রাজবাড়ীর চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের মূল্যবোধ, বন্যা এবং দারিদ্রতা –
- Update Time : ০৯:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২০
- / ৫২ Time View
আজরা জেবিন তুলি, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
বিষের মতোই আবর্তিত হচ্ছে এই মহাজাগতিক সময়। পৃথিবীর আহৃিক গতির প্রতিক্রিয়ায় দিন কেটে যাচ্ছে। ঋতু পরিবর্তনে এখন বর্ষাকাল, বরাবরের মত বন্যার প্রাদুর্ভাব আমার জেলা পদ্মা কন্যা রাজবাড়ীতেও। বৈষিক মহামারি কোভিড ১৯ এ ব্যাপক সংক্রমণের স্বীকার রাজবাড়ী সেই সাথে বন্যায় বানভাসি মানুষ দারিদ্র্য তার চরম সীমায় দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।
মানবতার কল্যান ফাউন্ডেশন রাজবাড়ী জেলা শাখার পক্ষ থেকে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে, সেই ধারাবাহিকতায় পবিত্র ঈদুল আজহায় একে বারে বানভাসি মিজানপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম, কাঠুরিয়া, মৌকুরি ও চর আমবাড়িয়ায় যাই তৃনমুল পর্যায়ে খাদ্যদ্রব্য ও নগদ অর্থ বিতরণের উদ্দেশ্যে। আমাদের এই সকল কাজে সার্বিকভাবে সহোযোগিতা করেছেন মানবতার কল্যান ফাউন্ডেশনের সম্মানিত উপদেষ্টা এবং সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী জেলার-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের একমাত্র কন্যা কানিজ ফাতেমা চৈতি আপা। অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আরো ছিলেন, রাজবাড়ী সন্তান জার্মান সৈয়দ শাকিল ভাই। তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ঈদুল আজহার আগের দিন সফর সংঙ্গী হিসাবে ছিলেন আমি ও আমার টিম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রভাষক আব্দুল রশিদ মন্ডল, আমার আব্বা মুক্তিযুদ্ধা মৃধা ওয়াজেদ আলী। প্রধান শিক্ষক শম্পা প্রামাণিক, রোজা আমার মেয়ে চেতনা এবং আমার ছোট ভাই অরিন সহ আরো ২/৩ জন।
আমাদের নৌকা সোনাকান্দা ঘাট ছেড়ে ঢেউ তুলে এগিয়ে চললো প্রমত্তা পদ্মার বুকে। বলে রাখা ভালো আমাদের গাইড ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
আমরা ছুটে চলছি জাহাঙ্গীর ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রথমে কাঠুরিয়া গ্রামে পৌছাতেই নৌকায় করে একদল মানুষ এলো ত্রান নিতে, তাদের প্রত্যেকের বাড়ি তখন চাল ছুইছুই পানিতে ডুবে আছে কেউ কোন রকম চৌকিতে কেউ বা নৌকায় রাত্রি যাপন করেন। গবাদিপশুর সাথে মানুষের যে আত্বিক বন্ধন এই চর এলাকায় গড়ে উঠেছে তা বর্ননার অতীত। এত কিছু দেখে আমি তেমন আশ্চর্য হয় নি, কারন এমন দৃশ্য হবে এটাই স্বাভাবিক, সেই জন্য প্রকৃত বন্যদূর্গতের কাছে আমাদের ছুটে আসা।
আমি আশ্চর্য ও অভিভূত হয়েছে বন্যদূর্গত হলেও প্রচন্ড পরিশ্রমী এবং খেটে খাওয়া এই মানুষের আত্মসম্মান বোধ দেখে। বছরে ২/৩ মাস পানি এলেও সারা বছর এই চর শুকনো এবং উর্বর, তাই এখানে চাষাবাদ, পশুপালন করেই চরবাসি জীবিকা নির্বাহ করে। যেহেতু বৈরি পরিবেশে তাদের জীবন ধারন করতে হয়, তাই পাড়া প্রতিবেশির সাথে তাদের সম্পর্ক নিবিড়। গ্রামের সাহজ সরল এই মানুষ গুলো এই যুগেও যান্তিক হয়ে ওঠেনি। আমাদের কাছে সেও যেন তারা ভদ্রতার সাক্ষর রাখছেন প্রতি মুহুর্তে। তাদের আত্ম সম্মান বোধ এত প্রখড় যে তারা নিজের জন্য তেমন চাইছেন না। শুধু বলছেন তাদের জানাশোনা অন্য কে কে পেলো না তার হিসাব। আমি অভিভূত এই অসুবিধায় থেকেও তারা নিজেদের জন্য হাত পেতে নিতে কুন্ঠা বোধ করছেন অথচ পরদিন ঈদ তাদের অনেকের ঘরেই শুকনো খাবার পর্যন্ত নেই।
বার বার ই কেবল গলা টা ধরে আসছিল। আমার টিমের প্রতিটি মানুষ যেন আমরা নতুন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হচ্ছিলাম সেই সাথে প্রকৃত মানুষ দেখার সুখ অনুভব করছিলাম। আমার শহুরে জীবনে অভ্যস্ত মেয়ের মুখেও প্রচন্ড রোদ এবং গরম যেন হেরে গিয়েছিল। এ এক অন্যরকম মানবতা যেখানে স্বামী তার স্ত্রী কে বলছে আমাদের লাগবে না অমুক কে দেন সে আলাদা খায় আর আমরা এত কিছু থাকার পরেও প্রতিযোগিতায় মত্ত। সাধারন এই মানুষ মানুষ গুলোর কাছ থেকে অসাধারণ শিক্ষা এবং এক বুক ভালোলাগা নিয়ে তপ্ত রোদে দুপুর ৩ টায় আমাদের নৌকা ঘাটে ফিরলোদিন বয়ে যাবে সেই সংগে রাত ও, এই ভাবে অভিশপ্ত এই বছর ঘুরে আবার শান্তির সুবাতাস বৈ বে। সেই সাথে থেকে যাবে প্রকৃত মূল্যবোধ সমৃদ্ধ বানভাসি এই মানুষ গুলো। যে শিক্ষা আগামিতে জন্য ভোগে নয় ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হোক আমাদের জীবন।
লেখক – মানবতার কল্যাণ ফাউন্ডেশন রাজবাড়ী শাখার সভাপতি, বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত অভিনেত্রী, মঞ্চ ও আবৃত্তি শিল্পী আজরা জেবিন তুলি।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































