গোয়ালন্দের কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত

শামীম শেখ :

SS850294

বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে কৃষকেরা শীতকালীন সবজী চাষে ব্যস্ত সময় পার করচ্ছেন। অনুকুল আবহাওয়া থাকার পাশাপাশি বীজ, সার ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবার বাম্পার ফলন আশা করছেন তারা।
আগের বছর কয়েক দফা ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন এখানকার কৃষকেরা। তবে স্থানীয় কৃষি অফিসের লোকবলের সংকটে কৃষকেরা সময়মত প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ তেমন কোন সেবা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর গোয়ালন্দে ৪শ হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন এবং ১৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, লাল শাক, মুলাসহ অন্যান্য সবজি রয়েছে। এছাড়া এখনো আবাদ অব্যহত আছে। আবাদ করা জমিতে কৃষকেরা এখন নিড়ানো, কোপানো, সেচ প্রদান, সার ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার কৃষক সিদ্দিকুর রহমান, আবুল হোসেন বিশ্বাসসহ অনেকেই জানান, এবছর আবহাওয়া ভালো থাকা এবং বীজ, সার ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। আগের বছর আবাদের পর কয়েক দফা ভারী বর্ষণে ফসলের ক্ষেত সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে পূনরায় আবাদ করায় দ্বিগুন খরচ হয় তাদের। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছিল। তারা আরো জানান, বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলেও সময়মত কাউকে পাওয়া যায় না। ফলে বিভিন্ন ওষুধ, ভিটামিন ও কীটনাশক সরবরাহকারী কোম্পানীর প্রতিনিধিদের পরামর্শ গ্রহন করতে তারা বাধ্য হন। এতে করে তারা অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারিত হন। সেই সাথে ফসলেরও ক্ষতি হয়।
গোয়ালন্দ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মন্ডল বলেন, প্রায় ১ বছর ধরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিক্ষা ছুটিতে আছেন। এছাড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র ৮ জন। নতুন করে আরো ৫টি পদ সৃষ্টি হয়েছে। এ পদে কর্মকর্তারা যোগদিলে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আরো ভালোভাবে সেবা দিতে পারবো। এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত সার, ভালো বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ থাকায় শীতকালীন সবজিসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন কাঙ্খিত পরিমান হবে বলে আশা করা যায়।

(Visited 17 times, 1 visits today)