দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে চার মাস পর শিশুসহ মা উদ্ধার

আজু সিকদার :

দীর্ঘ চার মাস দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা করানো ২০ বছরে এক মহিলা ও তার দেড় বছরের কন্যা শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিনগত রাতে যৌনপল্লীর নাজমা ও সাথী বাড়িওয়ালীর বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এসময় সাথী বেগমকে আটক করে পুলিশ। নাজমা বাড়িওয়ালী ওই শিশুটিকে জিম্মি করে অসহায় মাকে যৌন পেশায় লিপ্ত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানাযায়, গত বৃহস্পতিবার মেয়েটির কাছে আসা এক খদ্দেরের মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে তার বাবাকে ফোন করে তার অবস্থান জানায়। এরপর গত শুক্রবার তার বাবা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় এসে অভিযোগ করলে এসআই ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমা বাড়িওয়ালীর বাড়ি থেকে ওই মেয়েটিকে এবং সাথী বাড়িওয়ালীর বাড়ি থেকে তার শিশুটিকে উদ্ধার করে। পুলিশ এসময় সাথী বাড়িওয়ালীকে আটক করতে পারলেও নাজমা বাড়িওয়ালী পালিয়ে যায়।
থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী আড়াই বছর আগে তার মেয়েকে আলী মিয়া নামের এক গাড়ি চালকের সাথে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের এক বছর পর আলী মিয়া একটি মেয়ে হওয়ার পর তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকে সে বাবার কাছেই থাকত। গত সেপ্টেম্বর মাসে স্বামী পরিত্যাক্তা ওই মা তার শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধে ঘুরতে আসে। এসময় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালী ও নারী পাচারকারী নাজমা বেগম তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। নাজমা ওই স্বামী পরিত্যাক্তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ফুঁসলিয়ে তাকে ফরিদপুরে ভালো বেতনে চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখায়। কিছু না বুঝেই তার কথায় রাজি হয়ে হন। ফরিদপুরের যাওয়ার কথা বলে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নাজমা ওই মেয়েটিকে তার বাচ্চা সহ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আটকে ফেলে। এরপর শিশুটিকে জিম্মি ও তাকে শারীরিক নির্যাতন করে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত হতে বাধ্য করে। পরে বাড়িওয়ালী নাজমা ওই শিশুটিকেও সাথী নামের অপর এক বাড়িওয়ালীর নিকট বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে ওই মেয়ে ও তার শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদি হয়ে মানব পাচার আইনে নাজমা ও সাথী বাড়িওয়ালীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। এরমধ্যে সাথীকে গ্রেফতার করে আদালতে এবং ভিকটিমকে ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য রাজবাড়ী পাঠানো হয়েছে।

(Visited 29 times, 1 visits today)