রাজবাড়ীতে রেলওয়ের ঐতিহ্য পুনুরুদ্ধারের দাবীতে স্মারকলিপি-
- Update Time : ০৭:৩৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯
- / ৪৮ Time View

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রেলপথ উন্নয়ন ও পুনঃঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার পক্ষ থেকে রেলমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ওই স্বরকলিপিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ নূরুল ইসলাম সুজনকে রাজবাড়ীতে স্বাগতও জানানো হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি লাইলী নাহার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডাঃ পূর্ণিমা দত্ত’র স্বাক্ষরিত স্বারকলিপিতে বলা হয়েছে, বৃটিশ শাসিত ভরতবর্ষে রেলপথ চালু হওয়ার কিছু পরেই ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের মাধ্যমে রেলের শহর হিসাবে রাজবাড়ী প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে। ভারত তথা পশ্চিম বাংলার সাথে যোগাযোগের প্রধান পথ হিসেবে গোয়ালন্দ স্টীমার ঘাট এবং রাজবাড়ী রেলপথ পরিচিত হয়ে ওঠে। এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবন জীবিকা, শিল্প-সংস্কৃতির একটা বড় অংশ জুড়েই এই রেলপথের প্রভাব বিস্তৃত ছিল। ক্রমশঃ রাজবাড়ী নদীপথ ও রেলপথ দুদিকেই তার ঐতিহ্য ও অবলম্বন ছারিয়েছে। অথচ যে কোন ভৌগলিক এলাকা উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম তার যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই আপনার সমীপে আমাদের প্রস্তাব, রাজবাড়ী তথা দক্ষিনাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের অপরিহার্য নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু অবশ্যই একটা সময় সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু রাজবাড়ীর থেকে রেলপথে দেশের ও দেশের বাইরে যোগাযোগের বিষয়টি সহজ সাধ্য করা রেল মন্ত্রণালয়ের জন্য ততোধিক কঠিন নয় বলে আমরা মনে করি। তাই এ ব্যাপারে আপনার মন্ত্রণালয়ের আশু পদক্ষেপ গ্রহণ আমাদের প্রত্যাশা।
প্রায় দেড়শো বছর পূর্ব হতে গোয়ালন্দ স্টীমার ঘাট অর্থাৎ নৌপথে এসে সারা দেশের অধিকাংশ মানুষ রাজবাড়ী কলকাতা তথা বাংলাদেশ ভারত যাতায়াত করে এসেছে। ১৯৬৫ সনে এই যোগাযোগ পথটি বন্ধ হয়। কিন্তু ১৯৭১ বাদে অধ্যাবধি রাজবাড়ী থেকে দর্শনা সীমান্ত হয়ে প্রতিবছর ভারতের মেদিনীপুরে তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করে। অর্থাৎ এখানে রেলপথ অদ্যাবধি চালু অবস্থায় রয়েছে। যার সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে অতি সহজে অসংখ্য মানুষের (রোগী-ব্যবসায়ী-ট্যুরিস্ট) ভারতে যাওয়া আসা সহজ ও সুগম করা সম্ভব। আমরা অতি দুঃখের সাথে দেখছি শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী পথটি এড়িয়ে ঢাকা-কলকাতা, যশোর-কলকাতা, খুলনা-কলকাতা ট্রেন চলাচল করছে। আমরা প্রত্যাশা করছি অনতিবিলম্বে ভারত সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের তথা বাংলাদেশ রেলওয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সাপেক্ষে চলতি বছরেই এই রেল মাধ্যম পুনঃ চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সক্ষম হবেন।
যশোর-খুলনা-রাজশাহীর সাথে রাজবাড়ীর আন্তঃযোগাযোগ বিশেষ ট্রেনসমূহর সুযোগ-সুবিধার সার্বিক আধুনিকায়ন এবং রাজবাড়ী-খুলনা পথে পূর্বের মত পৃথক লোক্যাল ট্রেনের ব্যবস্থা ও চালু করা।
রাজশাহী-গোপলগঞ্জ গামী ট্রেনে রাজবাড়ী স্টেশনে আসা যাওয়ার বিরতির অথবা রাজবাড়ী-গোপলগঞ্জ পথে আধুনিক সুযোগসুবিধা সহ ট্রেন চালু করা। রাজবাড়ী-ফরিদপুরের নিত্য যোগাযোগ সহজসাধ্য করার জন্য আর একটি ট্রেনের ব্যবস্থা চালু করা।
বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজবাড়ী ঢাকা যাতায়াতের ট্রেনে নৌপথে মানুষের বিড়ম্বনা কমানোর জন্য যমুনা সেতু বা নির্মীয়মান পদ্মা সেতুর রেলপথ বা সড়ক ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য রাজবাড়ীর সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সুগম করা।
রাজবাড়ী শহরের এক বড় অংশ বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তি। যা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন শ্রেণী, পেশার ব্যক্তি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে বা বেআইনী ভাবে লীজের সম্পত্তিতে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার সার্বিক চিত্র প্রকাশ্যে আনা এবং বেআইনী সকল দখল মুক্ত করে রেলের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে রেলের সম্পত্তিতে ব্যবহার করা। রেলের মাঠকে সুষ্ঠু ভাবে উন্মুক্ত রাখা ও রক্ষণাবেক্ষন করা।
রাজবাড়ীর অন্যতম ঐতিহ্য আজাদী ময়দানকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং রেল কর্তৃপক্ষর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ময়দান বিভিন্ন জনসভার জন্য উন্মুক্ত করা।
আজাদী ময়দানে ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে হল এতদঅঞ্চলের শিল্প সংস্কৃতি বিকাশে একসময় গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘ অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় যা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিজে অথবা শর্তাধীনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সংযোগে এই হলটিকে আধুনিক একটি অডিটোরিয়াম হিসাবে ব্যবহারের উপযুক্ত করা এবং এই রেলওয়ে হল ও তৎসম্মুখের ঐতিহ্যবাহী টেনিস গ্রাউ-ের চারপাশ থেকে সকল রকম অনাকাঙ্খিত দখল মুক্ত করা।ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী লোকোশেডের বন্ধ্যাবস্থা বাতিল করে পুনঃ রেলওয়ে কর্মকান্ডে সচল করা। রেলওয়ের বিভাগীয় সদর দপ্তর রাজবাড়ী শহরেই প্রতিষ্ঠা করা। চালু রেলপথ সমূহে প্রয়োজনীয় পাথর দেওয়া এবং ওভারব্রীজ সমূহ ও রাজবাড়ী রেল স্টেশন আধুনিক করা।
আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার সারাদেশে রেল উন্নয়নের সে কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন আপনার মাধ্যমে সেই সরকারের লক্ষ্য পূরণে রাজবাড়ী জেলা ঐতিহ্যগত কারণেই রেলের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, রেলপথ ও রেলব্যবস্থা ও রেল যোগাযোগ উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়






































































































