে প্রতিনিয়ত ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হয় নদী পরের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
যানবাহনের চালকরা অভিযোগ করেন, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারীজ পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার ফোরলেন সড়কের এক পাশে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। যার কারণে যানবাহন চলাচলে হচ্ছে নানান সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যায়। এ সময় গর্তে যানবাহনের চাকা পড়ে উল্টে যাওয়া ঘটনা ঘটছে। সড়ক বিভাগ এসব দেখেও আমলে নিচ্ছে না।
একে ট্রাভেলস পরিবহনের সড়ক ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি সংকট দীর্ঘ দিনের। প্রতিদিনই এ রুট দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় ফেরি বহরে ফেরির সংখ্যা বাড়ছে না। বরং বয়স বাড়ছে ফেরিগুলোর। সামান্য ¯্রােত বা বৈরী আবহাওয়ায় ঘাটে বসে থাকে ফেরি গুলো। যার কারণে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে স্থায়ী ভাবে আরো ফেরি ঘাট নির্মান করা হবে। কিন্তু তার কোন লক্ষন দেখছি না। দৌলতদিয়া চারটি ফেরি ঘাটের প্রতিটি ঘাটের র্যাম ও পল্টুনের সমস্যা আছে। যার কারণে ফেরি গুলো যথাযথ ভাবে ঘাটে ভিরতে পারে না।
বিআইডব্লউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে গত ঈদে ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়েছিল। তার পরও বেগ পেতে হয়েছিল। এখন গাড়ীর সংখ্যা আরো বেড়েছে। সে অনুযায়ী ফেরির সংখ্যা বাড়াতে না পারলে ঈদের চাপ সামাল দেয়া কঠিন হবে। এছাড়া দৌলতদিয়ার ৪ টি ফেরি ঘাট সচল রাখার পাশাপাশি আরো দু’একটি ঘাট বৃদ্ধি করা গেলে ভালো হয়। ইতিমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রী আরো ঘাট নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ঈদের আগেই ঘাট এলাকায় মহাসড়ক জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় ইতিমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে চিঠি দিয়েছেন।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দম হোসেন জানান, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ফোরলেন মহাসড়কের এক পাশে রিপিয়ার কার্পেটিং সিলকোডের কাজ আগামী দুই সপ্তারের মধ্যে করে ফেলা হবে। আশা করি আসন্ন ঈদে এখান দিয়ে যানবাহন চলাচলে কোন সমস্যা হবে না।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































