রাজবাড়ী জেলার যত ইতিবাচক দিক –
- Update Time : ০৮:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২০
- / ৮৪ Time View
শিপন আলম:
এর আগে ‘রাজবাড়ী কেন একটি পশ্চাদপদ জেলা’ শিরোনামে রাজবাড়ী জেলার পশ্চাদপদতার কারণ হিসেবে ঐতিহাসিক দায়, ক্যারিশমেটিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব, মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের অনুপস্থিতি, চার শক্তিশালী জেলার জাঁতাকলের পিষ্টতা, আমাদের ঐক্য ও আন্তরিকতার অভাব প্রভৃতিকে চিহ্নিত করেছিলাম। কিন্তু এও ঠিক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজবাড়ী জেলা পিছিয়ে থাকলেও এ জেলায় এমন কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে যা অন্য অনেক জেলায় নেই। আজ রাজবাড়ীর সেই ইতিবাচক দিক জানার চেষ্টা করবঃ
(ক) রাজবাড়ী জেলা ভৌগোলিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ জেলা। রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলার সংযোগকারী হচ্ছে আমাদের রাজবাড়ী। পূর্বে গোয়ালন্দ ঘাট থেকে নদীপথে মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার প্রভৃতি অঞ্চলে যাতায়াত করা হত। এমনকি ১৮৫৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন সিপাহি বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার পর শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ-কে এ পথেই রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়। রেঙ্গুনের উদ্দেশ্যে সপরিবারে যাত্রার পূর্বে তিনি গোয়ালন্দ ঘাটে সাত দিন অবস্থান করেছিলেন।
(খ) রাজবাড়ি জেলা মূলত কৃষিনির্ভর জেলা। জেলার শতকরা ৭৩ ভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জেলাটিতে ধান, পাট, আখ, গম, বাদাম, তিল, যব, ভুট্টা, ইক্ষু, পিঁয়াজ, তামাক, ডালসহ প্রায় সকল প্রকার কৃষিজাত পণ্য উৎপাদিত হয়। তাছাড়া কলা এবং মাছ চাষেও এজেলা এগিয়ে়।
(গ) পদ্মা বিধৌত রাজবাড়ীর উর্বর মাটিতে যেমন সকল প্রকার কৃষিজ ফসলের বাম্পার ফলন হয় তেমনি এ মাটির ধুলোবালি গায়ে মেখে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বহু প্রথিতযশা মনীষী যারা শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিকভাবেও সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। বিষাদ-সিন্ধু খ্যাত সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন, কথাসাহিত্যিক মুহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, পাকিস্তানের প্রথম স্পীকার ও আয়ুব সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি তমিজউদদীন খাঁন, মুক্তবুদ্ধি চর্চার পথিকৃৎ সাহিত্যিক কাজী আব্দুল ওদুদ, জাতীয় অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন, সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব) আবু ওসমান চৌধুরী,’মাসুদ রানা’ সিরিজ লেখক- কাজী আনোয়ার হোসেন,স্বনামধন্য সাবেক আমলা ও সাবেক সফল প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হেনা, অঙ্কন শিল্পী রাশিদ চৌধুরী ও মনসুর-উল-করিম, প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ও রবীন্দ্র গবেষক ড. সানজিদা খাতুন, ছড়াকার রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, স্বনামধন্য চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রোজিনা ও বর্তমান সময়ের সাড়া জাগানো নায়িকা শাবনূর, বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম অস্কার বিজয়ী তরুণ বিজ্ঞানী নাফিজ বিন জাফরসহ অসংখ্য খ্যাতিমান সন্তানের জন্ম দিয়েছে রাজবাড়ীর উর্বর মৃত্তিকা।
(ঘ) রাজবাড়ীর সন্তানদের পরম ভালবাসার জায়গা হচ্ছে পদ্মা নদী। এ নদীকে নিয়ে রাজবাড়ীবাসীর গর্বের যেমন শেষ নেই, তেমনি আক্ষেপেরও শেষ নেই। প্রতি বছর অসংখ্য পরিবার পদ্মার করাল গ্রাসে ফসলি জমিসহ বসতভিটে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। তব্ওু পদ্মাকে আমরা ভালবাসি। দেশ বিদেশের যেখানেই থাকি না কেন পদ্মাই আমাদের স্মৃতিকাতর করে তোলে বারবার। কারণ এ পদ্মার স্নেহ স্পর্শেই যে কাটিয়েছি আমাদের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময়। রাজবাড়ীর উত্তরাংশের (বাহাদুপুর থেকে গোয়ালন্দ) পুরোটা জুড়ে বহমান এ খরস্রোতা নদী। পদ্মার কোলে গড়ে ওঠা এ জেলা তাই পরিচিতি পেয়েছে ‘পদ্মা কন্যা রাজবাড়ী’ হিসেবে। দেশের দক্ষিণ বঙ্গের প্রবেশদ্বার ও পদ্মা-যমুনার মিলনস্থল গোয়ালন্দ এ জেলাকে করেছে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট মন্ডিত।
