পদ্মার ভাঙনে গোয়ালন্দে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি –
- Update Time : ১০:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০১৯
- / ৬৭ Time View

আসজাদ হোসেন আজু, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
পদ্মার ভাঙনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নে কৃষি ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। ভারি বৃষ্টি ও পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন অতিমাত্রায় বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা আশংকা প্রকাশ করছে। গত এক মাসে অন্তত কয়েকশ একর কৃষি জমি বিলীন হয়েছে। শতাধিক পরিবার ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবী।
সরেজমিন ছোটভাকলা ইউনিয়নের পদ্মা তীরবর্তী চর বরাট অন্তারমোড় এলাকায় দেখা যায়, পদ্মা তীরবর্তী আবাদী কৃষি ফসলি জমি ভাঙনের কবলে পড়ছে। ভাঙ্গনের কারণে নদীর পাড় নদী থেকে খাড়া হয়ে গেছে। আবাদী জমির ধান, পাট, সবজি খেত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এছাড়া অন্তার মোড় এলাকার পাকা কার্পেটিংয়ের বাঁধ বা রাস্তার মাথাও ভাঙতে শুরু করেছে। ভাঙন প্রতিরোধে সেখানে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পাথরের ব্লক ফেলছে।
চর বরাট এলাকার নুরু খার ছেলে জসিম খা (৩৫) বলেন, নিজেদের বাড়ির কাছে দুই বিঘার একটু বেশি জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম। এক বিঘার মতো জমির ধান কাটতে পারলেও বাকি আরো এক বিঘা কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় দুই-তিন সপ্তাহ ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি ও পদ্মায় পানি বাড়তে থাকলে নদীর পাড় ভাঙ্গতে শুরু করে। এছাড়া ইতিমধ্যে ভাঙন আতঙ্কে বাড়ি ঘরও অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি।
স্থানীয় সিরাজ খান বলেন, ঘন ঘন ঝড় বৃষ্টির কারণে নদী উত্তাল হয়ে উঠে। এসময় নদীর ঢেউ পারে গিয়ে আঘাত করে। আর তখনই নদীর পাড় ভাঙতে থাকে। এভাবেই গত এক মাসে অনেকের অনেক কৃষি ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন রোধের দাবী জানিয়ে আসছি। এখনই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বর্ষা মৌসুমে আরো অনেক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অপরদিকে পদ্মার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর মজলিশপুর, কাশেমপুর, মহিদাপুর গ্রামের বিস্তৃর্ণ আবাদী জমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। গুরুত্বপুর্ণ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হলেও ঘাটের উজানে ও ভাটিতে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে অসংখ্য পরিবার। এছাড়া দেবগ্রাম ইউনিয়নের কউয়ালজানি ও দেবগ্রামে ফসলী জমিতে ভাঙন শুরু হয়েছে।
ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ইউনিয়নের চর বরাট, ছোট জলো, গোড়া মারা ও কাওয়ালজানির আংশিক মৌজায় ভাঙনের কবলে পড়ছে। ওই চারটি মৌজার পদ্মা তীরবর্তী হওয়ায় অন্তত ৫০ একার আবাদি কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে ভারি বৃষ্টি ও পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে বাতাসের ঢেউয়ে পাড়ে আঘাত হানায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এখনই ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে আরো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার বলেন, ভাঙন রোধে অন্তারমোড় রাস্তার মাথায় আমরা ব্লক ফেলছি। ২০১২ সালে শহর রক্ষা বাধের জন্য তৈরী করা অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার ব্লক ফেলা হচ্ছে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়


































































































