শোক দিবসে বহরপুর কলেজে মডেল টেষ্ট পরীক্ষা ! তদন্ত কমিটি গঠন

সোহেল রানা :

শুক্রবার ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সেখ মজিবুর রহমানের ৩৯ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। এ দিনটিতে সরকারী ছুটি থাকলেও খোদ আওয়ামীলীগ নেতার নেতৃত্বে পরিচালিত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর কলেজে তা মানা হয়নি। এ দিন ওই কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ শ্রেনীর মডেল টেষ্ট পরীক্ষা। যদিও এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভর সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই এক সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই কমিটি বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানাগেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে বহরপুর কলেজের অধ্যক্ষ ওহিদুল হক দ্বাদশ শ্রেনীর সমাজ বিজ্ঞান, রসায়ন, ব্যবসায় উদ্যোগ লিখিত ও নৈমেত্যিক ১০০ নম্বরের পরীক্ষা গ্রহন করেছেন। তবে পরীক্ষা শেষ হবার পর বিষয়টি উপজেলার প্রায় সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে আসে। অনেকেই এ ঘটনাকে গর্হিত অন্যায় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মতিন ফেরদৌস জানান, তার মেয়ে নওরিন বহরপুর কলেজের ছাত্রী। সে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত কলেজে অবস্থান করে এবং পূর্ব নির্ধারিত মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে।
ওই কলেজের অধ্যক্ষ ওহিদুল হক বলেন, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ করাতে মাত্র ১০ মিনিটের একটি এম সি ইউ পরীক্ষার নোটিশ প্রদান করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসার পর তাদের নিয়ে দিনব্যাপী শোক দিবসের আলোচনা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃতিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। তবে তিনি পরীক্ষা গ্রহণের কথা অস্বীকার করে এটাকে চক্রান্ত বলেও দাবী করেন।
যদিও এক ঘন্টার পরীক্ষা গ্রহণের কথা স্বীকার করে ওই কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হান্নান মাষ্টার জানান, জাতীয় শোক দিবসে পরীক্ষা গ্রহণ করার তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আগে তিনি জানতেন না। তবে পরীক্ষা শেষে বিষয়টি তার কানে আসে এবং তিনি কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা পান। তিনি বলেন, জাতীয় শোক দিবসে পরীক্ষা গ্রহণ করা ঠিক হয়নি। তবে যেহেতু বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন অবহিত হয়েছেন, ফলে তাড়াই এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান জানান, বিষয়টি জানার পর পরই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদকে আহবায়ক করে এক সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ইতোপূর্বে শিক্ষার মানবিস্তারে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারী ছুটির দিনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তাছাড়া জাতীয় শোক দিবসের এ বিশেষ দিনে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি বেদনা দায়ক। যে কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।

(Visited 22 times, 1 visits today)