(ঙ) ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে রাজবাড়ী জেলার রয়েছে অনন্য অবদান। ফকীর ও সন্ন্যাস বিদ্রোহের অগ্রপথিকগণ ফকির মজনু শাহ, মুছা শাহ, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী প্রমুখ এ জেলার বেলগাছিতে আখড়া স্থাপন করে এ অঞ্চলে তাদের বিদ্রোহ বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বেলগাছির রথখোলায় ফকীর-সন্ন্যাসীদের আশ্রমস্থল হিসেবে একটি জীর্ণ ঘরকে এখনো চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফরিদপুর অঞ্চল ফরায়েজী আন্দোলন দ্বারা প্রভাবিত হলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে রাজবাড়ী জেলার সোনাপুর, বালিয়াকান্দি প্রভৃতি অঞ্চলে। পীর দুদু মিয়ার নেতৃত্বে রাজবাড়ী অঞ্চলে নীলবিদ্রোহের প্রসার ঘটে। সেসময় তোফাজ্জল হোসেন জজ সাহেব ছিলেন ফরায়েজী আন্দোলনের পৃষ্ঠপোষক। এগুলো ছাড়াও স্বদেশী আন্দোলন, খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন, পাকিস্তান আন্দোলন প্রভৃতি আন্দোলনেও রাজবাড়ী জেলা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তান আমলে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন প্রত্যেকটি আন্দোলনেই রাজবাড়ীর দামাল ছেলেরা প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছে।
(চ) ঐতিহ্যগতভাবেই রাজবাড়ী রেলের শহর নামে পরিচিত। ভারতবর্ষে প্রথম রেলের প্রচলন হয় ১৮৫৩ সালে। রেল প্রচলনের পূর্বেই অর্থাৎ ১৮৫২ সালে বাংলাদেশ সীমানায় রেল লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবিত কলিকাতা ভায়া- কুষ্টিয়া- গোয়ালন্দ হয়ে ঢাকা রেলপথের প্রথম অংশ কলিকাতা-কুষ্টিয়া-কে ১৮৭১ সালের ১ জানুয়ারি গোয়ালন্দ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়। তারপর দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ বন্ধ থাকে। অবশেষে ২০১৩ সালে চালু হওয়া কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথের মাধ্যমে আবার রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। এরপর ২০১৪ সালে চালু হয় পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর সেকশন। ২০২০ সালে ভাঙ্গা-রাজবাড়ী রুটে চালু হয়েছে রাজবাড়ী এক্সপ্রেস যা দিনে চার বার এ রুটে চলাচল করে। এছাড়াও ২০১৮ সালে চালুকৃত গোপালগঞ্জের গোবরা টু রাজশাহী রুটে চালু হওয়া টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস রাজবাড়ীর কালুখালী, পাংশা স্টেশন হয়েই চলাচল করে। বর্তমানে রাজবাড়ীতে রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় ও কারখানা (ওয়ার্কশপ) স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।
(ছ) বাংলাদেশের সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক উত্তাপে অন্য জেলাগুলো যখন জ্বলন্ত উনুন হয়ে ওঠে রাজবাড়ীতে তখনও বিরাজ করে শান্তিময় নীরব পরিবেশ। এমনকি ২০১৩,২০১৪ ও ২০১৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতায় সারা বাংলাদেশ যখন ভয়াল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল তখনও রাজবাড়ী তার স্বভাবসুলভ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেছিল। রাজনীতিকে কেন্দ্র করে মাঝে মাঝে যে ছোটখাটো সমস্যা তৈরি হয় সেগুলোকে উন্নয়নশীল বিশ্বে গণতন্ত্রের গ্রহণযোগ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হিসেবেই ধর্তব্য। রাজনৈতিক কারণে হত্যা, গুম, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর প্রভৃতি এখানে প্রায় নেই বললেই চলে।
