“পায়ে হেঁটে রাজবাড়ী আসলো ওরা ৫ জন”

নিজস্ব প্রতিবেদক :

U80ed-1

“দেশের গরিব ও অসহায় মানুষগুলো সুশিক্ষায় বেড়ে উঠুক এবং দেশের সর্বত্র শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে পড়ুক।” এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বের হয়েছেন দেশ ভ্রমণে। ইতোমধ্যেই তিনটি জেলা পার করে তারা গত বুধবার রাতে এসে পৌছান রাজবাড়ীতে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে তারা আসেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তারা নেমে পরে প্রচারনায়। জেলা শহরের আদালত চত্বর, পান্না চত্বর এবং রাজবাড়ী বাজার এলাকায় তারা চালান প্রচারনা।
তাঁরা প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সমাজবিজ্ঞান, ইংরেজি, ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্টেই পড়াশোনা করেন। দেশ ও দেশের মানুষকে জানার ব্যাপক আগ্রহ তাঁদের। তাঁরা চান দেশের গরিব ও অসহায় মানুষগুলো সুশিক্ষায় বেড়ে উঠুক। দেশের সর্বত্র শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে পড়ুক। এ জন্যই তাঁরা বের হয়েছেন। হেঁটে দেশটা ভ্রমণ করবেন। কিন্তু যানবাহনে নয়, তাঁরা পাঁচজন হেঁটেই ঘুরবেন। বলছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম উদ্দিন, শরীফ মাহমুদ, রাসেল আহমেদ, মাসুদ রানা ও রাজীব ঢালীর কথা।
তাঁরা শান্তি ও শিক্ষার বার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই ভ্রমণে বের হয়েছেন। ১২ দিন আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করেছেন মেধাবী এই পাঁচ শিক্ষার্থী। টানা দেড় মাস হেঁটে দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরবেন তাঁরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী, নাটোর, বড়াইগ্রাম, ঈশ্বরদী, পাবনা হয়ে গত বুধবার রাতে রাজবাড়ীতে পৌঁছেছেন।
দলনেতা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইসলাম উদ্দিন জানান, পাবনা থেকে রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং সবশেষে কক্সবাজার পর্যন্ত পদযাত্রা করবেন। পদযাত্রার উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে ইসলাম বলেন, ‘সবার জন্য শিক্ষা ও শান্তি।’
দলের অন্য সদস্য ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি চলছে। ছুটির সঙ্গে যোগ করে সবাই নিজ নিজ বিভাগ থেকে অতিরিক্ত কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে পদযাত্রায় বের হয়েছেন।
ম্যানেজমেন্টের শরীফ মাহমুদ জানালেন, নতুন কোনো শহরে বা লোকালয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে অভিজ্ঞতার বিনিময় করেন। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর ব্যাপারে উৎসাহ জোগান। সব জায়গায় তাঁরা মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন। হাঁটতে হাঁটতে তাঁদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অ্যাকাউন্টিং বিভাগের রাজীব ঢালী বলেন, দীর্ঘ পথচলায় মাঝেমধ্যে শারীরিক সমস্যা ছাড়া আর কোনো সমস্যা হয়নি। এর আগে গত বছর তাঁরা দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত হেঁটেছেন। এবার পশ্চিম থেকে পুবে যাওয়ার পালা। সবকিছু ঠিক থাকলে বিজয়ের মাসে তাঁরা শান্তি ও শিক্ষার এই মহৎ পদযাত্রা শেষ করতে পারবেন বলেও জানান।

(Visited 49 times, 1 visits today)