শহীদ খুশি’র পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি, ডিসি, এসপিসহ মুক্তিযোদ্ধারা

আল মামুন আরজু :

রাজবাড়ীর প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশি

রাজবাড়ীর প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশি

রেলওয়ে কলোনীতে বসবাসরত মুক্তিযুদ্ধে রাজবাড়ীর প্রথম শহীদ আব্দুল আজিজ খুশি’র পরিবারের সদস্যদের উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে ওই নোটিশ প্রদানের পর রাজবাড়ী রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এর অংশ হিসেবে ওই পরিবারটি যাতে নির্বিঘেœ বসবাস করতে পারেন সে জন্য রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ মুক্তিযোদ্ধারা পাশে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভা। ওই সভায় এ উচ্ছেদ নোটিশ প্রত্যাহার করাসহ খুশি’র পরিবারের সদস্যরা যাতে নির্বিঘেœ ওই কোয়ার্টারে বসবাস করতে পারেন সে বিষয়টি পরিস্কার ভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী, পুলিশ সুপার তাপতুন নাসরিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
জানাগেছে, রাজবাড়ীর প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ খুশি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। তার এ বীরত্ব¡পূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে রাজবাড়ীর ঐতিহাসিক রেলওয়ে ময়দানের নামকরন করা হয়েছে “বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ খুশি রেলওয়ে ময়দান”। এ ময়দানের পাশে থাকা রাজবাড়ী রেলওয়ের এল ই-২৫৭ নং পরিত্যাক্ত কোয়ার্টারে তার পরিবারের সদস্যরা সদস্যরা বসবাস করে আসছেন। অথচ শহিদ মক্তিযোদ্ধা এ পরিবারটিকে মহান বিজয়ের মাসেই উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করেছেন রাজবাড়ীর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নোটিশ পেয়ে দিশেহারা পরিবারটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, রাজবাড়ী ১-২ ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। যে কারণে গত ১৬ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের বাসভবনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এ উচ্ছেদ নোটিশটি। সে সময় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের দাবীর মুখে অতিথির আসনে বসে থাকা প্রধান অতিথি ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা খুশির সহযোদ্ধা যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি, কাজী কেরামত আলী এমপি, কামরুন্নাহার চৌধুরী লঅভলী এমপিসহ অন্যান্য যুদ্ধকালীন কমান্ডারগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে তারা জেলা প্রশাসককে এই সম্মানিত পরিবারের নামে এই কোয়ার্টারটি প্রতিকি মুল্যে বরাদ্দ দেওয়ার তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা। সভার শুরুতেই ওই বিষয়টির অবতারনা করেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এডঃ এমএ খালেক। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজবাড়ীর এইএনকে প্রশ্ন করেন, রাজবাড়ীতে শত শত কোয়ার্টারে অবৈধ পরিবার বসবাস করলেও এই সম্মানিত পরিবারের উচ্ছেদের প্রয়োজন পরলো কেন। জবাবে রাজবাড়ীর এইএন সুলতান আলী রেলওয়ে সদর দপ্তর থেকে আসা একটি পরিপত্র জেলা প্রশাসকের দেখান। সে সময় এক যোগে ওই পরিপত্রের প্রতিবাদ করেন, রাজবাড়ী পৌর প্যানেল মেয়র মোঃ আক্তার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের নেতা আব্দুস সাত্তার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ নিজাম মন্টু। তারা শহীদ খুশি’র শাহাদত বরণের নির্মম ইতিহাস স্বরন করিয়ে বলেন, এটা রাজবাড়ী বাসীর একটি স্পর্সকাতর জায়গা। এখানে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে অবশ্যই বুঝে শুনে তা করতে হবে।
রাজবাড়ী এক আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশেষ কোন মহলের সুবিধা দিতে এ ধরনের বিতর্কিত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এ সময় অন্যায় কাজ বন্ধ করে রাজবাড়ী রেলওয়ের হারানো ঐতিয্য ফিরিয়ে আনতে মনোযোগি হতে হবে। তা না হলে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুক্ষিন হতে হবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা পাকশী বরাবর (০৫-০০-৮২০০-০২৪-৩১-০০৩-১৪-৬২৮ নং স্বারকে) একটি চিঠি প্রেরন করা হয়েছে। যে চিঠিতে রাজবাড়ীর জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের দাবি ও প্রত্যাশার কথা বিবেচনা করে প্রতিকি মুল্যে এই সম্মানিত পরিবারের নামে ওই কোয়ার্টারটি বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

(Visited 142 times, 1 visits today)