(জ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে রাজবাড়ী জেলা অন্য জেলাগুলোর নিকট অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। মুসলমান ও হিন্দু জেলার প্রধান দুটি সম্প্রদায়। কিছু বৌদ্ধ ও অন্য সম্প্রদায়ের লোকও আছে এ জেলায়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য মতে, জেলার মোট জনসংখ্যা ৯,৫১,৯০৬; মুসলিম ৮,৪৭,৬১৬ হিন্দু ১,০৩,৬৬৪ বৌদ্ধ ১৭৩ এবং অন্যান্য ৪৫৩। এককালে এলাকাটি হিন্দু প্রধান এলাকা ছিল। হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে একে অপরের সাথে ভাব ভালবাসার অভাব নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকে। মুসলমানদের বাড়ীর দাওয়াত হিন্দু খায়, হিন্দুর নিমন্ত্রণে মুসলমান তাদের বাড়ীতে যায়। সকলেরই জীবনাচরণ এখানে একসাথে, এক মাঠে, একঘাটে।
(ঝ) রাজবাড়ী জেলার উল্লেখযোগ্য খাদ্যপণ্যের মধ্যে চমচম বিশেষ ভাবে পরিচিত। জেলার নামকরা মিষ্টির দোকান ‘শংকর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’, ‘নির্ম্মল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’, ‘মিষ্টিবাড়ী’ থেকে চমচম দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। তাছাড়া পাংশার ভবেশের দই, শশাঙ্ক চানাচুর প্রভৃতিও যথেষ্ট নামকরা। এগুলো ছাড়াও খেজুরের রস এবং তা থেকে তৈরি গুড়ও বেশ জনপ্রিয়।
(ঞ) রাজবাড়ী জেলায় বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নিত্য কৃষি পণ্যের পর্যাপ্ততা, সবুজের সমারোহ, প্রায় সমভাবাপন্ন আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম প্রাকৃতিক দূর্যোগপ্রবণতা, স্বাদু পানির প্রতুলতা প্রভৃতি কারণে বসবাসের জন্য রাজবাড়ী খুবই অনুকূল জায়গা। এই কারণেই চাকরির সুবাদে যারা রাজবাড়ীতে বিশেষ করে জেলা শহরে পদার্পণ করেন, মেয়াদ শেষে তাদের অনেকেই রাজবাড়ী ত্যাগ করতে চান না।
(ট) আবহমান বাংলার চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতিতেও রাজবাড়ী জেলা অগ্রগামী। জেলার প্রচলিত লোকজ উৎসবের মধ্যে আছে জারিগান, সারিগান, ঘেটু গান, ধোয়াগান,ঢেঁকিনাচ, ছোকরানাচ, কীর্তননাচ, বৃষ্টি নামানোর নাচ, পাচুরিয়া বারুনি মেলা, নলিয়া হরি ঠাকুরের মেলা, লক্ষিকোল বুড়ির মেলা, নৌকাবাইচ প্রভৃতি। আধুনিকতার প্রবল গ্রাসে এগুলোর আবেদন কমলেও এখনও একেবারে হারিয়ে যায় নি।
(ঠ) প্রবাদ-প্রবচন ও ছড়া বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। রাজবাড়ী জেলার মানুষ সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুরাগী হওয়ায় এ মূল্যবান নিদর্শন সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এ জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবাদ হচ্ছে- ‘যে যায় পাবনা, তার নেই ভাবনা’; ‘নামে খায় বেলগাছির গুড়’; ‘এ কয় টাকা লাভ পেলেই আমি বালেকান্দীর ঠাকুর’। উল্লেখযোগ্য প্রবচনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘মাথায় বোঝা কোদালে চাষ, যে বাঁচবে শত সে বাঁচে পঞ্চাশ।’; ‘গড্ডার মা’লো তোর গড়গড়াটা কই, হালের বলদ বাঘে খায়ছে পিঁপড়ে টানে মই।’ ‘অতি বড় হয়ো না ঝড়ে ভাঙে নেবে, অতি ছোট হইওনা ছাগলে মুড়ে খাবে।’; ‘সব নদী খান খান হড়াই নদী সাবধান।’ কিছু উল্লেখ করার মত ছড়া হলো-
১। গড়াই, হড়াই, চন্দনা
চলছে দেখ মন্দনা
চলত যখন চাঁদ সওদাগর
করত সবাই বন্দনা।
২। ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা
বোয়াল মাছের দাড়ি
টিক্কা খান ভিক্ষা চায়
গোয়ালন্দের বাড়ি।
পরিশেষে বলতে চাই, গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষি পণ্যের সমাহার, সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, পদ্মার অপরূপ মায়াবী সৌন্দর্য, অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, মানুষের সরলতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের আপোষহীন মনোভাব, ঈর্ষণীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, চিরায়ত গ্রামীণ সংস্কৃতি প্রভৃতি দেখে মনে হয় বিধাতা রাজবাড়ীবাসীকে পাওয়ার মত অনেক কিছুই দান করেছেন। এখন আমাদের কাজ হবে বিধাতা প্রদত্ত এ অনেক কিছুর আরও সমৃদ্ধি ঘটিয়ে রাজবাড়ী’কে একটি সত্যিকারের রাজার বাড়িতে পরিণত করা। তাহলেই হবে আমাদের কাঙ্ক্ষিত গৌরব, ঈপ্সিত অহংকার।
লেখক: শিপন আলম, প্রভাষক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়







































































































