ঈদ সামনে শুরু হয়েছে শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

2

শুরু হয়ে গেছে ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাজনীতি। ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে রাজবাড়ী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোতে শোভা পাচ্ছে ঈদ শুভেচ্ছা’র ব্যানার, পোষ্টার, প্লাকার্ড। পৌর নির্বাচনের বছর দেড়েক বাকি থাকলেও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা এরই মধ্যে জানান দিতে শুরু করেছেন নিজেদের উপস্থিতি। পৌরসভার বাসিন্দাদের জন্য িিটাঙিয়েছেন শুভেচ্ছার রঙ্গিন পোষ্টার ও প্লাকার্ড। নিজেদের কর্মী, সমর্থকদের চাঙ্গা রাখতে আর রাজনীতির ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ ধরে রাখতে পিছিয়ে নেই বড় দলের রাজনৈতিক নেতারাও। তাদের ব্যাপ্তিটা একটু বেশিই, জেলার বা নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রায় পুরোটা জুড়েই সেঁটে দেওয়া হয়েছে শুভেচ্ছা বার্তা।

জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পাওয়া গেলো এমনই চিত্র। রাজবাড়ী পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেছেন পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর সেখ তিতু। তার বাইরে নির্বাচনী দৌড়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হোদায়েত হোসেন সোহরাব, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসেন। পিছিয়ে নেই দলীয় শক্তিতে আওয়ামী লীগের চীর প্রতিদ্বন্দ্বি দল বিএনপি’র সম্ভব্য প্রার্থীরাও। জেলা বিএনপি’র যুগ্ন-সম্পাদক রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি গাজী আহসান হাবিব, রাজবাড়ী পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এহসানুল করিম হিটু। এর বাইরেও ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতাদের ঈদ শুভেচ্ছার পোষ্টারও শোভা দিচ্ছে দেওয়ালে দেওয়ালে।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হোদায়েত হোসেন সোহরাব, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি দলীয় প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। যে কারণে পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোষ্টার ও প্লাকার্ড টানিয়েছেন। তার আতœবিশ্বাস দল তাকে রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মনোনিত করবে এবং তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর সেখ তিতু বলেন, পুরাতন প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা করতে পারেননি। তাকে তরুণ প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলে সে মেয়র নির্বাচিত হবেন বলে জানান।

জেলা বিএনপি’র যুগ্ন-সম্পাদক রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি গাজী আহসান হাবিব বলেন, তাকে দলীয় প্রার্থী মনোনিত করা হলে মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজবাড়ী পৌরবাসীর আমূল উন্নয়ন ঘটাবেন।

তবে বর্তমান মেয়র ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এবং সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর কোন শুভেচ্ছা বার্তা এখনও চোখে পড়েনি। যদিও নির্বাচনী ময়দানে এ দু’জনকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি জানেন সবাই। সর্বশেষ নির্বাচনেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মোহাম্মদ আলীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তোফাজ্জেল হোসেন।

শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরাও। এদের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সহ-সভাপতি এডঃ আসলাম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন মিল্টন, রাজবাড়ী সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শওকত হাসানরা তাদের শুভাকাঙ্খিদের ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন।

জেলা শহর ছাড়াও উপজেলাগুলোতেও রাজনৈতিক দলের নেতাদের শুভেচ্ছা পোষ্টার সাঁটার খবর পাওয়া গেছে। পৌর এলাকা ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য হতে আগ্রহীরাও তাদের ভোটার ও শুভাকাঙ্খিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে তাই জমে উঠেছে ঈদ সামনে রেখে শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাজনীতি’। শুধু স্থানীয়রাই নন বরং প্রবাসে এবং কাজের সুবাধে দেশের নানা স্থানে থাকা রাজবাড়ীবাসীরা ঈদে বাড়ি ফিরে আসায় এই সময়টিকেই নিজেদের পরিচিতির জন্য বেছে নেন রাজনীতিকরা।

(Visited 108 times, 1 visits today)