রাজবাড়ীতে ব্যবসায়ীর দুই লাখ টাকা ছিনতায়ের অভিযোগ, কলেজ শিক্ষক ও বিএনপি নেতাসহ দুই জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

DSC0===8857

রাজবাড়ীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর দুই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ব্যবসায়ীর দেখানো মতে রাজবাড়ী থানা পুলিশ গত সোমবার সকালে এক কলেজ শিক্ষক এবং এক বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
সোমবার সকালে রাজবাড়ী থানায় অবস্থানরত নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের চরকাশিম নগর গ্রামের ডাঃ আব্দুল সাত্তারের ছেলে মাইনুল হোসেন বলেন, তিনি একজন পুরাতন অচল বাস ও ট্রাক ক্রয়-বিক্রয়কারী। তিনি গত ৬ আগষ্ট সকালে রাজবাড়ীতে আসেন। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি স্থানীয় কামরুল, ইউসুফ ও জামালের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা তাকে জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা অচল একাধিক পুরাতন ট্রাক কেনার জন্য নিয়ে যায়। তবে দর-দামে না মেটায় দুপুরের দিকে তিনি রাজবাড়ীর বাজারের ইসলামী ব্যাংক শাখা থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। সেই সাথে জেলা শহরের বড়পুল এলাকায় একটি খাবার হোটেলে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকাল ৩ টার দিকে ওই টাকা নিয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে যাবার জন্য একটি মাহেন্দ্রতে (থ্রি-হুইলার) ওঠেন। সে সময় ওই মাহেন্দ্রতে বেশ কয়েকজন যাত্রীও ছিল। তাদের বহনকারী মাহেন্দ্রটি রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কের জেলা সদরের আলীপুর ইউনিয়নের আলাদীপুর জামাই পাগলের মাজার গেট অতিক্রম করতেই একটি নোহা মাইক্রোবাস তাদের গতিরোধ করে এবং মাইক্রোবাস থেকে নেমে আসা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে ওই মাহেন্দ্র থেকে জোর পূর্বক মাইক্রোবাসে তোলে। ওই ব্যক্তিরা তাকে মাইক্রেবাসে তুলে চোখ বেঁধে ফেলাসহ তার হাতে একাধিক হান্ডকাপ লাগিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে কাছে থাকা দুই লাখ টাকা তারা ছিনিয়ে নেয় এবং ফরিদপুর জেলা শহরের বাইপাস এলাকার নির্জন রাস্তার পাশে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায়। সে সময়ই তিনি ফরিদপুর র‌্যাব কার্যালয়ে যান এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রাজবাড়ীতে ফিরে এসে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। থানা পুলিশের সদস্যরা তার কাছ থেকে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তাকে ছিনতাইকারীদের চিনিয়ে দেবার জন্য বলেন। যে কারণে তিনি ঘটনার পর থেকেই রাজবাড়ীতে অবস্থান করে ছিনতাইকারীদের খুজতে শুরু করেন।
রাজবাড়ী থানার এসআই এনছের আলী বলেন, ব্যবসায়ী মাইনুল হোসেনের দেখানো মতে সোমবার সকালে রাজবাড়ী জেলা শহরের ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের শরীরচর্চা বিষয়ক শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে এবং সদর উপজেলা বাস্তুহারা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
আটক হওয়া ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের শরীরচর্চা বিষয়ক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ব্যবসায়ী মাইনুল হোসেনকে কখনো দেখেননি। তাছাড়া ঘটনার দিন রাতে স্ব-পরিবারে রাজধানী ঢাকা থেকে তিনি রাজবাড়ীর গ্রামের বাড়ী ফিরে আসেন। অথচ পুলিশ সদস্যরা ঘটনার কোন রকম যাচাই-বাছাই না করে তাকে আটকের পর থানায় নিয়ে আসে।
ডাঃ আবুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল বলেন, শিক্ষক সাইফুল ইসলাম একজন নিরিহ ও সম্মানিত ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে কখনো কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ তারা পাননি। অথচ তাকে কোন কারন ছাড়াই হয়রানি করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) জহুরুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সাথে আটকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয় গুলো যাচাই-বাছাইয়ের পরই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(Visited 35 times, 1 visits today)