শান্তার স্বপ্নভঙ্গ বাচ্চা জন্ম নেয়ায় এসএসসি‘র শেষ পরীক্ষায় অংশ নেয়া হলো না –
- Update Time : ০২:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১
- / ৪৫ Time View
শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
“স্বপ্ন ছিল এসএসসি পাশ করে কলেজে পড়বো। পরিবারের বোঝা না হয়ে পড়ালেখা শিখে নিজের পায়ে দাড়াব। কিন্তু সেটা হয়তো আর হবে না”– একবুক হতাশা নিয়ে কথাগুলো বলেছেন শান্তা খাতুন (১৬) নামের এক এসএসসি পরিক্ষার্থী।।
শান্তা এ বছর গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাইস্কুল হতে এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সোমবার বাচ্চা জন্ম নেয়ায় সে গত মঙ্গলবারের শেষ পরিক্ষাটি দিতে পারেনি।
শান্তার বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। পেশায় একজন হোমিও চিকিৎসক। বাড়ি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের নুরু মন্ডলের পাড়ায়।
বুধবার দুপুরে সরেজমিন আলাপকালে শান্তার বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন,২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ৯ম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় শান্তাকে বিয়ে দেই।কিছু বখাটে ছেলের উৎপাত হতে রক্ষা পেতে এবং আমার মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের ইচ্ছে পূরন করতে অসময়ে আমরা তাকে এ বিয়ে দেই।বিয়ের পরও সে প্রচন্ড ইচ্ছে শক্তির জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল।এর মধ্যেই ওর গর্ভে সন্তান আসে।অনেক কষ্ট করে সে গত ১৫ ও ২১ নভেম্বরের ইতিহাস ও ভূগোল পরিক্ষায় অংশ নেয়।এরপর ২২ নভেম্বর সোমবার বিকেলে তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।এতে প্রচন্ড শারিরীক দূর্বলতার কারনে সে ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার শেষের ‘পৌরনীতি ও নাগরিকতা’ বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি।
আলাপকালে শান্তা জানান,আমার খুব ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা করার।এসএসসি পাশ করে কলেজে পড়ার। কিন্তু তা আর হলো না। খুব ইচ্ছে ছিল শেষ পরিক্ষাতেও অংশ নেই।কিন্তু শারিরীক দূর্বলতা ও পরিবারের লোকজনের বাঁধায় তা আর হলো না।তবে চেষ্টা করবো আগামীবার আবারো পরিক্ষায় অংশ নেয়ার।কিন্তু পারব কিনা জানি না।আপাতত আমার মেয়েই আমার সব। ওকে ঘিরেই আমার সকল স্বপ্ন।
গোয়ালন্দ উপজেলায় এসএসসির কেন্দ্র সচিব মুহম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর গোয়ালন্দ উপজেলা হতে ১ হাজার ১৪৫ জন পরিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ফরম পূরন করার পরও ১৮ জন ছাত্রী পরিক্ষায় অংশ নেয়নি।আমার ধারনা এদের প্রায় সবাই শান্তার মতো বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক বিষয়।
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্ষ পরিদর্শন করতে গিয়ে জানতে পারি বাচ্চা জন্ম নেয়ায় শান্তা নামের ওই পরিক্ষার্থী শেষ পরিক্ষায় অংশ নিতে পারে নি।বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা চেষ্টা করছি বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে।কিন্তু নানা কারনে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































