পাম চাষীদের মধ্যে হতাশা

সোহেল রানা :

60led-1

পাম চাষ ব্যাপক জনপ্রিয় ও ফলন ভালো হলেও সম্ভাবনাময় পাম চাষীদের মধ্যে এখন হতাশা বিরাজ করছে। উৎপাদন আশানুরুপ হলেও পাম তেল ভাঙ্গানো মেশিন না থাকার কারনে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা এখন চাষীদের মাঝে। যদিও পাম চাষীদের জন্য কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা কোন আশার বানি শোনাতে পারেনি। তারা বলেছেন, পান চাষ উদ্বুদ্ধ করণ ও সম্প্রসারণের কাজের সাথে এখনো কৃষি বিভাগ যুক্ত হয়নি।
জানাগেছে, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খোর্দ্দমেগচামী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা খায়রুল বাশার খানের দুই ভাতিজা জীবন ও জিবিকার তাগিদে পাড়ি জমায় সুদুর মালয়েশিয়া। সেখানে পাম বাগানে কাজ করে দীর্ঘদিন। সেখানে বসেই অনুপ্রেরনা ও সাহস যুগিয়েছে তার চাচাকে। চাচা উপজেলা আনছার ভিডিপি কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাশার খান এলাকায় সর্বপ্রথম ২০১১ সাল থেকে পাম চাষ শুরু করেন। সাথে সাথী ফসল হিসাবে বড় আমের চাষ করেন। সেখান থেকেও প্রতিবছর আয় হচ্ছে ৫-৭ লক্ষ টাকা। তার পথ অনুসরন করে অনেকেই আম চাষের দিকে ঝুকেছেন। এখন তারাও পাম চাষ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাশার খান জানান, নিজের আট একর জমিতে মল্লিকা, আ¤্রপালি, লেংরা, হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পৌনে ৪শত আমের গাছ রোপন করা হয়। তা থেকে প্রতিবছর ৫-৭ লক্ষ টাকা আয় হয়। ভাতিজাদের অনুপ্রেরনায় ২০১১ সালে প্রথম পর্যায়ে যশোহর থেকে ২ শত পামের চারা এনে রোপন করি। এখন আম বাগানের মধ্যে দিয়ে পামের চারা রয়েছে সহ¯্রাধিক। ২শতাধিক গাছে ফল ধরেছে। বর্তমানে তার কাছে ৮ থেকে ১০ মন ফল মজুদ রয়েছে।
তিনি আরো জানান, পামের গাছে প্রতিবছর ২/৩ বার ফল কাটা যায়। একটি গাছ লাগালে ৪০ বছর পর্যন্ত টানা ফল পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকার কারনে প্রতিটি গাছ থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মূল্যের ১শত কেজির বেশি পরিমান ফল পাওয়া যায়। তবে রাজবাড়ীতে পাম তেল ভাঙ্গানোর কোন মেশিন না থাকায় তারা বিপাকে পরেছেন। কুমিল্লা ও মেহেরপুর পাম তেল ভাঙ্গানো মেশিন থাকলেও দুরত্ব বেশি হওয়ায় পাম ফল নিয়ে তারা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। যে কারণে তার বাড়ীর অদূরের থাকা মধুখালীর গাজনার এক কৃষক তুলে ফেলেছেন শতাধিক পাম গাছ। তার বাগান দেখে অনেকেই পাম চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে করে এলাকাকে পাম পল্লী গড়ে তোলার স্বপ্ন পুরন হবে, অন্যদিকে এলাকার বেকার সমস্যার সমাধান হবে। তবে পাম ভাঙ্গানো মেশিন নিকটবর্তী এলাকায় গড়ে না উঠায় অনেকেই এখন পাম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। তিনি আরো জানান, একটি মেশিন স্থাপন করতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাগে। সরকারী সহযোগিতা পেলে ওই মেশিন বালিয়াকান্দিতে স্থাপন করা সম্ভব।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিবাস দেব নাথ জানান, পাম চাষ নিয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করেন না। ফলে পাম চাষ উদ্ভুদ্ধ করা এবং তা সম্প্রসারন কাজে তারা অংশ নিচ্ছে না। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে জেলায় পাম চাষের বিস্তার হওয়ায় এ জেলায় মেশিন স্থাপন করা সম্ভব হলে চাষীরা লাভবান হতো বলেও তিনি মনে করেন।

(Visited 50 times, 1 visits today)