গোয়ালন্দে অপরিকল্পিত খাল খননে ভেঙ্গে পড়ছে সেতু, হুমকিতে রাস্তা ও বসতবাড়ী –
- Update Time : ১০:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- / ৮৩ Time View
রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খাল খননের ফলে রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দেবগ্রাম ইউনিয়নের পিয়ার অালী মোড়ের তেনাপচা এলাকার একটি সেতুর নিচের মাটি ধসে সেতুর মাঝ বরাবর দেবে বন্ধ হয়ে গেছে ভারী যানবাহন চলাচল।
এ অবস্থায় ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে হালকা যানবাহন ও সাধারন মানুষ। সেতুর চতুর পাশে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যে কোন মুহুর্তে ভেঙ্গে পড়তে পারে সেতুটি। এছাড়া সেতু সংলগ্ন খালের পাড়ের মাটি ধসে হুমকিতে রয়েছে গ্রাম্য চলাচলের রাস্তা ও প্রায় শতাধিক বসতবাড়ী।
এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন রাজবাড়ী জেলা শহর, গোয়ালন্দ ও দৌলতদিয়ার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। এবং এটি জনগরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। এখান দিয়ে পরিবহন হয় ওই অঞ্চলের কৃষি জমির অাবাদী ফসল। বর্তমানে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা।
জানাগেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড দেবগ্রাম ইউনিয়নে ছোট নদী খাল খননের অাওতায় ১৭.৭ কিলোমিটার খালের খনন কাজ করেন ২০১৮ শেষ থেকে ২১ সাল পর্যন্ত। খালটি দেবগ্রামের পদ্মা নদী থেকে বসন্তপুর অারিফ বাজার পর্যন্ত খনন করা হয়।
এদিকে ইউনিয়নের তেনাপচা আশ্রয়ণ ইউজেড-আরএইচডি (পিয়ার আলী মোড়) সড়কের তেনাপচা খালের ওপর ২০০২/৩ সালের দিকে বক্স কালভার্ট ধরনের সেতু নির্মাণ করেন। যা এখন ভাঙন হুমকিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির মাঝখানে এবং দুই পাশ ভেঙে দেবে গেছে। সেতুর নিচে একাধিক স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়কের বেশ খানিকটা মাঠিও সরে গেছে। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে মাহেন্দ্র, রিকশা, অটোরিকশা ও মোটর সাইকেলের মতো হালকা যান এবং পথচারীরা আসা যাওয়া করছে। এছাড়া সেতু সংলগ্ন তেনপচা কবরস্থান মুখি খাল পাড়ের রাস্তার অনেকাংশ ধসে হুমকিতে রয়েছে বসতবাড়ী। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্যালাসাইডিং করে রাস্তা ও বসতবাড়ী রক্ষার উদ্দ্যোগ নিয়ে পাইলিং করে রেখেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, বছর দুয়েক আগে খালটি বেকু (স্ক্রেবেটর) দিয়ে খনন করা হয়। ওই সময় পর্যাপ্ত জায়গা ও ঢালু না রেখে মাটি কাটায় অাজ ব্রীজটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। এখন ঝুকি নিয়ে সবাই চলাচল করছে। অটোরিক্সার যাত্রীরা নেমে হেটে ব্রীজ পার হয়ে অাবার অটোতে ওঠেন। দ্রুত ব্রীজটি নতুন করে করা প্রয়োজন। এছাড়া বর্ষাকালে খাল দিয়ে পানি প্রচণ্ড বেগে পানি প্রবেশ করায় এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে খালের দুই পাশ ধসে পড়ে। সে সময় বেশ কয়েকটি পরিবার অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়। এখনও গ্রাম্য চলাচলের রাস্তা ও শতাধিক বসতবাড়ী ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। রাস্তা ও বাড়ী-ঘর রক্ষার্থে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অাসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খননে তেনাপচার সেতুর নিচে দিয়ে পানি প্রবেশ করে মাটি সড়ে গিয়ে সেতুটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সেতুটি মেয়াদকাল অারও বেশি ছিল। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খননের ফলে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেই সাথে ওই এলাকার রাস্তা ও বসতবাড়ী হুমকির সম্মুখিন রয়েছে। রাস্তা, বসতবাড়ী, কবরস্থান রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডে অাবেদন করে প্যালাসাইডিং করে রাস্তা নির্মানের উদ্দ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রোকৌশলী ক্ষতিগ্রস্থ সেতু পরিদর্শনের পর সেতুটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে ওইস্থানে অাকেটি নতুন সেতুর প্রকল্প করে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এ সেতুটি অতান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। সবার স্বার্থে দ্রুত সেতুটি হওয়া প্রয়োজন।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অাবু সাঈদ মন্ডল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খাল খননের ফলে দেবগ্রাম ইউপির তেনাপচা এলাকার কয়েক কিলোমিটার খালের পাড় ধসে পড়ে বাড়ী-ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেই সাথে পিয়ার অালী চেয়ারম্যান এলাকার খালের ওপর ২০০২/৩ সালের দিকে নির্মিত ব্রীজের নিচের মাটি সড়ে ব্রীজের চারপাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ব্রীজটির দুই পাশের সড়ক এলজিইডির। সঙ্গতকারণে এলজিইডি ওই স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ ব্রীজটি অপসারন করে একটি নতুন ব্রীজ নির্মানের প্রক্রিয়া গ্রহন করেছেন। অাশা করছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রীজ নির্মানের কাজ শুরু হবে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রোকৌশলী অারিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ সেতুর এলাকায় তারা ডিজাইন লেভেলে না গিয়ে সতর্কতার সঙ্গে খনন কাজ করেছেন। কিন্তু ওই জায়গাটি সংকীর্ণ। এবং মাটি দূর্বল হওয়ায় খালে নেমে অাসার অবস্থা হয়েছিল। ওগুলো রক্ষার্থে গত বর্ষায় অস্থায়ী প্যালাসাইডিং ও প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করেছেন। সেতুটির স্থান দূর্বল ছিল, বিষয়েটি ওই সময় উপজেলা প্রোকৌশলীকে জানানো হয়েছিল। তবে খননের কারণে সেতু ও খাল এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
পাঠক প্রিয়



































































































