নেহাল আহমেদ-এর এক গুচ্ছ কবিতা

যদি ঈশ্বর হয়ে উঠি কখনো

0000
অন্যদিন ভেসে যাক মেঘের মনো স্বপ্ন
এর পর তুমি যদি চিনতে না পারো
এই পরিচিত রাষ্ট্র নাগরিক কোলাহল
আমি অবাক হবনা।
সারিবদ্ধ বুটের আওয়াজ পরিত্যক্ত পতিতালয়
আর শুকনো বৃক্ষের এ উদ্যান
যদি আরো স্তব্ধ হয়ে যায়
আমি কোন কৈফিয়ত চাইবো না
দীর্ঘ সন্ধ্যার মতো কিংবা ভূল আয়োজনে
কখনো যদি ঈশ্বর হয়ে উঠি
চেয়ে নেব এই সামাজিক হিসাব॥
সম্পর্কের ইতিবৃত্ত
তোমার চলে যাওয়া মতো এইযে ঝড়াপাতা
এই সব ঝড়াপাতা দেখে শিখছি
সম্পর্কের ইতিবৃত্ত।
আর পাখিদের কিচিরমিচির অথবা খুনসুটি
এর মাঝে আমাদের গভীরতম ভালোবাসা
যখন অপ্রকাশিত শব্দগুলো
ধানের মাঠে আলস্য নিয়ে শুয়ে থাকে
সারিসারি জীর্ন ভাবনার মতো
আর হৃদয়ের কাছ থেকে কেবই দূরে সরে যায়।
তখন অমনযোগি ছাত্রীর মতো কেউ একজন বলে
অপেক্ষা করো–॥

তোমার নামের প্রতিধ্বনি
তোর কাছ থেকে ফিরে এসে
আমি সেই পুরনো স্বপ্ন কিংবা সাইবেরিয়া থেকে
উড়ে আসা বিবর্ণ বাতাস
ঈশ্বরের চর্চাপদের শরীর কিংবা অনিচ্ছার দৃশ্যপট।
তবু কেন যে মনে হয়
প্রতিবাদী চোখের ভাষা গুলি
উপেক্ষা করে ঘুরে দাঁড়াই।
পোষ্টারে ব্যানারে সারা শহর জুড়ে ছেয়ে যায়
এই সব নিষিদ্ধ প্রর্তিকৃতি।
তবু এই ভরা ভাদ্রের আকাশ খুজে পায়না নিমগ্ন বৃক্ষ।
আহারেÑ
এই সব ভুল মানুষের মিছিল
দিকভ্রান্ত মেঘ
আর তোমার মৌনতা
আমাকেই শুধু ফিরিয়ে দেয়।
এতো কষ্ট করে সাজানো নৈব্যেদ্ধ
গ্রহন করো না কেন ঈশ্বর।
আর অনিশ্চিত শব্দের মতো
তোমার নামের প্রতিধ্বনি ॥
সময় কোথায় বিনিতা
এ শহরে যখন এসে দাঁড়াই
চারিদিকে তখন যুদ্ধের ডামাডোল
পাখিগুলো গান ভুলে দারুন উৎকণ্ঠায়
সারি সারি ছায়াগুলো বিষন্নতা মেখে
শুয়ে আছে পরিচিত রাস্তায়।
ফারুক আসবে যশোর থেকে
মারাতœক মারনাস্ত্র নিয়ে
আমাকে শেখাতে হবে কেমন করে
গ্রেনেট-এর পিন খুলে
শক্রদের দিকে ছুঁড়ে দিতে হয়।
রাইফেলের ট্রিগারে আঙ্গুল রেখে
মায়ের মুখ মুখস্ত করতে নেই।
বাবারে দরাজ গলার আজান এর মত
ঘুম ভাঙ্গাতে হবে এ শহরের মানুষের
বিনিতা, সময় কোথায়
তোমার প্রথম শাড়ী পড়া দেখার ॥

(Visited 70 times, 1 visits today)